এই ড্রতে আর্জেন্টিনা নেমে গেছে পয়েন্ট টেবিলের ষষ্ঠ স্থানে। যাতে এখন আর প্লে অফ খেলার জায়গাতেও থাকলো না ২৫ পয়েন্টের আর্জেন্টিনা। কারণ ইকুয়েডরের বিপক্ষে চিলি ২-১ গোলে জিতে যাওয়ায় তারা উঠে গেছে তৃতীয় স্থানে। আর আর্জেন্টিনা নেমে গেছে ছয়ে।
‘আক্রমণ চালিয়ে যাব ম্যাচের পুরো সময়’- কথা রেখেছেন হোর্হে সাম্পাওলি। পেরুর বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এটাও বলেছিলেন, ‘পেরুর অর্ধে গিয়ে খেলব আমরা সবসময়।‘ পুরো সময় না পারলেও বেশিরভাগ সময়ই খেলাটা হয়েছে পেরুর অর্ধে। এখানেও ‘ওয়াদা’ ভঙ্গ করেননি আর্জেন্টাইন কোচ। তবে শিষ্যদের জয়ের যে বাণী শুনিয়েছিলেন, সেটা আর করে দেখাতে পারলেন না। আর পারলেন না বলেই আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নের পথে খেল বড় ধাক্কা।
দুর্ভাগ্য জড়িয়ে ধরলে এমনই হয়। সেদিন মেসির পায়ের জাদু দেখা যায় না, বল আঘাত করে গোলপোস্টে, প্রতিপক্ষের গোলরক্ষক হয়ে দাঁড়ান চীনের প্রাচীর। বল পজেশন, আক্রমণ কিংবা সুযোগ তৈরি সব কিছুতেই এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তাতে অবশ্য বিশ্বকাপে যাওয়ার টিকিট মিলবে না। সে জন্য দরকার ছিল গোল ও জয়। যে দুটোর একটাও পায়নি আর্জেন্টিনা ঘরের মাঠ স্তাদিও আলবার্তো হোসে আলমান্দোতে। আক্রমণ ঠিকই চালিয়ে গেছে গোটা ম্যাচে, কিন্তু ফুল আর ফোটাতে পারেনি। উল্টো কাঁটায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে আলবিসেলেস্তেরা আরেকবার।
১৩ মিনিটে যে সুযোগটা পেয়েছিল আর্জেন্টিনা, সেখানেই এগিয়ে যেতে পারতো তারা। আনহেল দি মারিয়ার নিচু কর্নারে মেসি বক্সের সামান্য ভেতর থেকে শট নিয়েছিলেন, গোলমুখেই ছিল বল, কিন্তু পেরুর এক খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে বল চলে যায় বাইরে। সেই শুরু সুযোগ নষ্টের; এরপর একে একে ভালো সম্ভাবনাকে হতাশায় রূপ দিয়েছেন আলেহান্দ্রো গোমেস, দারিও বেনেদিতো, এভার বানেগা, এমিলিয়ানো রিগোনিরা।
এর তিন মিনিট আগে আলেহান্দ্রো গোমেস মিস করেছেন সুবর্ণ সুযোগ। মেসির ডিফেন্সচিড়া পাস বক্সের ভেতর নিজের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিলেন আতালান্তার এই উইঙ্গার। সামনে ছিলেন কেবল পেরুর গোলরক্ষক পেদ্রো গায়েস, কিন্তু গোমেসের শট নেওয়া বল সরাসরি আঘাত করে তার মুখে।
অবশ্য বিরতি থেকে ঘুরে আসার পরই আর্জেন্টিনা পায় এগিয়ে যাওয়ার দুর্দান্ত সুযোগ। কিন্তু ফুটবলদেবতা আবারও ফিরিয়ে নিলেন মুখ। তা না হলে পোস্টে লেগে বল কেন প্রতিহত হবে! মেসির পাস ধরে দারিও বেনেদিতো শট করেছিলেন গোলমুখে, যদিও তা প্রতিহত হয় পেরুর গোলরক্ষকের গায়ে লেগে। ফিরতি বল পেয়ে মেসি শট করলে তা ফিরে আসে পোস্টে লেগে।
ভাগ্যের এই মারপ্যাচে মেসিদের বিশ্বকাপ পথটা হয়ে গেল আরও কঠিন। শেষ আশা হয়ে বেঁচে আছে এখন ইকুয়েডরের বিপক্ষে ম্যাচ, ১০ অক্টোবরের ম্যাচটি অ্যাওয়ে। অবশ্য ওই ম্যাচটা জিতলেই হবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলগুলোর ফলের দিকেও। তার মানে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ ভাগ্য আর শুধু নিজেদের হাতে নেই।