পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের বয়স ২০ বছরেরও বেশি, তবু এখনই অবসরের কথা ভাবছেন না কাঞ্চন। রবিবার তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘আগামী মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে খেলবো, এটা আমার কাছে অনেক কিছু। আরও দুয়েক মৌসুম খেলে অবসরে যেতে চাই। যতদিন ফিটনেস আছে, ততদিন খেলবো। শৃঙ্খলাই আমার কাছে মূল কথা।’
বয়স হয়ে গেছে ৩৭। এই বয়সে ৯০ মিনিট খেলে যাওয়া সোজা কথা নয়। কাঞ্চনের কাছে এক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক ফরোয়ার্ড রায়ান গিগস। ৪১ বছরে বয়সে অবসর নেওয়া গিগসের উদাহরণ টেনে কাঞ্চন বললেন, ‘রায়ান গিগস অনেকদিন খেলেছেন, আমি তাকেই অনুসরণ করি। আমার মনে হয়, সবকিছু নিয়ম-মাফিক করতে পারলে জীবনে অনেক কিছু সম্ভব।’
নিয়ম-শৃঙ্খলা বিষয়ে বর্তমান প্রজন্মের ফুটবলারদের নিয়ে হতাশ এই স্ট্রাইকার, ‘আমি এখনও অনেক নিয়ম মেনে চলি। অথচ অনেক খেলোয়াড়কে দেখি সন্ধ্যা হলেই ফেইসবুক-ইউটিউব নিয়ে পড়ে থাকে, আর মাঝরাত পর্যন্ত জেগে থাকে। তাই সকালে ঠিকমতো অনুশীলন করতে পারে না। এভাবে জীবন-যাপন করে ভালো ফুটবলার হওয়া কঠিন। আধুনিক যুগে সব কিছুই করতে হবে, তবে সময় আর নিয়ম মেনে।’
সাফ ফুটবলে বাংলাদেশের একমাত্র শিরোপাজয়ী দলের সদস্য কাঞ্চন। ২০০৩ সালে ঢাকার মাঠে শিরোপা এনে দেওয়ার পথে গোল করেছিলেন সেমিফাইনাল আর ফাইনালে। জাতীয় দলের হয়ে এক যুগ খেলেছেন, সর্বশেষ বাংলাদেশের জার্সিতে খেলেছিলেন ২০১০ সালে এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপে। এরপর সাত বছর কেটে গেলেও আবার লাল-সবুজ জার্সি পরার স্বপ্ন দেখেন কাঞ্চন, ‘আমি চাই তরুণ ফুটবলাররা জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করুক। তবে বাফুফে কিংবা কোচ যদি মনে করেন আমার কাছ থেকে জাতীয় দল উপকৃত হতে পারে, তাহলে খেলতে সমস্যা নেই। জাতীয় দলের হয়ে দুয়েকটি টুর্নামেন্ট খেলেই অবসরে যেতে চাই।’