একসময় বাংলাদেশের ইনিংস থমকে গিয়েছিল ৭ উইকেটে ১৮৪ রানে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের ৩৫৬ রান তখন অনেক দূরের পথ। মনে হচ্ছিল, বড় ব্যবধানেই পিছিয়ে পড়তে যাচ্ছে স্বাগতিকরা। কিন্তু ক্রিজে তখনও ছিলেন তাওহীদ হৃদয়। যার মনে ছিল হাল না ছাড়ার মানসিকতা। শেষ দুই উইকেটে তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদকে নিয়ে যোগ করলেন অবিশ্বাস্য ২০২ রান। তার অপরাজিত ২৪২* রানের ইনিংসেই বাংলাদেশ পেয়েছে ৩০ রানের লিড। বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করেছে ৩৮৬ রান।
অথচ তৃতীয় দিনের লাঞ্চের ঠিক আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ১৮৪ রান। তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজের চেয়ে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কাই ছিল বেশি। তবে হৃদয়ের দৃঢ়তায় বদলে যায় পুরো চিত্র। প্রথম দিনের সকালে বাঁ গোড়ালিতে চোট পাওয়ায় সাদমান ইসলাম মাঠের বাইরে চলে যাওয়ায় কার্যত ১০ জন নিয়েই টেস্টটি খেলছে বাংলাদেশ। সেই পরিস্থিতিতেও প্রায় তিন সেশন লড়াই করে লোয়ার অর্ডারকে সঙ্গে নিয়ে দলকে লিড এনে দেন হৃদয়।
মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসানের পর বাংলাদেশের চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পান তিনি। ইনিংসটি খেলার পথে গড়েছেন একাধিক রেকর্ড।
তার অপরাজিত ২৪২ রান এখন টেস্টে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের করা অপরাজিত ২১৯ রানকেও ছাড়িয়ে গেছেন তিনি।
এছাড়া ইনিংসে ১১টি ছক্কা মেরেছেন হৃদয়। টেস্টের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার বিশ্ব রেকর্ড থেকে মাত্র একটি ছক্কা থেকে দূরে ছিলেন তিনি। ১২টি ছক্কা নিয়ে এই রেকর্ডটি যৌথভাবে ওয়াসিম আকরাম ও যশস্বী জয়সওয়ালের।
ইতিহাস গড়ার পথে তৃতীয় দিনে একাই ২১৩ রান করেছেন হৃদয়। তাতে টেস্টের এক দিনে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও ভেঙেছেন তিনি। ২০১৭ সালে ওয়েলিংটন টেস্টে সাকিব আল হাসানের করা ২১২ রান ছিল এতদিনের সর্বোচ্চ।