৬৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ, তবু ম্যাচ বাঁচিয়ে রাখলেন শরিফুল

ম্যাকাইয়ে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে যেন ক্রিকেট নয়, রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। এক দিনে পতন হয়েছে ১৮ উইকেটের। যা দুই দলের ব্যাটিং ধসের চিত্র ফুটিয়ে তুলছে। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ৬৪ রানে অলআউট হলেও বল হাতে পরে ত্রাতা হয়ে উঠেন পেসার শরিফুল ইসলাম। ব্যাট হাতে ১১ নম্বরে নেমে দলের সর্বোচ্চ রান করার পর বল হাতে একাই অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার থেকে লোয়ার অর্ডার পর্যন্ত ছয় শিকার করেছেন! তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিন শেষেও বাংলাদেশ পুরোপুরি ম্যাচের বাইরে ছিটকে যায়নি।

এদিন মাত্র ২২৯ রানে পড়েছে ১৮ উইকেট। শরিফুল ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ৬ উইকেট নিয়েছেন। এর আগে মিচেল স্টার্কের বিধ্বংসী বোলিংয়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। এটি টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। স্টার্ক একাই মাত্র ১২ রান খরচ করে ৬ উইকেট নিয়েছেন। বাংলাদেশের হয়ে ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল ইসলাম। তাইজুল ইসলাম করেন ১১। অথচ ৩৯ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে পঞ্চাশের আগেই অলআউটের শঙ্কায় পড়েছিল বাংলাদেশ! তাদের প্রতিরোধেই মূলত স্কোরবোর্ডে আরও রান জমা হয়েছে। শেষ উইকেটে তারা যোগ করেন ২৫ রান। 

এরপর বল হাতে বাংলাদেশের হয়ে প্রতিরোধ গড়েন শরিফুল। অস্ট্রেলিয়া ৫০ রান পার করার আগেই তিনি ট্রাভিস হেড (২২) এবং মার্নাস লাবুশেনকে মাত্র ৪ রানে ফিরিয়েছেন।

চা-বিরতির পর আবারও আঘাত হানেন শরিফুল। এবার তার শিকার স্টিভেন স্মিথ। কিছুক্ষণ ইনিংস মেরামত করে ৪২ রানে সাজঘরে ফেরেন অস্ট্রেলিয়ার তারকা ব্যাটার। এরপর এক দুর্দান্ত স্পেলে তিনি পরপর তুলে নেন বাউ ওয়েবস্টার, প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককে। তাতে ১৪৮ রানে পতন হয় অষ্টম উইকেটের। তার পর অবশ্য নবম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ১৬৫ রানে দিন শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। ৫১ রানে অপরাজিত থেকে প্রান্ত আগলে আছেন ক্যামেরন গ্রিন। ১০ রানে ব্যাট করছেন জশ হ্যাজলউড। দুজনে অবিচ্ছিন্ন ১৭ রানে। স্বাগতিকরা এগিয়ে আছে ১০১ রানে। 

শেষ পর্যন্ত ১১ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিং ফিগার গড়েন শরিফুল। অস্ট্রেলিয়ার পতন হওয়া আট উইকেটের ছয়টিই এসেছে তার হাত ধরে।

শরিফুলের এই পারফরম্যান্সে তৈরি হয়েছে আরও একটি অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান। তিনি টেস্ট ইতিহাসের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ১১ নম্বরে ব্যাট করে নিজের দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করার পর একই ইনিংসে প্রতিপক্ষের হয়ে সর্বোচ্চসংখ্যক উইকেট শিকারের কীর্তি গড়েছেন।

আরও বড় ব্যাপার, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ১৯৭৫ সালের পর কোনো টেস্টের প্রথম দিনে ১৮ উইকেট পড়ার ঘটনা মাত্র তৃতীয়বার। অর্থাৎ দিনটি কতটা অস্বাভাবিক ছিল, এই পরিসংখ্যানই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।