আট বছর পেরিয়ে গেছে। সময়ের স্রোতে বদলে গেছে অনেক কিছু। কিন্তু ২০১৮ সালের সেই কেপটাউন টেস্টের দুঃসহ স্মৃতি এখনও পুরোপুরি পিছু ছাড়েনি স্টিভেন স্মিথের। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ দেখলেই ফিরে আসে সেই কালো অধ্যায়, বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের হুড়োহুড়ি আর দেশে ফিরে অশ্রুসিক্ত সংবাদ সম্মেলনের স্মৃতি। দক্ষিণ আফ্রিকায় আবারও টেস্ট খেলতে যাওয়ার আগে সেই ‘স্যান্ডপেপারগেট’ এর ক্ষতই যেন নতুন করে উঁকি দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়কের মনে।
২০১৮ সালে কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তৃতীয় টেস্টে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিলেন স্মিথ। স্যান্ডপেপার ব্যবহার করে বলের আকৃতি পরিবর্তনে যুক্ত থাকার দায়ে তাকে ম্যাচ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়, এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় এবং অধিনায়কত্বও কেড়ে নেওয়া হয়।
ওই ঘটনায় কথিত মূল হোতা ডেভিড ওয়ার্নারও এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন এবং সব ধরনের নেতৃত্বের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। আর ক্যামেরন ব্যানক্রফটকে দেওয়া হয় ৯ মাসের নিষেধাজ্ঞা।
সেই ঘটনার পর সাদা বলের ক্রিকেট খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরলেও টেস্ট খেলতে আর দেশটিতে যাওয়া হয়নি স্মিথের। এবার ৮ বছর পর আবারও দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছেন তিনি। আগামী ৯ অক্টোবর ডারবানে শুরু হবে প্রথম টেস্ট। এরপর সিরিজ যাবে গকেবেরহা ও কেপটাউনে।
তবে মাঠে ফেরার আগে পুরোনো সেই দুঃস্বপ্নের কথা অকপটে বলেছেন ৩৭ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
নিউজ কর্পকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্মিথ বলেছেন, ‘ক্যামেরার ফ্ল্যাশ দেখলেই এখনও মাঝেমধ্যে সেই সময়ের কথা মনে পড়ে।’
ক্যামেরার সামনে স্বস্তি বোধ করেন না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ক্যামেরার খুব একটা ভক্ত নই। সত্যি বলতে, ক্যামেরার আশপাশে থাকলে আমার উদ্বেগ হয়।’
স্মিথের কাছে সেই সময়টা ছিল জীবনের অন্যতম কঠিন অধ্যায়,‘আমার জীবনের জন্য সেটি ছিল একটি বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ দেখলে কোনো না কোনোভাবে আবার সেই সময়টার মধ্যে ফিরে যাই।’
বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞার খবর পাওয়ার পরের ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা এবং জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরের অভিজ্ঞতা এখনও তার মনে গেঁথে আছে। তার ভাষায়,‘জেমস সাদারল্যান্ড (তৎকালীন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী) যখন বললেন, আমাকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। সেই ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা। এরপর জোহানেসবার্গ বিমানবন্দরে যেভাবে সবাই আমাকে ঘিরে ধরেছিল, তারপর দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলন করা, সবকিছুই খুব কঠিন ছিল।’
এরপরই স্মিথ স্বীকার করেন, সেই সময়ের কিছু দৃশ্য এখনও হঠাৎ হঠাৎ তার মনে ফিরে আসে,‘এখনও মাঝেমধ্যে ছোট ছোট ফ্ল্যাশব্যাক হয়।’
অস্ট্রেলীয় ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত সেই কেলেঙ্কারির সবচেয়ে বড় ধাক্কা সামলাতে হয়েছিল স্মিথকেই। তবে নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঠে ফিরে দুর্দান্তভাবেই ঘুরে দাঁড়ান তিনি।
ফেরার পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিলেন স্মিথ। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে নিজেকে আরও উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৯২০ টেস্ট রান করেছেন তিনি, ব্যাটিং গড় ৫৬।
তবে ২০১৮ সালের সেই সময়টাকে জীবনের এমন একটি অধ্যায় হিসেবে দেখেন, যেখানে আর ফিরে যেতে চান না,‘নিঃসন্দেহে সেটি কঠিন একটা সময় ছিল। বিশেষ করে প্রথম কয়েক দিন। তখন আমার মানসিক অবস্থাও ভালো ছিল না। আমি আর কখনও সেই জায়গায় যেতে চাই না। তবে ওই অভিজ্ঞতা থেকে শিখেছি এবং জীবনকে সামনে এগিয়ে নিতে পেরেছি।’
স্মিথ আরও বলেন, ২০১৮ সালের ঘটনাগুলো নিজের স্মৃতি থেকে অনেকটাই মুছে ফেলার চেষ্টা করেছেন তিনি,‘আমি ২০১৮ সাল এবং কী ঘটেছিল, সেসবের অনেকটাই মুছে ফেলতে চেয়েছি। সেই সিরিজের অনেক কিছুই আমার মনে নেই। স্মৃতির ভাণ্ডার থেকে বেশিরভাগ ঘটনাই সরিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি।’