একদিকে মাঠের বাইরে একের পর এক মদ-সংক্রান্ত বিতর্ক, অন্যদিকে মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স। ইংল্যান্ডের টেস্ট ক্রিকেটে যেন দুই বিপরীত চিত্র পাশাপাশি চলছে। হেডিংলিতে পাকিস্তানকে ইনিংস ও ১০৩ রানে উড়িয়ে দেওয়ার পরও আলোচনার কেন্দ্রে ক্রিকেট নয়, আবারও খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরের আচরণ।
লর্ডসে বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য তাই শুধু পাকিস্তানকে হারানো নয়; বিতর্ক পেছনে ফেলে ক্রিকেটে মনোযোগ ফেরানো।
অন্যদিকে, হেডিংলিতে তিন দিনের মধ্যেই বিধ্বস্ত হওয়া পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য আরও পরিষ্কার। আত্মসম্মান ফিরিয়ে সিরিজে সমতা আনা।
হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছিলেন ওলি রবিনসন ও জশ টাং। দুজনেই আটটি করে উইকেট নিয়েছিলেন। পাকিস্তান দুই ইনিংসে অলআউট হয় মাত্র ১৭১ ও ১৩৫ রানে। ইংল্যান্ড নিজেদের প্রথম ইনিংসে তোলে ৪০৯ রান।
চার ইংলিশ ব্যাটার হাফসেঞ্চুরি করলেও কেউ সেঞ্চুরি করতে পারেননি। তারপরও পুরো ম্যাচে ছিল পেশাদারিত্ব। বেন স্টোকস ও ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সময়কার ‘বাজবল’ যুগের শেষদিকে দেখা যাওয়া অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কিংবা আত্মতুষ্টির বদলে এবার ইংল্যান্ডকে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত মনে হয়েছে।
কিন্তু সেই ইতিবাচক পারফরম্যান্সের আড়ালেই আবার সামনে এসেছে মাঠের বাইরের বিতর্ক। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের আগে ইংল্যান্ড অধিনায়ক জো রুটের সংবাদ সম্মেলনের বড় অংশজুড়ে ছিল পেসার ব্রাইডন কার্সের প্রসঙ্গ।
ডার্বির একটি নাইটক্লাবে শনিবারের ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কার্সকে হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশ নিয়ে যেতে দেখা যায়। এরপর তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তও চলছে।
কার্স অবশ্য হেডিংলিতে খেলেননি এবং চোট না হলে লর্ডসেও তার একাদশে থাকার সম্ভাবনা খুব বেশি ছিল না। তবে ঘটনাটি ইংল্যান্ডের জন্য নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে। তবে এটি বিচ্ছিন্ন কোনও ঘটনা নয়।
২০২৫-২৬ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরের দুঃসময় থেকেই ইংল্যান্ডের ক্রিকেটে মদ-সংক্রান্ত বিতর্ক বারবার ফিরে এসেছে। গত জুনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দ্বিতীয় টেস্ট থেকেও সাবেক অধিনায়ক বেন স্টোকস ও পেসার গাস অ্যাটকিনসনকে বাদ দেওয়া হয়েছিল লন্ডনের একটি বারের ঘটনার পর।
সেই ঘটনার আগে তারা দলের কারফিউ নীতিও ভেঙেছিলেন। পরে রুট সেই কারফিউ নীতি বাতিল করেছেন। এবার কার্সের ঘটনায় তাই বিরক্ত রুট। তিনি বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, আমি খুবই বিরক্ত। এটা শুধু বিচ্ছিন্ন একটি ঘটনা নয়। বিষয়টি হলো, আমরা মাঠের বাইরে বারবার একই ধরনের বোকামি করছি। আর সেটি মাঠে আমরা যা করছি, সেখান থেকে মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে।’
ইংল্যান্ড যখন মাঠের বাইরের বিতর্ক সামলাতে ব্যস্ত, পাকিস্তান তখন নিজেদের মাঠের পারফরম্যান্সই পাল্টাতে চাইছে। হেডিংলিতে পাকিস্তানের ব্যাটিং ছিল হতাশাজনক, পেস আক্রমণ ছিল অনেকটাই নিষ্প্রভ এবং ফিল্ডিংও ছিল বিব্রতকর। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে পিছিয়ে পড়া পাকিস্তানের সামনে এখন ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।
তবে লর্ডসে সেই চেষ্টায় বড় স্বস্তি হতে পারেন বাবর আজম। আঙুলের চোটের কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে পারেননি পাকিস্তানের এই তারকা ব্যাটার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে চোট পাওয়ার পর বেকেনহ্যামে প্রস্তুতি ম্যাচে হাতে আঘাত পেয়ে চোটটি আরও বাড়ে।
তবে মঙ্গলবার নেটে পুরো ব্যাটিং সেশন করেছেন বাবর। পেসার, স্পিনার ও থ্রোডাউনের বিপক্ষে ব্যাট করেছেন তিনি।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ড্র হওয়া দুই টেস্টের সিরিজে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন বাবর। করেছিলেন ১৯৩ রান।
ইংল্যান্ডের মাটিতেও তার রেকর্ড বেশ ভালো। ছয় ইনিংসে তিনটি হাফসেঞ্চুরিসহ তার ব্যাটিং গড় ৬৫.৭৫। বাবর ফিরলে চার নম্বরে জায়গা পেতে পারেন তিনি। সে ক্ষেত্রে আজান আওয়াইজ একাদশ থেকে বাদ পড়তে পারেন। শান মাসুদ অথবা আবদুল্লাহ শফিককে ওপেনিংয়ে ওপরে উঠিয়ে আনার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পাকিস্তান যে লর্ডসে জিততে পারে, তার প্রমাণ অবশ্য সাম্প্রতিক ইতিহাসেই আছে। মাত্র এক দশক আগে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা দলটি লর্ডসে নিজেদের শেষ দুটি টেস্টেই জয় পেয়েছে। ২০১৮ সালে ইংল্যান্ডকে ৯ উইকেটে হারানোর ম্যাচে বাবর করেছিলেন ৬৮ রান।
তবে এবার সেই স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে হলে পাকিস্তানকে হেডিংলিতে নিজেদের পারফরম্যান্সে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।