সেমিনারে বাংলাদেশ ফুটবলের সাম্প্রতিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে আলোচনা করেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সিনিয়র সহসভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী, কোচ মারুফুল হক, জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক, ক্রীড়া সংগঠক রুহুল আমিন তরফদার ও এএসএম ফারুক, রেফারি আজাদ রহমান, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সচিব অশোক কুমার বিশ্বাস, রহমতগঞ্জ এমএফএস সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়িাজ হামিদ সবুজ, সাংবাদিক সাইদুর রহমান শামীম, পবিত্র কুন্ডু, আল আমিন, বাগেরহাট ডিএফএ কর্মকর্তা জাকির হোসেন চৌধুরী ও টাঙ্গইলের ফুটবল সংগঠক আতিকুর রহমান জামিল।
সেমিনারে আলোচিত উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো ছিল:
অ্যাকাডেমি নয়, প্রয়োজন স্কুল অব ফুটবল
বিকেএসপিগুলোতে স্কুল অব ফুটবল পরিচালনার জন্য প্রয়োজন জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, বিকেএসপি, ফুটবল ফেডারেশন আর ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ের সম্মিলিত উদ্যোগ। আর এই বৃহৎ পরিকল্পনার স্বার্থক রুপ দেওয়ার জন্য প্রয়োজন সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা।
দরকার ক্লাবগুলোর শক্ত ভিত
দেশের কোনও একটি ক্লাবও পেশাদার হিসেবে শক্ত ভিতের উপর গড়ে উঠতে পারেনি। আজও কোনও ক্লাবের শক্ত ভিত্তি নেই, নেই নিজেদের স্টেডিয়াম, নেই প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড, নেই জুনিয়র দল, নেই আগামী প্রজন্মের ফুটবলার তৈরির কোনও পরিকল্পনা। নেই আর্থিক বুনিয়াদ, নেই নির্দ্দিষ্ট আয়ের কোনও উৎস। আজও ক্লাবগুলো পরিচালিত হচ্ছে অন্যদের অনুদানের ওপর।
জেলা ফুটবল নিয়মিতকরণ
জেলা ফুটবল বড় বেশি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। তৃণমূলের ফুটবলের প্রতি উপেক্ষা আর পাইপ লাইন শূন্য হয়ে পড়ায় মাঠের ফুটবল আর ফুটবলারের মান নিচের দিকে নামতে শুরু করেছে। একের পর এক আসরে জাতীয় দলের ভরাডুবি দেশের ফুটবলকে এক অনিশ্চিত অবস্থায় এনে দাঁড় করিয়েছে। এর জন্য শুধু ফুটবল বা ফুটবলের সঙ্গে যারা জড়িয়ে আছেন তাদের ঘাড়ে দোষ চাপালেই চলবে না। সুন্দর পরিকল্পনার অভাবই এর মূল কারণ।
প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই
গত কয়েক দশকে এদেশের ফুটবলে অনেক মানসম্পন্ন বিদেশি কোচ আনা হয়েছে । বাংলাদেশে এসেই প্রায় প্রত্যেক কোচের মন্তব্য: ফুটবলাররা টেকনিক্যালি দুর্বল। তাদের ঘাটতি স্কিলে। এ থেকে বোঝা যায়, ফুটবলার তৈরিতে গলদ আছে। এর অন্যতম কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে তারা ভালো মানের প্রশিক্ষক পান না, বরং নিজেদের চেষ্টায় তারা একটা পর্যায়ে চলে আসেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গিয়ে তারা প্রতিপক্ষের সঙ্গে সমানতালে লড়তে পারেন না।
যত বেশি ফুটবলার, তত মানসম্পন্ন খেলোয়াড়। প্রশিক্ষিত কোচ, প্রশিক্ষিত ফুটবলার
বাংলাদেশে রয়েছে। আধুনিক ফুটবল শিক্ষায় শিক্ষিত কোচের ব্যাপক ঘাটতি। সবাই হতে চান ঢাকাকেন্দ্রিক, কারণ মফস্বলে নেই যথাযথ অর্থের সংস্থান। এই যে বিপিএল বা বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ; যাকে আমার বলছি পেশাদারি লিগ, সেখানে ‘এ’ বা ‘বি’ লাইসেন্স কোচের সংখ্যা কতজন? ‘সি’ লাইসেন্সধারীদের নিয়ে অনেকক্ষেত্রে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে, আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে কোচকে রাখা হচ্ছে নামমাত্র। দেশে ফুটবলের শিক্ষিত কোচের সংখ্যা খুবই কম। একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরতে চাই আপনাদের সামনে, বাংলাদেশে স্বীকৃত প্রশিক্ষিত কোচের সংখ্যা উয়েফা ‘এ’ লাইসেন্স ১ জন, এএফসি ‘এ’ লাইসেন্স ১৭ জন, এএফসি ‘বি’ লাইসেন্স ৫৩ জন, এএফসি ‘সি’ লাইসেন্স ৮৫ জন । অর্থাৎ মোট ১৫৬ জন প্রশিক্ষিত কোচ রয়েছেন দেশে।
কমিউনিটি ফুটবল চালু করা
এটি বাফুফের পক্ষে সরাসারি করা সম্ভব না হলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ও সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার ব্যবস্থাপনায় বয়সভিত্তিক ফুটবল চালু করার পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পরে, যেটা ছেলে-মেয়েদের মানসিক বুদ্ধি বিকাশে সাহায্য করতে পারে। এই টুর্নামেন্ট ওয়ার্ডভিত্তিক হয়ে পরবর্তীতে জেলা পর্যায় পর্যন্ত সীমিত রাখা যেতে পারে। তাতে করে সারাদেশে বঙ্গবন্ধু গোল্ড কাপ খেলা খুদে ফুটবলাররা পেতে পারে নিজেদের প্রমাণ করার নতুন এক মঞ্চ। নতুন পরিকল্পনা, সরকারি-বেসরকারি আর্থিক সহায়তা; একই সঙ্গে বাফুফে, ক্লাব, জেলা ফুটবল সংস্থাগুলোর আন্তরিক চেষ্টা এবং চিন্তায় এদেশের ফুটবল এগিয়ে যাবে, এই বিশ্বাস হারাতে চাই না আমরা।
/আরএম/এফএইচএম/