একজন অটো ফিস্টার এবং বাংলাদেশ

অটো ফিস্টারঅটো ফিস্টারের কথা মনে আছে? আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের প্রথম সাফল্য এসেছিল এই জার্মান কোচের হাত ধরে। বাংলাদেশে তিনি কাজ করেছিলেন ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত। বাংলাদেশ-জার্মানি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির বিনিময়ে আসা ফিস্টারের অধীনে ১৯৯৫ সালে মিয়ানমারে চার জাতি টুর্নামেন্টের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছিল লাল-সবুজের দল। মোনেম মুন্নার নেতৃত্বে সেই দলে ছিলেন ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব, আলফাজ আহমেদ, মামুন জোয়ার্দার, মাসুদ রানা, হাসান আল মামুন, মোহাম্মদ পনির, জাকির হোসেন, মিজানুর রহমান, সোহেল আল মাসুমের মতো এক ঝাঁক তারকা।

অটো ফিস্টারের বয়স এখন ৮০ বছর। এখনও তিনি কোচিংয়ের সঙ্গে জড়িত! বর্তমানে আফগানিস্তানের কোচের দায়িত্বে ফিস্টার। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি ফুটবলে এগিয়ে যাচ্ছে তার তত্ত্বাবধানে। গত মাসে এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে শক্তিশালী জর্ডানকে ৩-৩ গোলে রুখে দিয়েছিল আফগানিস্তান।

এত বয়সে কোনও জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব নেওয়া সোজা কথা নয়। ফিস্টার অবশ্য সব সময় চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসেন। বাংলাদেশেও এসেছিলেন নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে। এদেশের দুর্ভাগ্য, তার মতো কোচকে ধরে রাখা যায়নি।

বাংলাদেশ থেকে বিদায়ের পর ফিস্টারের সাফল্য রীতিমতো ঈর্ষণীয়। তার কোচিংয়ে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেছিল সৌদি আরব। আফ্রিকান দেশ টোগোর বিশ্বকাপে একমাত্র অংশগ্রহণও ফিস্টারের অধীনে, ২০০৬ সালে জার্মানিতে। বয়সের কাছে হার না মেনে এগিয়ে চলেছেন এই অভিজ্ঞ কোচ।

ফিস্টারের মতো কোচকে ধরে রাখতে না পারার আক্ষেপ এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় হাসান আল মামুনকে। সাবেক তারকা ডিফেন্ডার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘অটো ফিস্টারের অধীনে মিয়ানমারে আমরা প্রথম ট্রফি জিতেছিলাম। তারপর তার কোচিংয়ে মাদ্রাজ (এখন চেন্নাই) সাফ গেমসে রানার্স-আপ হই। তার মতো এত বড় মাপের কোচ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। সেই সময়ের কর্মকর্তারা তাকে ধরে রাখতে পারলে বাংলাদেশের ফুটবলের চেহারাই পাল্টে যেতো।’

মিয়ানমারের মাটিতে ২২ বছর আগের সাফল্য এখনও হাসানের স্মৃতিতে উজ্জ্বল, ‘গ্রুপ পর্বে আমরা চার গোলে মিয়ানমারের কাছে হেরেছিলাম। ওই ম্যাচের পর ফিস্টার আমাদের নানাভাবে উজ্জীবিত করেন। কখনও কোচ হিসেবে, কখনও অভিভাবকের সুরে কথা বলতেন আমাদের সঙ্গে। এরপর তো মুন্না ভাইয়ের নেতৃত্বে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলাম আমরা।’

শুধু ফিস্টার নন, ১৯৯৯ সাফ গেমস জয়ী সামির শাকির কিংবা ২০০৩ সাফ ফুটবল জয়ী জর্জ কোটানের মতো দুই দক্ষ কোচকেও ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ফুটবল তাই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি আজও।