মিরপুরে হেরে গেলো বাংলাদেশ

বাজে ব্যাটিংয়ের খেসারত দিতে হলো বাংলাদেশকে। মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটে হেরেছে স্বাগতিক দল। 

১৭০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৩৫.১ ওভারেই জয় নিশ্চিত করেছে ক্যারিবিয়ানরা। 

ব্যান্ডন কিং ৮১* রানে অপরাজিত ছিলেন। সঙ্গে ৩১ রানে অপরাজিত ছিলেন কাভেম হজ।  

জয়ের লক্ষ্যে শুরু থেকে বাংলাদেশের বোলিং কোনও চাপ তৈরি করতে পারেনি। উল্টো তাদের ওপর দাপট দেখিয়ে খেলেন দুই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং ও জন ক্যাম্পবেল। ১১২ রানের জুটি গড়েন তারা। ক্যাম্পবেলকে ৪৯ রানে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন শরিফুল ইসলাম। পরে দ্রুত সময়ে তেজনারায়ণ চন্দরপলকে (১) হাসান মাহমুদ ফেরালেও লাভ হয়নি। কারণ কাঙ্ক্ষিত চাপটা তৈরি করতে পারেনি তারা। এই সময়ে কিংকে ৭০ রানে জীবন দেন এবাদত হোসেন। সহজ ক্যাচ ছাড়েন তিনি। পরে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান ব্র্যান্ডন কিং। 

বাংলাদেশের ইনিংস গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল আগের দিনই। বৃষ্টির বিরতি পেরিয়ে চতুর্থ দিনের সকালে সেই শঙ্কা আরও বাড়িয়ে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ। তবে শেষ দিকে একাই প্রতিরোধ গড়ে তোলেন নাঈম হাসান। টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি তুলে বাংলাদেশকে কিছুটা লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন আট নম্বরে খেলা এই ব্যাটার। শেষ পর্যন্ত ১৪২ রানেই অলআউট হয়েছে স্বাগতিকরা।

চতুর্থ দিন সকালে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিন বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে থেকেই চাপে ছিল স্বাগতিকরা।

সকালে প্রথম ওভারে জাকের আলীকে ফিরিয়ে দেন জোমেল ওয়ারিকান। ওয়ারিকানকে চার মেরে ২২ রানে পৌঁছানোর পরের বলেই স্লিপে রোস্টন চেজের হাতে ক্যাচ দেন জাকের।

এরপর নাঈমকে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৩২তম ওভারে ওয়ারিকান নিজের বলে নিচু ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন। পরপর দুই ওভারে নাঈমের ক্যাচ ছাড়েন চেজও। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যাটিং সঙ্গী হাসান মাহমুদকে বেশিক্ষণ টিকতে দেননি ওয়ারিকান।

৩১ বল খেলে ৮ রান করা হাসানকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলেন বাঁহাতি স্পিনার। এরপর ব্যাটিংয়ে নামেন দশ নম্বর ব্যাটার তাইজুল ইসলাম। রিভার্স সুইপে চার মেরে শুরু করলেও চেজের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে ফিরতে হয় তাকে।

কঠিন চাপের সময় এক প্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান নাঈম। বৃষ্টির বিরতির আগে ও পরে ওয়ারিকানকে একটি করে বাউন্ডারি মেরে এবং দ্রুত একটি সিঙ্গেল নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক পূরণ করেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত ইনিংস আর বড় করতে পারেননি। চেজের বলে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হন নাঈম।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে অধিনায়ক চেজ ৩৬ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে টেস্টে ১০০ উইকেটের মাইলফলকও পেরিয়েছেন তিনি। ওয়ারিকান পেয়েছেন ৬৩ রানে ৪ উইকেট।

তৃতীয় দিনের শেষ দিকে মাত্র ১০ বলের মধ্যে তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে আরও কম রানে গুটিয়ে দেওয়ার আভাস দিয়েছিলেন চেজ। কিন্তু চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে নাঈমের দৃঢ়তায় সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। তার লড়াইয়ে ১৪২ রান পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে বাংলাদেশ। তাতে ক্যারিবিয়ানদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০।