দীর্ঘদেহী আঁখিকে ওভারল্যাপ করে ওপরে উঠতে দেখে অনেকের মনে পড়ছিল দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার কায়সার হামিদের কথা। বাংলাদেশ দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন অবশ্য আঁখির মধ্যে দেখতে পান ইতালির কিংবদন্তি পাওলো মালদিনির ছায়া। হাসিমুখে কোচের প্রশস্তি, ‘আঁখি আজ নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। সে বার বার ওপরে উঠে ত্রাস সৃষ্টি করছিল ভুটানের ডিফেন্সে। আমার দলের অন্যতম ভরসা সে। আঁখির মধ্যে মালদিনির ছায়া দেখতে পাচ্ছি।’
বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ থেকে উঠে আসা আঁখি বিকেএসপিতে নবম শ্রেণিতে পড়ছে। ২০১৫ সালে বয়সভিত্তিক দলে ডাক পেয়েছিল সে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তার প্রথম অংশগ্রহণ গত বছর তাজিকিস্তানে অনূর্ধ্ব-১৪ আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়নশিপে। সেই টুর্নামেন্টে নেপালের বিপক্ষে একটি গোল করেছিল। ঘরের মাঠে জীবনের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় আজ করলো জোড়া গোল।
ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়ে আঁখি উচ্ছ্বসিত, ‘আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথমবারের মতো জোড়া গোল করে আমি খুব খুশি। হ্যাটট্রিক করতে না পারলেও কষ্ট পাইনি। এনিয়ে আফসোস করার কিছু নেই। দল জিতেছে এটাই সবচেয়ে বড় কথা।’
আঁখির দ্বিতীয় গোলটি ছিল অসাধারণ। অনুশীলনে প্রায়ই ফ্লিক করে গোল করার চেষ্টা করে সে। আজ ম্যাচে এভাবে গোল করে আঁখি জানালো, ‘টিভিতে বার্সেলোনার খেলা দেখি। মেসিদের খেলা দেখে প্র্যাকটিস করি, সেটপিস থেকে গোল করা চেষ্টা করি। আজ ম্যাচেও সফল হয়েছি। আমার ভাই নাজমুল ইসলাম আমাকে ইউটিউবে খেলা দেখায়। সেখান থেকে অনেক কিছু জানতে পারছি।’