সাফের সেরা হওয়ার আভাস শুরু থেকে দিয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথম থেকে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে তারা। আধিপত্য বিস্তার করে প্রতিপক্ষের ওপর চড়াও হয়েছে। তবে আক্রমণে এগিয়ে থেকেও এবার এক গোলের বেশি আসেনি। প্রতিপক্ষ ভারতের রক্ষণভাগ আগের চেয়ে শক্ত করে খেলায় তহুরা-মনিকারা একাধিক গোল বের করে আনতে পারেননি।
প্রথম মিনিটেই মার্জিয়ার ক্রসে গোলরক্ষকের হাত ফসকে বল বের হলে তহুরার শট জালে জড়ায়। উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়লেও সেটা বেশিক্ষণ থাকেনি। কারণ ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন ভুটানের রেফারি চকি ওম। তবে ভেঙে পড়েনি স্বাগতিকরা। সুযোগ পায় কয়েকবার। ৬ মিনিটে মার্জিয়ার বাঁ প্রান্ত থেকে কর্নারে আনুচিং মোগিনির হেড গোলবারের উপর দিয়ে যায়। ১৬ মিনিটে ডান প্রান্তের ক্রসে আনুচিংয়ের হেড চলে যায় পোস্টের বাইরে।
আনুচিং ২২ মিনিটে গোলরক্ষককে একা পেয়েও তার গায়ে মেরে সুযোগ নষ্ট করেন। তহুরা ভারতের দুজনকে কাটিয়ে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে যান, কিন্তু ৩২ মিনিটে তার নেওয়া ওই কোনাকুনি শট শেষ পর্যন্ত ঠিকানা খুঁজে পায়নি। সাইড বার ঘেঁষে বল চলে যায় বাইরে।
বিরতির পর বল নিয়ন্ত্রণে নেয় বাংলাদেশ। কখনও উইং দিয়ে, আবার কখনও কর্নার থেকে গোল ব্যবধান বাড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালায়। কিন্তু সফল হতে পারেনি। ৪৬ মিনিটে মার্জিয়ার কর্নারে আনুচিংয়ের হেড গোলবারের উপর দিয়ে যায়। ৫৭ মিনিটে আবারও আনুচিং ব্যর্থ হন লক্ষ্যভেদ করতে, ভারতীয় গোলরক্ষক মনিকা বাঁ হাত দিয়ে ঠেলে বল বাইরে পাঠান।
ব্যবধান দ্বিগুণ করার দারুণ সুযোগ আবার পায় বাংলাদেশ। ৬১ মিনিটে মার্জিয়া-আনুচিং থেকে তহুরা বল পান, সামনে কেবল ছিলেন গোলরক্ষক। কিন্তু সঠিক সময়ে লক্ষ্যে শট নিতে পারেননি তিনি।
বাংলাদেশের মুহুর্মুহু আক্রমণে ভারতের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষক ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েছিল। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের সুস্মিতা-বন্যারা অনেক চেষ্টা করেও স্বাগতিক গোলরক্ষক মাহমুদা আক্তারকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারেননি।
এনিয়ে ফুটবলে বাংলাদেশের মেয়েদের শিরোপা হলো তিনটি। দুটিই এসেছে এএফসি আঞ্চলিক পর্ব থেকে। ২০১৫ সালে নেপালে ও ২০১৬ সালে তাজিকিস্তানে অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল মেয়েরা। এবার তৃতীয় শিরোপা তারা জিতলো সাফের মতো আসরে। স্বাগতিকরা আধিপত্য দেখিয়ে এসেছে এতদূর। এর আগে সাফে রানার্সআপ হয়েছিল গোলাম রব্বানী ছোটনের দল।
সাফের মূল আসরে এই ভারতের কাছে হেরে গত বছর শিলিগুড়িতে শিরোপা জেতা হয়নি বাংলাদেশের জাতীয় দলের। এবার সেই হারের প্রতিশোধ নিলো কিশোরীরা। অপরাজিত থেকে হলো চ্যাম্পিয়ন। লিগে নেপালকে ৬-০, ভুটান ও ভারতকে ৩-০ গোলে হারানোর পর ফাইনালেও শেষ বাধা পার করলো তারা।