অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে সমতায় ফেরা কিংবা হোয়াইটওয়াশ করে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। ডারউইনে প্রথম টেস্ট জয়ের স্মৃতি পেছনে ফেলে ম্যাকাইয়ের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ এরিনায় সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে অজি পেস আক্রমণের মুখে তাসের ঘরের মতো ধসে পড়েছে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ২৩ রানের মধ্যেই ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন টপ ও মিডল অর্ডারের শীর্ষ ৬ ব্যাটসম্যান।
শনিবার সকালে টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক প্যাট কামিন্স। বল হাতে নিয়ে প্রথম ওভার থেকেই অগ্নিঝরা স্পেল শুরু করেন বাঁহাতি ফাস্ট বোলার মিচেল স্টার্ক।
ইনিংসে নিজের করা প্রথম ৫ ওভারের আগুনে স্পেলে এককভাবে বাংলাদেশের ৫টি উইকেটই উপড়ে ফেলেছেন স্টার্ক।
ইনিংসের প্রথম বলেই আউটসুইঙ্গারে সাদমান ইসলামকে (০) গালিতে ক্যামেরন গ্রিনের ক্যাচ বানান স্টার্ক।
এরপর ৩য় ওভারের ১ম বলে অফ-স্টাম্পের বাইরের অফ-ড্রাইভ খেলতে গিয়ে থার্ড স্লিপে বো ওয়েবস্টারের হাতে ধরা পড়েন তানজিদ হাসান তামিম (০)। ঠিক পরের বলেই ভেতরে ঢোকা চমৎকার ইনসুইঙ্গারে এলবিডব্লিউ হয়ে খাতা না খুলেই ফেরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত (০)।
উইকেটে একমাত্র আশা হয়ে থাকা মমিনুল হকও (৯) ৫ম ওভারের পঞ্চম বলে অফ-স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে ভুল শট খেলে গালিতে গ্রিনের নিচু ক্যাচে পরিণত হন।
ইনিংসের ৭ম ওভারের চতুর্থ বলে দুর্দান্ত এক ইনসুইঙ্গারে প্যাডলগ হয়ে রিভিউ হারিয়ে এলবিডব্লিউ হন লিটন দাসও (০)। এর মাধ্যমে পাঁচ উইকেট (ফাইফার) নেওয়ার মাইলফলক স্পর্শ করেন স্টার্ক।
বাংলাদেশের টপ ও মিডল অর্ডারের প্রথম ছয় ব্যাটারের মধ্যে চারজনই রানের খাতা খুলতে পারেননি।
পাঁচ উইকেট হারানোর পর কিছুটা দেখেশুনে খেলার চেষ্টা করছিলেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। তবে ১৬তম ওভারে অজি অধিনায়ক প্যাট কামিন্স আক্রমণে এসেই ব্রেক-থ্রু এনে দেন। কামিন্সের অফ-স্টাম্পে পিচ করে ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে অহেতুক শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হয়ে যান মুশফিকুর রহিম (৪২ বলে ৫)।
প্রতিবেদনটি লেখার সময় প্রথম ইনিংসে ১৬.৩ ওভার শেষে ৬ উইকেটে ২৩ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। অলআউটের চরম লজ্জা এড়াতে ক্রিজে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মেহেদী হাসান মিরাজ (২৭ বলে ৫*) এবং নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে আসা নাইটওয়াচম্যান হাসান মাহমুদ (৩ বলে ২*)। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে মিচেল স্টার্ক ৫টি এবং প্যাট কামিন্স ১টি উইকেট শিকার করেছেন।