টাকার অভাবে সাতক্ষীরার মেয়েদের ওয়াকওভার

জেএফএ কাপটাকার অভাবে ঢাকায় অনুষ্ঠিত মেয়েদের জেএফএ কাপ অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলের সেমিফাইনালে ওয়াকওভার দিয়ে ফিরে এসেছে সাতক্ষীরা দল।  আর এমন ঘটনায় একে অপরকে দায়ী করেছেন সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খান ও টিম লিডার আকবর আলী।

সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কোচ আকবর আলী জানান, ‘জেএফএ কাপ অনূর্ধ্ব-১৪ টুর্নামেন্টের জন্য ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছিল সাতক্ষীরা জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফএ)। এর মধ্যে ২৫ হাজার টাকা অংশগ্রহণ ফি বাবদ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিল বাফুফেই। বাকি ১৫ হাজার টাকার মধ্যে মাত্র ৫ হাজার টাকা দেন সাতক্ষীরা জেলা ডিএফএর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খাঁন। পরে বাকি টাকা চাইলে তিনি টাকা ম্যানেজ করা যাচ্ছেনা বলে সাফ জানিয়ে দেন। তাদের বাড়ি ফিরে আসার পরামর্শ দেন। এরপরেই ১০ ডিসেম্বর ফিরে আসেন কোচ আকবর আলীসহ তার নারী ফুটবলাররা। আর এ কারণেই ১২ তারিখের খেলায় সাতক্ষীরার বিপক্ষে ওয়াকওভার পায় ময়মনসিংহ।  সামান্য ১০ হাজার টাকার জন্য জেএফএ কাপ অনূর্ধ্ব-১৪ মেয়েদের ফুটবলে সাতক্ষীরা দল অংশগ্রহণ করতে পারেনি।’

এ প্রসঙ্গে নারী ফুটবলার ফারজানান সুলতানা, সারাবান জহুরা, তামান্না সুলতানা ও পারভিন সুলতানা জানান, ‘হঠাৎ করেই আমাদের স্যার (কোচ আকবর আলী) আমাদের জানান, আমার কাছে আর কোনও টাকা নেই। তাই বাধ্য হয়ে আমাদের সেমিফাইনালে অংশগ্রহণ না করেই চলে যেতে হবে।’

এ ঘটনায় সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য আরিফ হাসান প্রিন্স জানান, ‘সামান্য টাকার জন্য আমাদের নারী ফুটবলাররা সেমিফাইনালে না খেলে চলে আসবেন এটা আমাদের জন্য খুবই দুঃখ জনক। ’

এসময় তিনি সাতক্ষীরা জেলা ডিএফএর সভাপতিকে দোষারোপ করে আরও জানান, ‘সাতক্ষীরা জেলা ডিএফএর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খাঁন তার চেয়ার ঠিক রাখার জন্য একের পর এক অনিয়ম-দুর্নীতি করেই চলেছেন।’

অবশ্য এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা ডিএফএর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম খাঁন তার বিরদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, ‘টিম লিডার আকবর আলী আমাদেরকে জিম্মি করে অনেক টাকা হাতিয়ে নেন। তিনি অতিরিক্ত টাকা দাবি করাতে আমরা তা দিতে না পারায় তিনি টিম নিয়ে ঢাকা থেকে ফিরে এসেছেন।’

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন জানান, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি, এটি খুবই দুঃখজনক। টাকার অভাবে এভাবে ঢাকা থেকে না খেলে ফিরে আসার আগে আমাকে জানানো উচিত ছিল। ফিরে আসার পর আমাকে জানানো হয়েছে। এটি খতিয়ে দেখা হবে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 /এফআইআর/