ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তখন নিউজিল্যান্ডের হাতে। জয়ের জন্য শেষ পাঁচ ওভারে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৬৮ রান। একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলটির সামনে সমীকরণটা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছিল। কিন্তু তিলক বার্মা ও নিতিশ কুমার রেড্ডির অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে পাল্টে যায় ম্যাচের চিত্র। সপ্তম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৬৯ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে ভারত। তাতে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এখন ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে সফরকারীরা।
মাত্র ২৬ বলে অপরাজিত ৫১ রান করেছেন তিলক। অন্য প্রান্তে ১৩ বলে ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন রেড্ডি। তার ব্যাট থেকেই এসেছে জয়সূচক রান।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতের জয়ের পথে শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নামান ধীর এবারও ম্যাচ শেষ করার দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু ১৫তম ওভারের পঞ্চম বলে তার বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন রেড্ডি। এরপর তিলকের সঙ্গে মিলে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি।
ইনিংসের শেষ পাঁচ ওভারে ভারতের রান তোলার হার ছিল ৭.৫৩, অথচ জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তোলার হার ছিল ১৩.৬০। ১৭তম ওভার শেষে সেই সমীকরণ আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। প্রয়োজনীয় রানরেট বেড়ে হয় ১৫.৩৩। তবে জ্যাকব ডাফির করা ১৮তম ওভারে ১৭ রান তুলে চাপ অনেকটাই কমিয়ে দেন তিলক ও রেড্ডি।
এরপর নাথান স্মিথের পরের ওভারেও আসে ১৮ রান। ফলে শেষ ওভারে ভারতের প্রয়োজন পড়ে মাত্র ১১ রান। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় বলেই ডিপ মিডউইকেট ও ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগের মাঝ দিয়ে বল পাঠিয়ে দুই রান নিয়ে ভারতকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন রেড্ডি।
এর আগে শুরুতে ভারতের ব্যাটিংয়ে বেশ চাপ সৃষ্টি করেছিলেন ডাফি ও ম্যাট হেনরি। ইনিংসের প্রথম রান পেতে আট বল খেলতে হয় ভারতকে। দ্বিতীয় ওভারে অভিষেক শর্মাকে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ বানিয়েও শুরুতে বড় ধাক্কা দিতে পারতো নিউজিল্যান্ড। কিন্তু সেটি নো-বল হওয়ায় বেঁচে যান অভিষেক। পরপর দুই বলে চার মেরে সেই সুযোগের জবাবও দেন তিনি।
তবে অভিষেক ও সাঞ্জু স্যামসনের উদ্বোধনী জুটি ৪০ রানের বেশি এগোতে পারেনি। পঞ্চম ওভারে ডাফির বলে বিদায় নেন স্যামসন। ১৭ বলে তার সংগ্রহ ১৪ রান।
এরপর তিন নম্বরে ব্যাট করতে নামেন কিশোর বৈভব সূর্যবংশী। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে এই প্রথম ওপেনিংয়ের বাইরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আট বলে মাত্র চার রান করে নাথান স্মিথের শিকার হন সূর্যবংশী।
মাঝের ওভারগুলোতে ভারতের রান তোলার গতি আটকে রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। চার ওভারে ২১ রান দিয়ে চার উইকেট নেন তিনি। তবু শেষ পর্যন্ত তিলক ও রেড্ডির ঝড়ে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি স্বাগতিকেরা।
এর আগে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে আবারও ব্যাট হাতে ঝলক দেখান গ্লেন ফিলিপস। ৪৩ বলে ৭০ রান করেন তিনি। বেভন জ্যাকবসের ব্যাট থেকে আসে ৪৬ বলে ৫৮ রান। দুজন মিলে ৭৭ বলে ১১৬ রানের জুটি গড়ে নিউজিল্যান্ডকে শক্ত ভিত এনে দেন।