ইনিয়েস্তাকে বার্সার মূল দলে আনা ফন হালের খোলা চিঠি

লুই ফন হালের সঙ্গে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাবার্সেলোনায় দুই দফা কাজ করেছেন লুই ফন হাল। সব মিলিয়ে দায়িত্বে থাকা চার মৌসুমে কাতালান ক্লাবটির তরুণ খেলোয়াড়দের দিকে বাড়তি নজর রেখেছেন তিনি। তরুণদের প্রয়োজনীয়তা খুব ভালো বুঝছেন বলেই বার্সেলোনার যুব দলের খেলা দেখতেন নিয়ম করে। ফন হালের হাত ধরেই তাই যুব দল থেকে বার্সেলোনা পেয়েছে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, কার্লেস পুয়েল, ভিক্তর ভালদেস, থিয়াগো মোত্তা, পেপে রেইনাদের মতো সব গ্রেট খেলোয়াড়কে।

দীর্ঘ ২২ বছরের বার্সেলোনা জীবনের ইতি টেনে দিয়েছেন ইনিয়েস্তা। লা মাসিয়া, বার্সেলোনা যুব দলে হয়ে এই মিডফিল্ডার মূল দলে সুযোগ পেয়েছিলেন ফন হালের হাত ধরে। যুব দলে তরুণ ইনিয়েস্তার খেলা দেখে মুগ্ধ ডাচ কোচ ২০০২-০৩ মৌসুমে মূল দলে সুযোগ করে দেন স্প্যানিশ তারকাকে। পরের সময়টা ইতিহাস। শুক্রবার কাতালান ক্লাবকে বিদায় জানানো ইনিয়েস্তাকে নিয়ে খোলা চিঠি লিখেছেন ফন হাল। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’য় ছাপা হওয়া চিঠিটি বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

 

বার্সেলোনার কোচ থাকার সময় আমি সবসময় ভাবতাম, তরুণ খেলোয়াড়দের সুযোগ দেওয়াটা সবচেয়ে জরুরি। প্রত্যেক সপ্তাহে আমি যুব দলের খেলা দেখতাম আমার কোচিং স্টাফের সঙ্গে। নজরে রেখেছিলাম আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জাভি এর্নান্দেস, থিয়াগো মোত্তাকে... আন্দ্রেসকে (ইনিয়েস্তা) দেখে আমি উপলব্ধি করি, ও একটা সুযোগের দাবিদার।

মনে হয়েছিল, যুব দলে ইতিমধ্যে ও নিজের অসাধারণ গুণমান প্রদর্শন করেছে, যা মূল দলে বিকশিত হতে পারে। দেখেছিলাম মাঠে ও কীভাবে কাজ করে। জাভিও ঠিক একই ছিল। অনেক মানুষ বলতো, ওরা দুজন একই। তবে আমি বুঝেছিলাম ইনিয়েস্তার দক্ষতা অনেক বেশি, কারণ ট্যাকটিক্যালি ও অসাধারণ।

অন্য সবার আগে ও সব বিষয় দেখে ফেলতো এবং জানতো ছোট জায়গার ভেতর দিয়ে ঠিক কী করতে হবে। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ও সবসময় ঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে, একই সঙ্গে পাসিংয়ে ছিল খুব দ্রুত। লিওর (মেসি) মতো তারও ড্রিবলিং দক্ষতা ছিল চমৎকার, তবে ছোট জায়গায় ওর দক্ষতাটা ছিল সবচেয়ে বেশি। আর এই দক্ষতা ধরা পড়ে মাত্র ১৭ বছর বয়সেই।

এমন দক্ষতা প্রদর্শনের পরও ওই মুহূর্তে ভাবা খুব কঠিন ছিল যে, ইনিয়েস্তা এতদূর আসতে পারবে। কিন্তু ভাবনাকেও ছাড়িয়ে গেছে সে। ফুটবলার হিসেবে ইনিয়েস্তার শ্রেষ্ঠত্ব কখনও এতটুকু কমেনি, কারণ ও সবসময় দুর্দান্ত পেশাদার।

একই সঙ্গে ব্যক্তি হিসেবেও ও দারুণ। যখন একজন ভালো মানুষ তার বিনয়ী মনোভাবের সঙ্গে চারপাশে সঠিক মানুষকে পায়, তখন সবকিছু এমনিতেই সহজ হয়ে যায়। এটা সত্যি ও সে রকম দৈহিক গড়নের কোনও খেলোয়াড় ছিল না। তবে সময় নিয়ে শারীরিক গড়ন হয়তো উন্নতি করা যায়, কিন্তু ট্যাকটিক্যাল গুণমানের উন্নতি করাটা কঠিন।

ওই সময় শারীরিক বিষয় খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল না, যেমনটা এখন দরকার হয়। এখন শারীরিক দিক থেকে শক্তিশালী খেলোয়াড়ের কদর খুব বেশি এবং গুরুত্বপূর্ণও। যে খেলোয়াড় ট্যাকটিক্যালি ভালো ও দ্রুতগতির তাদের জয় হবেই। যা ঘটেছে ইনিয়েস্তা, জাভি ও মেসির বেলায়। ওরা এতটাই দ্রুতগতির যে শারীরিক বিষয় খুব একটা দরকারই পড়েনি।

আমি ভীষণ খুশি ইনিয়েস্তার এই অসাধারণ ক্যারিয়ারের জন্য। এটা শুধুমাত্র ও দারুণ খেলোয়াড় বলে নয়, চমৎকার একজন মানুষের কারণেও। বর্তমান ফুটবলে যার দেখা পাওয়াটা সহজ নয়।