গত মৌসুমে যেই ডাগআউটে বার্সার কাছে হারের হতাশায় পুড়েছিলেন এর্নেস্তো ভালভারদে, এবার সেখান থেকে ফিরলেন হাসিমুখে। সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে রণকৌশল সাজিয়ে সফল হলেন বার্সা কোচ। বিলবাও অগণিত সুযোগ তৈরি করে চাপে ফেলেছিল বার্সাকে। তবে সব শঙ্কা দূর করে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রস্তুতি জয়ে সারলো কাতালান জায়ান্টরা।
আগের ৯ ম্যাচে মাত্র ২ পয়েন্ট হারানো বার্সেলোনাকে শুরু থেকে তটস্থ করে রাখে বিলবাও। স্যান মেমেসে স্বাগতিকদের কয়েকটি টানা আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে মেসি-সুয়ারেসদের। টের স্টেগান ওই বিপদের মুহূর্তগুলো ভালোভাবে সামলান। বার্সার এই গোলরক্ষক দুই অর্ধেই দারুণ দক্ষতায় বিলবাওকে হতাশ করেছেন।
টের স্টেগানকে প্রথম পরীক্ষা দিতে হয়েছে ১৮ মিনিটে। ডানপ্রান্ত থেকে উইলিয়ামস ক্রস দেন বার্সার ডিবক্সে। গোলমুখের সামনে লাফিয়ে দুর্দান্ত হেড করেন আদুরিজ। ডানদিকে ঝাপিয়ে পড়ে তার শটকে রুখে দেন বার্সা গোলরক্ষক। চাপে থাকা বার্সাকে এক মিনিট পর আবারও পরীক্ষা নেয় স্বাগতিকরা। আদুরিজ বল নিয়ে ঢুকে যান ডিবক্সে, সামনে ছিলেন কেবল টের স্টেগান। আবারও জার্মান গোলরক্ষকের কাছে বাধা পান বিলবাও ফরোয়ার্ড। তার নিচু শট সহজে ঠেকান বার্সার গোলপোস্টের রক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধেও সবচেয়ে বেশি সুযোগ পেয়েছে বিলবাও। কিন্তু কাজে আসেনি। ৫৩ মিনিটে গার্সিয়ার হেড টের স্টেগান ধরতে না পারলেও ক্রসবারে লাগে। শেষ ৪৫ মিনিটে এমন সুযোগ তারা পেয়েছে আরও কয়েকটি, সেগুলো হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট। ৭১ মিনিটে গার্সিয়া বেশ ফাঁকা জায়গা পেয়েছিলেন। কিন্তু তার শট জালে না জড়িয়ে গোলপোস্টের পাশ দিয়ে চলে যায়। আদুরিজের ৭৮ মিনিটের শট ফের ঠেকিয়ে দেন টের স্টেগান। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার ৫ মিনিট আগে আরও একবার বার্সা গোলরক্ষকের দুর্দান্ত ডাইভ। আদুরিজের হেড লাফিয়ে পড়ে গোলমুখে ঢুকতে দেননি তিনি।
বিলবাওর এমন কয়েকটি সুযোগ নষ্টের দিনে বার্সা শেষ মিনিটে ব্যবধান বাড়াতে সফল হয়। ইনজুরি সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির বাড়িয়ে দেওয়া বলে বাঁপ্রান্ত থেকে লক্ষ্যে শট নেন লুই সুয়ারেস। তার শট ধরে রাখতে পারেননি স্বাগতিক গোলরক্ষক কেপা, বল চলে যায় ডানদিকে। সহজেই প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ান পাউলিনিয়ো।
এদিকে আগের ম্যাচে ভ্যালেন্সিয়া ২-১ গোলে আলাভেসকে হারায়। ১০ ম্যাচে তারা ২৪ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে। ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে ড্র করার পর অ্যাতলতিকো মাদ্রিদ ২০ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে। এক ম্যাচ কম খেলে তাদের সমান ২০ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ তৃতীয়। গোল ডটকম, ইএসপিএনএফসি