সময় বদলেছে, বদলেছে প্রজন্মও। কিন্তু ক্রিকেটে কিছু নাম যেন সময়ের সীমানা পেরিয়ে থেকে যায়। একসময় ভারতের ব্যাটিংয়ের দুই স্তম্ভ ছিলেন রাহুল দ্রাবিড় ও বীরেন্দর শেবাগ। ১৪ বছরেরও বেশি সময় পর আবারও ভারতীয় দলে দেখা যাবে ‘দ্রাবিড়-শেবাগ’ নামের জুটিকে।
ভারতীয় ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তির ছেলে আনভয় দ্রাবিড় ও আর্যবীর শেবাগ ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে জায়গা পেয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের জন্য ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে দুজনই আছেন। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের সিরিজ।
ভারতের জার্সিতে শেষবার একই একাদশে দ্রাবিড় ও শেবাগকে দেখা গিয়েছিল ২০১২ সালের জানুয়ারিতে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেড টেস্ট ছিল তাদের একসঙ্গে খেলা শেষ ম্যাচ। সেই ম্যাচের পর পেরিয়ে গেছে ১৪ বছরেরও বেশি সময়।
এবার অবশ্য সেই স্মৃতি ফিরবে নতুন রূপে। দ্রাবিড়ের ছেলে আনভয় খেলবেন উইকেটকিপার-ব্যাটার হিসেবে। আর শেবাগের ছেলে আর্যবীর লেগস্পিন অলরাউন্ডার হিসেবে দলে জায়গা পেয়েছেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি দীর্ঘ সংস্করণের ম্যাচের জন্য ঘোষিত দলে দুজনের কেউই নেই।
ভারতের জুনিয়র পুরুষ দলের নির্বাচক কমিটির মেয়াদও শিগগিরই শেষ হচ্ছে। তাদের ঘোষিত অস্ট্রেলিয়া সিরিজের দলে দ্রাবিড় ও শেবাগের ছেলেদের সুযোগ পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বজনপ্রীতির আলোচনা আরও জোরালো হতে পারে। তবে ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বাবা-ছেলের এই যোগসূত্র নিঃসন্দেহে বাড়তি আনন্দের।
আর্যবীর বর্তমানে ২০২৬ দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) ওয়েস্ট দিল্লি লায়ন্সের হয়ে খেলছেন। এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তবে ২০২৪ সালের কুচবিহার ট্রফিতে মেঘালয়ের বিপক্ষে ২৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে আলোচনায় এসেছিলেন শেবাগপুত্র।
অন্যদিকে দ্রাবিড়ের ছোট ছেলে আনভয়ও ইতোমধ্যে ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে দুটি ৫০ ওভারের ম্যাচে ১০১ রান করেছিলেন কর্ণাটকের ১৭ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার-ব্যাটার।
শ্রীলঙ্কা সফরে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে হেরে গেলেও লাল বলের সিরিজ জিতেছিল ১-০ ব্যবধানে। ওই সফরের দুটি যুব ওয়ানডেতে আনভয় করেছিলেন ১৪ ও ৮৭ রান।
এবার তাই নতুন এক অধ্যায়ের অপেক্ষা। একসময় ভারতের হয়ে একই ব্যাটিং লাইনআপে ঝড় তুলেছিলেন শেবাগ ও দ্রাবিড়। ১৪ বছর পর তাদের নাম আবারও ফিরছে ভারতীয় দলে।