দেশ নয়, তবু আছে বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস

লম্বা-চওড়া, গতিময় ও ভয়ংকর সব বোলার আর ব্যাট হাতে দাপট দেখানো সব কিংবদন্তি। একসময় বিশ্ব ক্রিকেটে সর্বজয়ী এক শক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজ মানেই ছিল রোমাঞ্চ আর বিনোদন। চার পেসারের বিখ্যাত আক্রমণ থেকে শুরু করে ব্যাটিং দানবদের দাপট। ক্রিকেটের ইতিহাসে ক্যারিবীয়রা একসময় ছিল পরাক্রমশালী এক দল। সাম্প্রতিক সময়ে পারফরম্যান্সে ভাটা পড়লেও মেরুন জার্সিধারীদের মাঠে দেখতে এখনও মুখিয়ে থাকেন অসংখ্য সমর্থক। তবে অনেকেরই অজানা, বিশ্ব ক্রিকেটের এই জনপ্রিয় দলটির নামে আসলে বিশ্বের মানচিত্রে কোনও স্বাধীন দেশ নেই!

ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনও দেশ নয়। এটি উত্তর আমেরিকার একটি ভৌগোলিক অঞ্চল, যেখানে রয়েছে ১৩টি দ্বীপরাষ্ট্র এবং ১৮টি নির্ভরশীল অঞ্চল। ক্রিস্টোফার কলম্বাসের অভিযানের সূত্র ধরে ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ’ নামটির প্রচলন হয়। ১৪৯২-৯৩ সালে তার প্রথম অভিযানের পর ইউরোপীয়রা ‘ইন্ডিজ’ বা ভারত এবং ‘ইস্ট ইন্ডিজ’ থেকে এই অঞ্চলকে আলাদা করে বোঝাতে ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ’ শব্দটি ব্যবহার করতে শুরু করে।

অন্যান্য অনেক অঞ্চলের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজও ব্রিটিশ শাসনের অধীনে ছিল। ১৮৮০-এর দশকে ক্যারিবীয় অঞ্চলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গঠিত একটি সম্মিলিত দল কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র সফর করে। ১৮৯০-এর দশকে বিভিন্ন দ্বীপের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গঠন করে সফরকারী ইংল্যান্ডের দলগুলোর বিপক্ষে খেলা শুরু হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দল ইংল্যান্ড সফরেও যেত।

১৯২৬ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট বোর্ড ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড ও নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তৎকালীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইম্পেরিয়াল ক্রিকেট কাউন্সিলের সদস্যপদ পায়। সংস্থাটির বর্তমান নাম আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল বা আইসিসি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দল জ্যামাইকা, সেন্ট লুসিয়া, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, গায়ানা, অ্যান্টিগা ও বারবুডা, বার্বাডোজ, ডোমিনিকা, গ্রেনাডা, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনসসহ বিভিন্ন দ্বীপ ও অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করে। এর মধ্যে ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডসের মতো অঞ্চলও রয়েছে।

১৯২৮ সালে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম আনুষ্ঠানিক টেস্ট ম্যাচ খেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের আধিপত্যের মুখে লড়াই করতে হয়েছে ক্যারিবীয়দের। ১৯৬০ সালে ফ্রাঙ্ক ওরেল ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অধিনায়ক হন। পরে গ্যারি সোবার্সের মতো কিংবদন্তিরাও দলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান। এরপর ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ সালে টানা দুটি বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়ে তারা।

পতাকা ও সংগীত

ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোনও স্বাধীন দেশ না হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে দলটি কোন পতাকার নিচে খেলে, আর তাদের সংগীতই-বা কী?

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট দলের নিজস্ব পতাকায় রয়েছে একটি রৌদ্রোজ্জ্বল দ্বীপ, পামগাছ ও ক্রিকেটের স্টাম্পের প্রতীক। ১৯৯৯ সাল থেকে এই পতাকা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগে ব্যবহৃত পতাকায় ছিল একটি দ্বীপ ও বাঁধাকপির মতো দেখতে এক ধরনের গাছের প্রতীক; তবে তাতে সূর্য ছিল না, ছিল ক্রিকেটের স্টাম্প। পতাকাটির পটভূমি ছিল মেরুন রঙের।

দলটির নিজস্ব ক্রিকেট সংগীতও রয়েছে। ডেভিড রাডারের লেখা ‘র‍্যালি রাউন্ড দ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ’ গানটি খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মনে বিশেষ আবেগ জাগায়।