দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিশোধ

ডারবানে শেষ দিনে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ৬ উইকেট। আর সেই কাজটাই দুর্দান্তভাবে করলেন জশ হ্যাজলউড। তার ৬ উইকেটের ঝড়ো বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিরোধ ভেঙে দিয়ে প্রথম টেস্টে ২১৪ রানের বড় জয় তুলে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। মঙ্গলবার কিংসমিডে চা-বিরতির আগেই ২০৬ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। তাতে তিন ম্যাচের সিরিজে অস্ট্রেলিয়া ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে।

হ্যাজলউড ৪৯ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। সোমবারই দুটি উইকেট নিয়েছিলেন ৩৫ বছর বয়সী এই পেসার। মঙ্গলবার নতুন বলে এক ওভারে আরও দুই উইকেট তুলে নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াইয়ে বড় ধাক্কা দেন তিনি। শেষ ব্যাটারকে আউট করে অস্ট্রেলিয়ার জয়ও নিশ্চিত করেন।

গত বছর লর্ডসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ম্যাচের পর জয় দিয়ে জবাব দিলো অজি দল। 

অবশ্য মঙ্গলবার দিনের প্রথম ১১০ মিনিট ৪২১ রানের লক্ষ্যে প্রতিরোধ গড়েছিল প্রোটিয়ারা। আগের দিন ৪ উইকেটে ১০২ রান নিয়ে খেলা শেষ করা এইডেন মারক্রাম ও ভিয়ান মুল্ডার পঞ্চম উইকেটে ২০৫ বলে ৬৯ রানের ধৈর্যশীল জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত হ্যাজলউডের ডেলিভারিতে উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির দুর্দান্ত ডাইভিং ক্যাচে পরিণত হন মুল্ডার। তার ব্যাট থেকে আসে ২৯ রান।

এরপর দ্রুতই আরেকটি উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়ার খণ্ডকালীন স্পিনার ম্যাট রেনশ টেস্টে নিজের দ্বিতীয় উইকেটটি পান। বেপরোয়া শট খেলতে গিয়ে শূন্য রানে স্লিপে স্টিভ স্মিথের হাতে ক্যাচ দেন কাইল ভেরেইনে। 

লাঞ্চ বিরতিতে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ৬ উইকেটে ১৬৬। নতুন বল নেওয়ার আগে আরও ২৫ রান যোগ করেছিল তারা। কিন্তু নতুন বল হাতে নিয়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় অস্ট্রেলিয়া।

হ্যাজলউডের বলে বোল্ড হন মার্কো ইয়ানসেন, করেন ৩৫ রান। তিন বল পরই গ্লাভসে বল ছুঁইয়ে ক্যারির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সিমোন হারমার।

এরপর ২৩৭ বলে ৭৫ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে বিদায় নেন মারক্রামও। মিচেল স্টার্কের বল প্যাডে লেগে ব্যাটের কানা ছুঁয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে যায়। শুরুতে তাকে আউট দেওয়া হয়নি; পরে টিভি রিপ্লেতে সিদ্ধান্ত বদলায়।

শেষ পর্যন্ত হ্যাজলউডই অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন। তার বলে শর্ট মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দেন লেজের দিকের ব্যাটার আইনরিখ নরকিয়া। ক্যাচটি নেন নাথান লায়ন।