অনেক দূরে যেতে চায় বাংলাদেশের মেয়েরা

afc girls pixতাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত এএফসি মহিলা অনূর্ধ্ব-১৪ রিজিওনাল ফুটবলের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ মেয়েরা। তবে এখানেই থেমে যেতে চায় না তারা। তাদের লক্ষ্য আরও ওপরে। 
আজ মঙ্গলবার বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠাতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৪ দলের অধিনায়ক মার্জিয়া বলেন, 'আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই তাজিকিস্তানে গিয়েছিলাম। তবে আমরা এখানেই আটকে থাকতে চাই না। আমরা আরও ওপরে যেতে চাই। সে জন্য ফুটবল ফেডারেশন ও অন্যান্য সবার সহযোগিতা চাই।'

দশ গোল করে সর্বাধিক গোলদাতা তহুরা বলেন, 'আমরা বিকেএসপিতে আবাসিক ক্যাম্পে অনেক কষ্ট করেছি। উদ্দেশ্য ছিল ভালো করা, চ্যাম্পিয়ন হওয়া। সবার মাঝে একই লক্ষ্য ছিল।সেটি আমরা করতে পেরেছি। আমার মনে আছে তাজিকিস্তানের বিপক্ষে জাতীয় সঙ্গীত শোনার পর দল যে স্পিরিট পেয়েছিল সেটি আমাদেরকে চ্যাম্পিয়ন করে দেয়।' 

বাংলাদেশের কিশোরীদের অনেক দূরে যাওয়ার পথটা মসৃণ করে দিতে চান বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, 'বিদেশের মাটিতে পর পর দুইটি শিরোপা জয় করেছে আমাদের মেয়েরা। যার মানে এই দলে অবশ্যই বিশেষ প্রতিভা রয়েছে। আমি মহিলা কমিটিকে বলেছি তাদের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে। আমরা তাদের সবরকম সহযোগিতা দেব।'

কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটন বলেন, 'নেপালে শিরোপা জয়ের পাঁচ মাস পর তাজিকিস্তানে এই টুর্নামেন্ট খেলতে যাই আমরা। নেপালে সেই দলের ১০ জন খেলোয়াড় ছিল না। এই টুর্নামেন্টের জন্য সারা বাংলাদেশ থেকে প্রাথমিকভাবে দেড়শ জনকে বাছাই করার পর ৬৭ জনকে নিয়ে বিকেএসপিতে যাই। সেখান থেকে দল গঠন করি। দীর্ঘ দুই মাস বাচ্চা মেয়েরা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। শুধু মাত্র ফুটবলের জন্য তাদের কষ্ট ও সাধনা সেটি সফল হয়েছে। বিশেষ করে ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো জেতার পরেই তাদের স্পিরিট সর্বোচ্চ পর্যায়ে চলে যায়। আমি শুধু মেয়েদেরকে এটুকুই বলেছি যে দেশের জন্য ইতিহাস সৃষ্টি কর।'

বাংলাদেশ সুপার লিগের পক্ষ থেকে দেওয়া এই সংবধর্নায় প্রতিটি খেলোয়াড়কে পনের হাজার টাকা ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করা হয়। বিএসএলের স্বত্ত্বাধিকারী সাইফ পাওয়ার টেকের কর্ণধার রুহুল আমিন তরফদার বলেন, 'মেয়েরা ইতিহাস গড়েছে, অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছে। আমরা এদেরকে সহায়তা করা অব্যাহত রাখব।' অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী ও নব-নির্বাচিত কমিটির সদস্যরা।

/আরএম/এমআর/