রানার ইনজুরিতে হতাশ সাকিব, ‘অস্ট্রেলিয়ানরাও তার বিপক্ষে খেলতে চেয়েছিল’

অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটারের গতির ঝড় তোলার অপেক্ষায় ছিলেন নাহিদ রানা। শুধু বাংলাদেশই নয়, তাকে মোকাবিলার জন্য মুখিয়ে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররাও। কিন্তু ইনজুরিতে সেই স্বপ্ন ভেস্তে গেছে। আর তাই তরুণ এই পেসারের অনুপস্থিতিকে বড় ক্ষতি বলে মনে করছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

গ্রেড-২ সাইড স্ট্রেইন ইনজুরির কারণে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন ২২ বছর বয়সী এই নাহিদ। ফলে অস্ট্রেলিয়ার দ্রুত ও বাউন্সি উইকেটে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ হারিয়েছেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম রেভস্পোর্টজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকিব এ বিষয়ে বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, অস্ট্রেলিয়ানরাও নিজেদের কন্ডিশনে রানার বিপক্ষে খেলতে মুখিয়ে ছিল। এটা এমন একটা চ্যালেঞ্জ ছিল, যা তারা সানন্দেই গ্রহণ করতো। তাই তার না থাকাটা বিশাল ক্ষতি।’

বাংলাদেশের পেস বোলিং বিভাগের সাম্প্রতিক উন্নতিরও প্রশংসা করেন সাকিব। তার মতে, এটি দেশের ক্রিকেটের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক দিক, ‘আমাদের পেস বোলিং বিভাগ এখন খুব ভালো করছে, যা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য দারুণ একটি লক্ষণ। তবে এর মানে এই নয় যে, অন্য বিভাগে পিছিয়ে থাকার সুযোগ আছে। ব্যাটিং ও স্পিন বোলিংও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পেসাররা ভালো করছে, এটা দারুণ। কিন্তু ব্যাটার ও স্পিনাররাও যদি নিজেদের আরও উন্নত করতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ অনেক শক্তিশালী দলে পরিণত হবে।’

বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে পূর্ণশক্তির দল ঘোষণা করায় অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তে অবাক হননি সাকিব। তার মতে, শীর্ষ টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলো এই সংস্করণকে সবসময়ই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। সাকিব বলেছেন, ‘অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলো টেস্ট ক্রিকেটকে খুব গুরুত্ব দেয়। প্রতিপক্ষ বা ভেন্যু যাই হোক, তারা সবসময় সেরা দলই নামানোর চেষ্টা করে। তাই অস্ট্রেলিয়ার পূর্ণশক্তির দল ঘোষণা আমাকে অবাক করেনি।’

তিনি আরও বলেন, বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপও অস্ট্রেলিয়ার এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ, ‘আমার মনে হয়, এই সিরিজটি যেহেতু বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ, তাই তারা কোনো মূল্যবান পয়েন্ট হারাতে চায় না। তাছাড়া তাদের খেলোয়াড়রা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পেয়েছে। তাই অনায়াসেই তারা নিজেদের সেরা একাদশ মাঠে নামাতে পারবে।’