মাঠের বাইরের অস্থিরতা যেন আর অবাক করে না বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্সকে। অল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির পদে তিনবার পরিবর্তন দেখেছেন তিনি। এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ টেস্ট সিরিজের আগে দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও খুব একটা ভাবাচ্ছে না তাকে। সিমন্সের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাঠের প্রস্তুতি।
বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ হিসেবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। মিরপুরে প্রথম টেস্ট শুরুর মাত্র চার দিন আগে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব থেকে আশরাফুলকে সরিয়ে দিয়েছে বিসিবি। ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে ব্যস্ত থাকায় পুরো দল একসঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়ারও তেমন সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ। সেই সিরিজ থেকে বাংলাদেশের আগেভাগে বিদায় নিয়েও সমালোচনা হয়েছে।
তবে মাঠের বাইরের এসব ঘটনা নিয়ে আলোচনা বাড়াতে চান না সিমন্স। সিরিজের আগে দলের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনি আমার চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে আছেন। বিশ্ব ক্রিকেটও আমার চেয়ে বেশি সময় ধরে দেখছেন। ম্যাচের আগে অস্থিরতা কি এই প্রথম?’
আশরাফুলকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তটি অন্যায্য কি না, এমন প্রশ্নের জবাব দিতেও রাজি হননি বাংলাদেশ কোচ। সংক্ষিপ্ত উত্তর, ‘আমার মনে হয় না, এটা আমাকে করার মতো প্রশ্ন।’
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় বর্তমানে চতুর্থ স্থানে আছে বাংলাদেশ। ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাও এখনো টিকে আছে। এমন পরিস্থিতিতে দলের মনোযোগ ড্রেসিংরুমের বাইরের আলোচনা কিংবা অস্থিরতায় নয়, বরং নিজেদের কাজের ওপরই রাখতে চান সিমন্স।
প্রথম টেস্টের আগে শেষ দুই দিনের প্রস্তুতিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তিনি। মিরপুরে আগে থেকেই অনুশীলনে থাকা ক্রিকেটারদের মনোভাবেও সন্তুষ্ট কোচ। সিমন্স বলেন, ‘দুই বছর আগে আমরা যে সিরিজগুলো খেলতে শুরু করেছিলাম, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কিন্তু আসল বিষয় হলো, আমরা কীভাবে নিজেদের কাজ করছি এবং সিরিজের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমার মনে হয়, এখানে যারা গত তিন-চার দিন ছিল, তারা দারুণ কাজ করেছে। তারা নিজেদের প্রস্তুতি চালিয়ে গেছে। এখন পুরো দল একসঙ্গে যোগ দেবে। পরের দুই দিনে আমরা কী করি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে কী হচ্ছে, সেটা নয়; দল হিসেবে প্রস্তুতির জন্য আমরা কী করছি, সেটাই আসল।’
তবে টেস্ট সিরিজের আগে প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশ যে আদর্শ সময় পায়নি, সেটি স্বীকার করেছেন সিমন্স। বিশেষ করে ওয়ানডে ও টেস্ট দুই সংস্করণে খেলা ক্রিকেটারদের ব্যস্ততা থাকায় পুরো দলকে একসঙ্গে অনুশীলনে পাওয়ার সুযোগ কমেছে।
তার ভাষায়, ‘আমরা পুরো দলকে একসঙ্গে পাইনি, কারণ তখন আমরা একটি সিরিজের মধ্যে ছিলাম। ত্রিদেশীয় সিরিজ চলছিল, আর আমাদের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ওয়ানডে ও টেস্ট দুই সংস্করণেই খেলে। তাই পরিস্থিতিটা পুরোপুরি আদর্শ ছিল না। তবে ক্রিকেটাররা বসে ছিল না, তারা ক্রিকেট খেলেছে। সুতরাং প্রস্তুতির জায়গা এখনো অনেক আছে। পুরো দলকে একসঙ্গে নিয়ে সবকিছু গুছিয়ে নেওয়ার জন্য এই দুই দিনই আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’