রোমে এয়ারক্রাফটে ৮ ঘণ্টা আটকে থাকার বর্ণনায় যা বললেন সাবেক ক্রিকেটার হালিম শাহ

সাবেক ক্রিকেটার সৈয়দ হালিম শাহ ও তার ছেলে জাতীয় দলের ফুটবলার সৈয়দ কাজেম শাহসহ পুরো পরিবার কানাডা থেকে ঢাকায় আসছিলেন। ভাগ্য খারাপ হলে যা হয়! বিমানের টরেন্টো-রোম-ঢাকা ৩০৬ ফ্লাইটটি হঠাৎ জটিলতায় পরায় বিপত্তি দেখা দেয়। রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। শুধু তাই নয়, সেই এয়ারক্রাফটের ভেতরে প্রায় আট ঘণ্টা কাটাতে হয়েছে সবাইকে।

জরুরি অবতরণের পর সেটিকে গ্রাউন্ডেড ঘোষণা করা হলে আড়াইশ’র বেশি যাত্রীর সঙ্গে বিড়ম্বনায় পড়েন কাজেমের পরিবারও। এ নিয়ে রোম থেকে সৈয়দ হালিম শাহ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ফ্লাইটটি রোমে অবতরণের পর দীর্ঘ সময় যাত্রীদের উড়োজাহাজের ভেতরেই অপেক্ষা করতে হয়। প্রায় আট ঘণ্টা। একটা পর্যায়ে গরমও অনুভূত হয়েছে।  রোমে তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি। বিমানের গেটও খোলা রাখতে হয়েছে। এসি অল্প কাজ করেছে। অনেকটাই দুর্বিষহ সময় কাটাতে হয়েছে। এক পর্যায়ে কেউ কিছু ঠিকমতো জানাতে পারছিল না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত কী হতে পারে। সাধারণত এমন কিছু হলে ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে জানানোর কথা।’

এরপর তার কথা, ‘সিদ্ধান্ত হওয়ার পর আমাদের কানাডার নাগরিকত্ব থাকায় রোমের হোটেলে উঠতে পেরেছি। যাদের নেই তারা এয়ারপোর্টেই আছে বলে শুনেছি। তবে পরবর্তী ফ্লাইট কখন এখনও আমরা বিমান বাংলাদেশ থেকে জানতে পারিনি। এ নিয়ে টেনশনে আছি।’

এদিকে ১৪ আগস্ট কাজেমের বিয়ে। ঢাকায় সেই অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে চিন্তায় আছেন বাবা হালিম শাহ। কখন দেশে ফিরবেন।

এর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স শুক্রবার রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, টরন্টো-রোম-ঢাকা রুটে বিজি-৩০৬ ফ্লাইট পরিচালনার সময় রোমের ফিউমিচিনো বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটিতে অনাকাঙ্ক্ষিত কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও ত্রুটি নিরসনের কাজ চলছে। ত্রুটি সম্পূর্ণভাবে নিরসন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষা শেষে ফ্লাইটটি রোম থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে।

বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিজি-৩০৬ ফ্লাইটে ব্যবহৃত উড়োজাহাজটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার। কারিগরি ত্রুটি সারাতে বাংলাদেশ থেকে প্রকৌশলীদের একটি দলকে রোমে নেওয়া হচ্ছে।

আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য হোটেলে আবাসন, খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে বিমান।