পাইবাসের চোখে আফগানিস্তানের দুই সমস্যা

ভারতের বিপক্ষে সিরিজ হারটা যেন আফগানিস্তানের পুরোনো ব্যাটিং দুর্বলতাকেই আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। টানা দুই ম্যাচে ১৬০ রানের নিচে আটকে গিয়ে ৭ উইকেটে হারের পর দলের প্রধান কোচ রিচার্ড পাইবাস সমস্যার মূল জায়গা খুঁজে পেয়েছেন। তার চোখে দুটি সমস্যা ধরা পড়েছে। একটি ডট বলের হার অনেক বেশি, দ্বিতীয়টি স্ট্রাইক রেট প্রত্যাশার তুলনায় কম!

মঙ্গলবার দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে দিল্লিতে ভারতকে ১৬০ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল আফগানিস্তান। তারা সংগ্রহ করেছিল ৮ উইকেটে ১৫৯। জবাবে ৩১ বল হাতে রেখেই সাত উইকেটের জয় তুলে নেয় ভারত। এর আগে প্রথম ম্যাচেও ১৫৬ রানে আটকে গিয়ে একই ব্যবধানে হেরেছিল আফগানরা। ফলে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে ভারত। 

ম্যাচ শেষে পাইবাস বলেন, ‘দেখুন, আমাদের আলোচনা হচ্ছে টি-টোয়েন্টি দল হিসেবে যদি আমরা উন্নতি করতে চাই, তাহলে স্ট্রাইক রেট বাড়াতেই হবে। আমাদের ডট বলের হার অনেক বেশি এবং স্ট্রাইক রেটও উন্নত করতে হবে।’

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের ডট বলের হার ছিল ৪১.৬ শতাংশ। তাদের রান রেট ছিল ৭.৮০। বিপরীতে ভারতের ডট বলের হার মাত্র ৩২.৯ শতাংশ এবং রান রেট ১১.৪৮। দুই দলের ব্যাটিংয়ের এই বিশাল পার্থক্যই ম্যাচের ফল গড়ে দিয়েছে।

যদিও সিরিজের আনুষ্ঠানিক আয়োজক আফগানিস্তান, দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামের কন্ডিশন ভারতের ক্রিকেটারদের কাছে অনেক বেশি পরিচিত। এই মাঠই আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের হোম ভেন্যু।

পাইবাসও সেটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘তারা পুরো আইপিএলজুড়েই এই উইকেটগুলোতে খেলে। তারা জানে কীভাবে এই উইকেটে খেলতে হয় এবং এই উইকেটেই তাদের খেলার ধরন তৈরি হয়েছে। আমাদের আফগানিস্তানে এ ধরনের মানসম্পন্ন উইকেট নেই।’

আফগানিস্তানের পাওয়ার হিটিংয়ের ঘাটতিকে শুধু কৌশলগত সমস্যা হিসেবে দেখছেন না পাইবাস। তার মতে, বিষয়টি দেশের প্রতিভার গভীরতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। চলতি বছরে আফগানিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা শাপাগিজা ক্রিকেট লিগে রান রেট ছিল ৮.৭৭। আর এবারের আইপিএলে রান রেট ছিল ৯.৩৯। অবশ্য আইপিএলে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার নিয়মের কারণে বাড়তি একজন ব্যাটার খেলানোর সুযোগ রয়েছে।

পাইবাস বলেন, ‘আবারও বলছি, ভারতের যে জিনিসটা আছে, সেটা হলো অবিশ্বাস্য গভীরতা এবং একাদশে জায়গা পাওয়ার জন্য দারুণ প্রতিযোগিতা। আফগানিস্তানেরও কিছু অসাধারণ প্রতিভা উঠে আসছে, কিন্তু ভারতের মতো এত গভীর প্রতিভার ভাণ্ডার আমাদের নেই। খেলোয়াড়দের নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।’

টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের পাওয়ারপ্লের গড় রান নিয়েও কাজ করার প্রয়োজন দেখছেন তিনি। পাইবাস বলেন, ‘আমি মনে করি, টি-টোয়েন্টিতে আফগানিস্তানের পাওয়ারপ্লেতে গড় পার স্কোর প্রায় ৪৫/১। আমাদের এমনভাবে খেলা তৈরি করতে হবে, যাতে পাওয়ারপ্লেতে স্ট্রাইকিং শক্তি ভারতের পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং সেটা ধরে রাখতে পারে। আগামী ১২ মাসে এসব বিষয় নিয়ে আমাদের গুরুত্বসহকারে কাজ করতে হবে।’