সমীকরণ মেলাতে পারেনি, আফগানদের দাপুটে জয়ে বাংলাদেশের বিদায় 

জয়ের বিকল্প ছিল না, সঙ্গে মিলতে হতো কঠিন এক সমীকরণও। কিন্তু ব্যাট হাতে বাংলাদেশ গড়তে পারলো না লড়াইয়ের পুঁজি। বোলাররাও আটকে রাখতে পারলেন না আফগানিস্তানকে। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে তাই ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাওহীদ হৃদয়দের। ১৬০ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর আফগানদের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি বাংলাদেশ। ৭ উইকেটের বড় হারে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। 

আবু ধাবিতে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। লক্ষ্য ছিল বড় সংগ্রহ গড়ে আফগানিস্তানকে চাপে ফেলা। কিন্তু সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ পায়নি। ব্যাটিংয়ে ধস নামায় ১৬০ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

ফাইনালে যাওয়ার সমীকরণও ছিল কঠিন। জবাবে আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারলে ফাইনালে খেলার সুযোগ পেতো বাংলাদেশ। সেই লক্ষ্য পূরণ তো দূরের কথা, আফগান ব্যাটারদের সামনে প্রতিরোধই গড়তে পারেনি বাংলাদেশের বোলাররা। ৩ উইকেট হারিয়ে ৩৫.৩ ওভারে জয় নিশ্চিত করেছে আফগান দল। 

শুরুতে ২৬ রানে রহমানউল্লাহ গুরবাজকে (৬) তুলে নিয়েছিলেন তাসকিন আহমেদ। তার পর ৩৯ রানে সেদিকুল্লাহ অটলকেও (৪) তুলে নেন তিনি। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত চাপটা আর তৈরি করতে পারেনি। এই সময় পরিস্থিতি সামাল দেন ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ। ৫৬ রানের জুটি গড়েন তারা। ইব্রাহিমকে (৩৪) দলের ৯৫ রানে মোস্তাফিজুর রহমান তুলে নিলেও ততক্ষণে অনেক দূরে চলে গেছে আফগানিস্তান। তার পর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়েন রহমত শাহ (৬৭) ও হাশমতউল্লাহ শহীদী। চতু্র্থ উইকেটে ৬৬ রানে অবিচ্ছিন্ন থাকেন তারা। ফিফটি পাওয়া অধিনায়ক রহমত ৯০ বলে ৬৭ রানে অপরাজিত থাকেন। তার ইনিংসে ছিল ৫টি চার। হাশমত অপরাজিত ছিলেন ৩৬ রানে। 

শুরুতে বাজে ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী করেছে বাংলাদেশ। অবশ্যই জিততে হবে এমন ম্যাচে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪১.২ ওভারেই তারা অলআউট হয়েছে মাত্র ১৬০ রানে। 

বাংলাদেশের শুরুটা ছিল হতাশার। ২৮ রানেই হারিয়ে বসে ৪ উইকেট। তারপর অবশ্য আশার সঞ্চার করেছিলেন পারভেজ হোসেন ও সাইফ হাসান। পঞ্চম উইকেটে ৯২ রানের জুটি গড়েন তারা। ১২১ রানে সাইফ হাসান ৪১ রানে ফিরতেই আবার বিপর্যয়ে পড়ে দলটির ইনিংস। বাকি ৬ উইকেট হারিয়েছে মাত্র ৩৯ রানে!  

প্রান্ত আগলে পারভেজ হোসেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটি তুলে নিলেও বেশি দূর যেতে পারেননি। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে দলের ১৫৬ রানে অষ্টম উইকেটে হিসেবে কাটা পড়েন ৭০ রানে। তার ৯৬ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও দুটি ছয়। তার উইকেটটি নেন রশিদ খান। লেজের দিকে ঘূর্ণিতে বাংলাদেশকে বিপদে ফেলা আফগান তারকা স্পিনার ৪২তম ওভারে পর পর আলিস আল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমানকে তুলে নিলে ১৬০ রানেই শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। শেষ চারটি উইকেটই নেন রশিদ। ৮.২ ওভারে ৩১ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন তিনি। দুটি করে নেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও ইয়ামিন আজমদজাই। একটি করে নেন বিলাল সামি ও মোহাম্মদ নবী। 

এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে টানা দ্বিতীয় জয় পেয়েছে আফগানিস্তান। শুক্রবার ফাইনালে দলটির প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে।