ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা অবস্থায় ইউনিয়নভুক্ত দেশের যে কোনও ফুটবলার বিনা ওয়ার্ক পারমিটে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে যোগ দিতে পারতেন। যেহেতু এখন ব্রিটেন সংগঠনটি থেকে বের হয়ে গেছে সেহেতু ইইউভুক্ত দেশগুলোর খেলোয়াড়রা বিনা ওয়ার্ক পারমিটে ব্রিটেনে আসতে পারবে না।
গত সিজনে ৪৩২ জন খেলোয়াড় প্রিমিয়ার লিগে খেলার জন্য নিবন্ধন করেছেন। ভোটের পর তাদের ব্রিটেন ছাড়তে হবে। এছাড়া নতুন যারা খেলতে আসবেন তারা আগের মতো বিনা বাধায় ব্রিটেনে অবস্থান করতে পারবেন না। নানান শর্তের বেড়াজালে পড়তে হবে তাদের। যে কারণে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলার আকর্ষণ হারাবেন তারা।
ইপিএল-এর বিভিন্ন দলকে বিদেশি খেলোয়াড় কিনতে সহায়তা করা শীর্ষ এজেন্টদের একজন কেইথ হ্যারিস। তিনি বলেন, 'এটা সত্যি অবিশ্বাস্য। এমন চারজন খেলোয়াড় আছেন যারা গত মৌসুমে ক্লাবের হয়ে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছেন, কিন্তু আগামী মৌসুমে খেলতে পারবেন না। এই চারজন হলেন- লিচেস্টারের কন্তে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অ্যান্থনি মার্শাল, এভারটনের লুকাকু ও ওয়েস্টহামের পায়েত।'
ব্রিটেন ইইউ থেকে বের হয়ে যাওয়ায় প্রিমিয়ার লিগে খেলতে হলে কোনও খেলোয়াড়কে তাদের জাতীয় দলের হয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচ খেলতে হবে। ফিফা র্যাংকিংয়ে শীর্ষ ১০ দলের খেলোয়াড়কে জাতীয় দলের হয়ে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে হবে। আবার যেসব দেশ ১১-২০ নম্বরে আছে ওইসব দেশের খেলোয়াড়কে জাতীয় দলের হয়ে ৪৫ শতাংশ ম্যাচ খেলতে হবে। র্যাংকিংয়ে ২১-৩০ এ থাকা দেশগুলোর খেলোয়াড়কে ৬০ শতাংশ এবং পরবর্তী র্যাংকিংয়ে থাকা দেশগুলোর প্লেয়ারদের ৭৫ শতাংশ ম্যাচ খেলতে হবে। তবেই কেবল তারা ব্রিটেনে খেলার ওয়ার্ক পারমিট পাবেন।
এ আইনের আওতায় বর্তমানে প্রিমিয়ার লিগে খেলা ১'শরও বেশি খেলোয়াড় ব্রিটেন ত্যাগে বাধ্য হবেন। তবে হ্যারিসের আশা নিজেদের ফুটবলীয় গৌরব ধরে রাখতে কোনও না কোনও উপায় বের করবে সরকার।
অনেকেই আছেন যারা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে এসে নিজেদের মেলে ধরেছেন, তারকা হয়েছেন। তারপর জাতীয় দলের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন। ওই তালিকায় আছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, থিয়েরি হেনরি, ডেভিড গিনোলা, দিমিত্রি পয়েতসহ আরও অনেকে। কিন্তু ব্রিটেন ইইউ থেকে বের হয়ে যাওয়ায় নতুন তারকা সৃষ্টি করা থেকে বঞ্চিত হবে ইপিএল। কারণ ইপিএল-এ তারাই খেলতে আসতে পারবেন যারা নিজেদের জাতীয় দলের হয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক ম্যাচ খেলেছেন।
/এফআইআর/