গতির ঝড় তুলে ব্যাটারদের কাঁপিয়ে দেওয়ার দিন শেষ হলো মার্ক উডের। একের পর এক চোটের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন ইংল্যান্ডের এই পেসার। ৩৬ বছর বয়সে তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ইংল্যান্ডের ইতিহাসের অন্যতম দ্রুতগতির বোলার উডের ক্যারিয়ারজুড়েই ছিল চোটের সঙ্গে লড়াই। সর্বশেষ গত নভেম্বরে পার্থে প্রথম অ্যাশেজ টেস্ট দিয়ে ১৫ মাস পর মাঠে ফিরেছিলেন। কনুইয়ের চোটের পর হাঁটুর অস্ত্রোপচার করে ফিরলেও স্থায়ী হতে পারেননি। মাত্র ১১ ওভার বোলিং করার পর একই হাঁটুতে ফের দেখা দেয় চোট। চিকিৎসার জন্য এরপর দেশে ফিরে যান। সেই ম্যাচের পর আর ইংল্যান্ডের হয়ে মাঠে নামা হয়নি তার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে উড বলেছেন, ‘গত এক বছরে যা হয়েছে, তাতে হয়তো এই সিদ্ধান্তটা কারও কাছে অবাক করার মতো নয়। তবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার এই সময়ে এসে মনে হচ্ছে, এটাই স্বাভাবিক সময়।’
চোট থেকে বারবার ফিরে এসে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি। কিন্তু এবার আর পারেননি, ‘আমি সবসময় চোট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। মানুষকে ভুল প্রমাণ করতে এবং আমি কী করতে পারি, সেটা সবাইকে দেখাতে চেয়েছি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এবার আমি সেই যুদ্ধে হেরে গেলাম।’
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেট আর খেলা সম্ভব নয় বলেও জানিয়েছেন উড। তার ভাষায়, ‘চিকিৎসকদের পরামর্শে টেস্ট ও ৫০ ওভারের ক্রিকেট এখন আর সম্ভব নয়। গত এক বছরে ধীরে ধীরে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলার স্বপ্নটা আমার কাছ থেকে হারিয়ে গেছে।’
তবে ইংল্যান্ডের হয়ে খেলাটাকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সম্মান হিসেবে দেখছেন এই পেসার, ‘ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা আমার জীবনে পাওয়া সবচেয়ে বড় সম্মান এবং যে স্বপ্ন সত্যি হওয়ার আশা করতে পারতাম, সেটাই বাস্তব হয়েছিল।’
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়লেও পুরোপুরি ক্রিকেট থেকে সরে যাচ্ছেন না উড। ভবিষ্যতে কোনো না কোনোভাবে ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ইংল্যান্ডের হয়ে ৩৮ টেস্টে ১১৯ উইকেট নিয়েছেন উড। অভিষেকের সেই বছরই ঘরের মাঠে অ্যাশেজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি।
তবে ক্যারিয়ারজুড়ে বারবার তাকে ভুগিয়েছে গোড়ালি, হাঁটু ও কনুইয়ের চোট। শরীরের ওপর চাপ কমাতে ২০১৮ সালে নিজের রানআপও লম্বা করেছিলেন উড। তাতে গতি কমেনি, বরং ইংল্যান্ডের বেশ কিছু বড় সাফল্যের অংশ হতে পেরেছেন।
২০১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড দলের সদস্য ছিলেন উড। সেই আসরে ১৮ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। ২০২২ সালে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলেরও অংশ ছিলেন। তবে পায়ের পেশির চোটের কারণে ওই টুর্নামেন্টের শেষ দিকের ম্যাচগুলোতে খেলতে পারেননি।
সাদা বলের ক্রিকেটেও উডের রয়েছে উল্লেখযোগ্য রেকর্ড। ইংল্যান্ডের হয়ে পুরুষদের টি-টোয়েন্টিতে ৩৮ ম্যাচে ৫৪ উইকেট নিয়ে তিনি দেশের ষষ্ঠ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি। ৭০ ওয়ানডেতে তার শিকার ৮০ উইকেট।