ক্রিকেট পিচে ঘাস কতটা বদলে দেয় ম্যাচচিত্র?

টেস্ট ক্রিকেটে ম্যাচ শুরুর আগে ২২ গজের পিচ নিয়ে আলোচনা হয় বিস্তর। পিচ শক্ত না নরম, ব্যাটিংয়ের জন্য কতটা সহায়ক, স্পিনাররা সুবিধা পাবেন কিনা- এসব প্রশ্নের সঙ্গে প্রায় অবধারিতভাবেই আসে আরেকটি বিষয় পিচে ঘাস কতটা আছে?

শুনতে সাধারণ মনে হলেও পিচের ওপর থাকা এই ঘাসই ম্যাচের শুরুর দিকের চিত্র অনেকটা বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে পেসারদের জন্য ঘাস থাকা পিচ হয়ে উঠতে পারে বড় অস্ত্র।

টেস্ট ক্রিকেটে সাধারণত মাঠকর্মীরা পিচ তৈরির সময় পুরোপুরি ঘাসমুক্ত করে ফেলেন না। অল্প কিছু ঘাস রেখে দেওয়া হয়। কারণ নতুন পিচে থাকা ঘাস পেসারদের বল মুভ করাতে সাহায্য করে।

এর পেছনে রয়েছে ক্রিকেট বল ও ঘাসের মিথস্ক্রিয়া। লাল ক্রিকেট বলের মাঝ বরাবর একটি উঁচু সিম থাকে। বলটি যখন ঘাসের ওপর পড়ে, তখন সিমের কারণে সেটি সোজা পথে না গিয়ে পাশের দিকে সরে যেতে পারে। ব্যাটারের জন্য তখন বল সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে স্লিপে থাকা ফিল্ডাররাও চলে আসেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়।

অর্থাৎ, পিচে যত বেশি ঘাস থাকবে, নতুন বল তত বেশি নড়াচড়া করার সম্ভাবনা তৈরি হবে। শুধু তাই নয়, ঘাস সাধারণত বলের বাউন্স ও ক্যারি আরও ধারাবাহিক রাখতেও সহায়তা করে।

এই কারণেই টেস্টের প্রথম ঘণ্টাকে এত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়। বিশেষ করে যে দল আগে ব্যাট করে, তাদের ব্যাটারদের শুরুতেই পেসারদের সুইং ও সিম মুভমেন্ট সামলাতে হয়।

তবে ঘাস চিরকাল থাকে না। ম্যাচ যত এগোয়, পিচের চরিত্রও বদলাতে শুরু করে। ম্যাচের সময় খেলোয়াড়দের চলাচল, বলের আঘাত, আবহাওয়া এবং পিচে রোলার ব্যবহারের কারণে ধীরে ধীরে ঘাস মরে যায়। এরপর পিচের ওপরের অংশ ভাঙতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়ায় বাউন্সও ধীরে ধীরে অনিয়মিত হতে পারে। একই সঙ্গে বল পিচ থেকে ঘুরে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

ফলে একটি টেস্টের শুরুতে যেখানে পেসাররা সুবিধা পান, ম্যাচ যত গড়ায় সেখানে স্পিনারদের জন্য পরিস্থিতি আরও সহায়ক হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণেই পাঁচ দিনের টেস্টে একই পিচকে ম্যাচের শুরু ও শেষের দিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে দেখা যায়।

এছাড়া পিচ কত দ্রুত ভাঙবে, সেটির ওপর আবহাওয়ারও বড় প্রভাব রয়েছে। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশের প্রচণ্ড গরম এবং মাটির ভিন্ন ধরনের গঠন অনেক সময় পিচকে দ্রুত ভেঙে দেয়। ফলে সেসব জায়গায় টেস্টের মাঝামাঝি কিংবা শেষের দিকে স্পিনাররা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পেতে পারেন।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার মতো জায়গায় পিচের আচরণ আবার ভিন্ন। সেখানে ঘাস, মাটি, আবহাওয়া- সবকিছুর সমন্বয়েই তৈরি হয় পিচের নিজস্ব চরিত্র।