ফিক্সিংয়ের অভিযোগে বিপিএল সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি নিষিদ্ধ

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

অভিযুক্তদের একজন চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাবেক মালিক মো. আবদুল কাইয়ুম রাশেদ। অপরজন দুর্বার রাজশাহীর সাবেক টিম অফিশিয়াল মো. আমিন খান।

বিসিবির আনা অভিযোগগুলো মূলত ম্যাচ ফিক্সিং-সংক্রান্ত অনিয়মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোড অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফের দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম ও ম্যাচের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে।

বিসিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১১তম ও ১২তম আসরকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তের পর ওই দুইজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বিরোধী বিধিমালা ২০২৪-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

অভিযোগগুলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের (বিসিবিআইইউ) পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে আনা হয়েছে। এতে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা, দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশে ব্যর্থতা, দুর্নীতিবিরোধী তদন্তে সহযোগিতা না করা এবং তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে।

মো. আবদুল কাইয়ুম রাশেদ, যিনি বিপিএল-১২তম আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাবেক মালিক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের নিম্নোক্ত ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে-

ধারা ২.১.১: কোনো ম্যাচ বা ম্যাচগুলোর ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য কোনো দিককে অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা, ম্যাচ ফিক্সিং করা বা ফিক্সিংয়ের ষড়যন্ত্র করা, কিংবা এ ধরনের কোনো চুক্তি বা প্রচেষ্টার অংশ হওয়া।

ধারা ২.৪.৪: দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার জন্য কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণ পাওয়ার পর অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব না করে নির্ধারিত অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তাকে সেই প্রস্তাব বা আমন্ত্রণের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানাতে ব্যর্থ হওয়া।

ধারা ২.৪.৬: বিধিমালার আওতায় সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নির্ধারিত অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তার পরিচালিত তদন্তে যথাযথ কারণ ছাড়া সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়া বা অস্বীকৃতি জানানো। এর মধ্যে ধারা ৪.৩ অনুযায়ী জারি করা নির্দেশনা মেনে নিজের ব্যবহৃত প্রধান মোবাইল ফোন জমা না দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।

ধারা ২.৪.৭: ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য নিজের ব্যবহৃত প্রধান মোবাইল ফোন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব ঘটানো। এর ফলে তদন্তকারীরা ওই ডিভাইসে থাকা সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও অন্যান্য তথ্য পরীক্ষা করতে পারেননি।

দ্বিতীয় অভিযুক্ত ব্যক্তিটি হলেন মো. আমিন খান। তিনি বিপিএল ১১তম আসরে দুর্বার রাজশাহী এবং ১২তম আসরে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সাবেক অপারেশন ম্যানেজার ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোডের একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে:

ধারা ২.১.১: কোনো ম্যাচ বা ম্যাচগুলোর ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য কোনো দিককে অনৈতিকভাবে প্রভাবিত করা, ম্যাচ ফিক্সিং করা বা ফিক্সিংয়ের ষড়যন্ত্র করা, কিংবা এ ধরনের কোনো চুক্তি বা প্রচেষ্টার অংশ হওয়া।

ধারা ২.১.৪: কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে প্ররোচিত করা, উৎসাহিত করা, প্রস্তাব দেওয়া বা ইচ্ছাকৃতভাবে সহায়তা করা।

ধারা ২.৪.৬: বিধিমালার আওতায় সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নির্ধারিত অ্যান্টি-করাপশন কর্মকর্তার পরিচালিত তদন্তে যথাযথ কারণ ছাড়া সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়া বা অস্বীকৃতি জানানো। এর মধ্যে ধারা ৪.৩ অনুযায়ী জারি করা নির্দেশনা মেনে চলতে ব্যর্থ হওয়ার বিষয়টিও রয়েছে।

ধারা ২.৪.৭: তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এমন যোগাযোগ বা অন্যান্য তথ্য গোপন বা ধ্বংস করে সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে বাধা দেওয়া বা বিলম্ব ঘটানো।

অভিযুক্ত দুজনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইসিসির বিধিমালা অনুযায়ী চলমান শৃঙ্খলাজনিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নোটিশ পাওয়ার পর অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য তারা ১৪ দিন সময় পাবেন।

এ বিষয়ে এই পর্যায়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।