বাংলাদেশ ফুটবল দলকে ঘিরে যেন সবকিছুই এখন নেতিবাচক। কিন্তু মাঠের বাইরের সেই বাস্তবতা আর মাঠের ভেতরের বাস্তবতা যে এক নয়, সেটি মনে করিয়ে দিয়েছেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি। রাতারাতি একটি দল বদলে দেওয়া সম্ভব নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার আগে তাই দলের বর্তমান অবস্থান ও প্রস্তুতির বাস্তবতা বোঝার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার সাংবাদিকদের ডুলি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মানুষ ফুটবলের বাস্তবতা বোঝেন না।’
তার মতে, উন্নতি কখনও রাতারাতি আসে না। একটি কোচিং স্টাফ চাইলেই মুহূর্তের মধ্যে পুরো দলকে বদলে দিতে পারে না, ‘উন্নতি রাতারাতি হয় না। একটি কোচিং স্টাফও তাৎক্ষণিকভাবে একটি দলকে বদলে দিতে পারে না।’
এমন মন্তব্যের সময়ই আজ রাতে ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ছে বাংলাদেশ দল। ফিফা আসিয়ান কাপের আসরে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। সর্বশেষ ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ইন্দোনেশিয়ার অবস্থান ১১৮, মালয়েশিয়া ১৩৬ এবং সিঙ্গাপুর ১৪৮ নম্বরে। বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১।
ডুলির চোখে এই ব্যবধান কয়েক সপ্তাহের আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি দিয়ে ঘোচানোর মতো নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রকল্প। তার ধারণা, বাংলাদেশকে ১৮০-এর আশপাশ থেকে ১৫০-এর কাছাকাছি নিয়ে যেতে দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে,‘আমরা মাঠে নেমেই সহজে এসব দলকে হারাবো, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।’
প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও বড় পার্থক্য দেখছেন বাংলাদেশের কোচ। ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর গত এক মাসে চার-পাঁচটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছে। পাশাপাশি ছয় থেকে আট সপ্তাহ একসঙ্গে অনুশীলনও করেছে তারা। বিপরীতে সান মারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের পর বাংলাদেশের স্থানীয় খেলোয়াড়দের বড় একটি অংশ প্রায় দুই মাস দলীয় অনুশীলনের বাইরে ছিলেন। ডুলি বলেন, ‘পেশাদার ফুটবলে সাধারণত প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতেই ছয় সপ্তাহ সময় লাগে এবং প্রতিদিন একাধিক সেশন থাকে। অথচ আমরা মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে আমাদের খেলোয়াড়দের ম্যাচ খেলার জন্য প্রস্তুত করার চেষ্টা করছি।’
প্রবাসী খেলোয়াড় হামজা চৌধুরী ও শমিত সোম অবশ্য নিজ নিজ ক্লাবের প্রস্তুতি নিয়ে জাতীয় দলে যোগ দিয়েছেন। তবে শুধু পরিশ্রম করলেই সামগ্রিক ব্যবধান ঘুচিয়ে ফেলা সম্ভব নয় বলে মনে করেন ডুলি। তার ভাষায়, ‘ম্যাচের ফল শুধু পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে না। লিগের মান, খেলোয়াড়দের বিকাশ এবং প্রস্তুতির স্তরও এখানে বড় ভূমিকা রাখে।’