৭ উইকেটের জয়ে এশিয়া কাপ শুরু বাংলাদেশের

সংক্ষিপ্ত স্কোর: বাংলাদেশ ১৭.৪ ওভারে ১৪৪/৩, লক্ষ্য ১৪৪ (হৃদয় ৩৫*, জাকের ০*; পারভেজ ১৯, তানজিদ ১৪, লিটন ৫৯)

ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী। 

হংকং ২০ ওভারে ১৪৩/৭ (এহসান ২*, চাল্লু ৪*; আংশুমান ৪, বাবর ১৪, মুর্তাজা ২৮, নিজাকাত ৪২, কিঞ্চিৎ ০, আইজাজ ৫) 

আবু ধাবিতে দারুণ জয়ে এশিয়া কাপ অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে হংকংকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে ১৪ বল হাতে রেখে। 

১৪৪ রানের লক্ষ্যে পাওয়ার প্লেতে দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশ তার পর লিটন-হৃদয়ের ৯৫ রানের জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছেছে। যদিও তাদের ওপর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপ তৈরি করতে পেরেছিল হংকং। একটা সময় পর্যন্ত লিটন-হৃদয়কে সংগ্রাম করতে হচ্ছিল। তার পর চড়াও হতে থাকেন লিটন দাস। অধিনায়ক লিটন জয়ের কাছে থাকা অবস্থায় বিদায় নেন ৫৯ রানে। তার আগে উইকেটকিপার ব্যাটার ৩৩ বলে ১৫তম ফিফটির দেখা পেয়েছেন। তার ৩৯ বল স্থায়ী ইনিংসটিতে ছিল ৬টি চার ও ১টি ছয়ের মার। ধীর স্থির খেলা হৃদয় ৩৬ বলে অপরাজিত থাকেন ৩৫ রানে। তার ইনিংসটি মোটেও টি-টোয়েন্টি সুলভ ছিল না। তাতে ছিল একটি চারের মার।

বল হাতে হংকংয়ের হয়ে আলো ছড়ান আতিক ইকবাল। ১৪ রানে ২ উইকেট নেন তিনি। একটি নিয়েছেন আইয়ুশ শুক্লা। 

পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ফিরলেন তানজিদ

ওপেনার পারভেজ হোসেনের বিদায়ের পর বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি আরেক ওপেনার তানজিদ হাসানের ইনিংসও। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আতিক ইকবালের ঘূর্ণিতে ১৪ রানে ফিরেছেন তিনি। তার ১৮ বলের ধীর গতির ইনিংসে ছিল ১টি চার।

পাওয়ার প্লের মধ্যেই দুই উইকেট হারানো বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৫১ রান।  

পারভেজের বিদায়ে ভাঙলো শুরুর জুটি

পারভেজ হোসেনের আগ্রাসী ব্যাটিয়ে দারুণ শুরু পায় বাংলাদেশ। নিজের প্রথম ১৩ বলেই দুটি চারের সঙ্গে একটি ছক্কা মারেন তিনি। কিন্তু তৃতীয় ওভারের শেষ বলে শুক্লার বলে ১৯ রানে কাটা পড়েছেন ইমন। তাতে ২৪ রানে প্রথম উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। পারভেজের ১৪ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ১টি ছয়।   

বাংলাদেশকে ১৪৪ রানের লক্ষ্য দিয়েছে হংকং

প্রথম ম্যাচে বাজে ব্যাটিং প্রদর্শনী করলেও এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে খারাপ করেনি হংকং। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেটে করেছে ১৪৩ রান। যার পেছনে অবদান জিশান আলী (৩০), বাবর হায়াত (১৪), নিজাকাত খান (৪২) ও ইয়াসিম মুর্তজার (২৮)। শেষ দিকে নিজাকাত খানের দায়িত্বশীল ব্যাটিং ও ইয়াসিম মুর্তজার হালকা ক্যামিও ইনিংস দ্রুত রান তুলতে সহায়তা করেছে। চতুর্থ উইকেটে এই জুটিতেই যোগ হয় সর্বোচ্চ ৪৬ রান। তাতে ১০ ওভারে ২ উইকেটে ৬৪ রান করা হংকং শেষ দশ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ৭৯ রান। 

বাংলাদেশের হয়ে ২১ রানে এক মেডেনে দুটি উইকেট নেন তানজিম হাসান। ৩১ রানে দুটি নেন রিশাদ হোসেনও। তাসকিন আহমেদও ৩৮ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন দুটি। 

শেষ ওভারে তাসকিনের আঘাত

শেষ দিকে রান বাড়িয়ে নেওয়ার দিকে মনোযোগ ছিল হংকংয়ের। সেই তাড়ায় ৪ বলে ৩ উইকেট হারায় তারা। ১৯তম ওভারে রিশাদের জোড়া আঘাতের পর শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদ তুলে নেন নিজের দ্বিতীয় উইকেট। আইজাজ খানকে ক্যাচ আউট করালে ১৩৭ রানে সপ্তম উইকেট হারায় হংকং। 

এক ওভারে রিশাদের জোড়া শিকার

শেষ দিকে এসে রান বাড়িয়ে নেওয়ার কাজটা করছিলেন নিজাকাত খান। ১৮তম ওভারের শেষ বলে মারেন বাউন্ডারি। রিশাদের ১৯তম ওভারেও ছক্কা হাঁকান তিনি। শেষ পর্যন্ত রিশাদের ঘূর্ণিতেই ৪২ রানে কাটা পড়েন নিজাকাত। তার ৪০ বলের ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ১টি ছক্কা। পরের বলে নতুন ব্যাটার কিঞ্চিৎ শাহকেও লেগ বিফোরে বিদায় দেন তিনি। হংকং ব্যাটার রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি।  

রান আউটে পড়লো হংকয়ের চতুর্থ উইকেট

চতুর্থ উইকেটেও ভালো জুটি গড়েছিল হংকং। নিজাকাত খান ও ইয়াসিম মুর্তাজা মিলে যোগ করেন ৪৬ রান। দুজনে মিলে রানের চাকা সচল রাখাতেই স্কোর ১৫ ওভারে একশ ছাড়ায়। তবে ১৭.১ ওভারে রান আউটে কাটা পড়েন অধিনায়ক ইয়াসিম। তার ১৯ বলে ২৮ রানের ইনিংসে ছিল দুটি চার ও দুটি ছয়।   

এবার উইকেট পেলেন মোস্তাফিজ

৩০ রানে দ্বিতীয় উইকেট পতনের পর তৃতীয় উইকেটে জুটি গড়ে খেলছিলেন নিজাকাত খান ও জিশান আলী। যার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন জিশান। ১১.৩ ওভারে জিশানকে বিদায় দিয়ে ৪১ রানের সেই জুটি ভেঙেছেন মোস্তাফিজুর রহমান। জিশান ৩৪ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় করেছেন ৩০ রান।    

পাওয়ার প্লেতে হংকয়ের ৩৪ 

পাওয়ার প্লের মধ্যেই দুই উইকেট হারিয়ে ফেলে হংকং। চাহিদা মতো অবশ্য রান তুলতে পারেনি তারা। ৬ ওভারে তারা তুলতে পেরেছে ৩৪ রান। ষষ্ঠ ওভারে মোস্তাফিজও রান দিয়েছেন মাত্র ৩।   

তানজিম হাসান। বাবরকে বিদায় দিয়েছেন তানজিম

দ্বিতীয় ওভারে প্রথম উইকেট পতনের পর পাওয়ার প্লেতে রানের চাকা সচল রাখার চেষ্টা করছিলেন বাবর হায়াত। হাত খোলার চেষ্টা করছিলেন তিনি। পঞ্চম ওভারে এসে বাবরকে বোল্ড করেছেন তানজিম হাসান সাকিব। তাতে ১২ বলে ১৪ রানে কাটা পড়েন বাবর। তার ইনিংসে ছিল ১টি ছক্কা। আউট হওয়ার আগের বলটি ছক্কা মেরেছিলেন হংকং ব্যাটার। পরের বলেও এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে পরাস্ত হন তিনি। 

এসেই তাসকিনের আঘাত

প্রথম ওভারে মেহেদী হাসানের বলে বিদায় নিতে পারতেন ওপেনার জিশান আলী। এলবিডাব্লিউয়ের আবেদন হলেও আম্পায়ার তাতে সাড়া দেননি। পরে বাংলাদেশ রিভিউ নিলে দেখা যায় আম্পায়ার্স কলে বেঁচেছেন তিনি। পরের ওভারে তাসকিন আহমেদ অবশ্য এসেই ফিরিয়েছেন ওপেনার আংশুমার রাথকে। তাসকিনের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে আংশুমান বিদায় নেন ৪ রানে। । 

টসের মুহূর্তের ছবি।এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিং নিয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের এশিয়া কাপ মিশন শুরু হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। শুরুর ম্যাচেই লিটন দাসদের প্রতিপক্ষ হংকং। আবু ধাবিতে টস জিতে শুরুতে ফিল্ডিং নিয়েছেন লিটন দাস। 

টসের পর বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেছেন, যেহেতু প্রথম ম্যাচ তাই প্রথমে বল করে কন্ডিশন সম্পর্কে ধারণা নিতে চান। বিপরীতে শুরুতে ব্যাট করতেই চেয়েছে হংকং। 

হংকংয়ের সঙ্গে অবশ্য এর আগে তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে টাইগারদের। ২০১৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চট্টগ্রামে স্বাগতিক বাংলাদেশকে দুই উইকেটে হারানোর সুখস্মৃতি নিয়ে আজ মাঠে নামবে তারা।বিপরীতে বাংলাদেশ এশিয়া কাপে এসেছে টানা তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে। 

একাদশে কারা

তিন ফ্রন্টলাইন পেসার নিয়েই একাদশ সাজিয়েছে বাংলাদেশ। মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে রয়েছেন তাসকিন আহমেদ ও তানজিম হাসান। হংকং আফগানিস্তানের কাছে প্রথম ম্যাচে হারলেও অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই মাঠে নেমেছে।  

বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান, পারভেজ হোসেন, লিটন দাস (অধিনায়ক ও উইকেটরক্ষক), তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন, জাকের আলী, মেহেদী হাসান, তানজিম হাসান, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।

হংকং একাদশ: জিশান আলী (উইকেটরক্ষক), আংশুমান রাথ, বাবর হায়াত, নিজাকাত খান, ক্যালহান চাল্লু, কিঞ্চিৎ শাহ, ইয়াসিম মুর্তাজা (অধিনায়ক), আইজাজ খান, আয়ুশ শুক্লা, আতিক ইকবাল ও এহসান খান।