পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫৩ সালে ঝিনাইদহ শহরের পার্কপাড়ায় এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেন আফাঙ্গীর। তার বাবার নাম মৃত শামছুদ্দীন আহম্মেদ। ঝিনাইদহ তখন বন বাদাড়ের শহর। রাস্তাঘাট নেই। তখন থেকেই ফুটবলের হাতেখড়ি তার। কৈশোর থেকে যৌবন পর্যন্ত মাঠ দাপিয়ে নিজ দলকে জয়ী করেছেন। সুউচ্চে তুলে ধরেছেন ঝিনাইদহকে।
সেই আফাঙ্গীর ৬৫ বছর বয়সে এসে এখনও ফুটবল খেলেন। তাই তো ঝিনাইদহ উজির আলী স্কুল মাঠ ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্টেডিয়ামে সকাল বিকাল প্র্যাকটিসে তাকে দেখা যায়। এই বয়সে আফাঙ্গীরের ফুটবল খেলা দেখে নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়রা অনুপ্রাণিত হয়। ফুটবল মাঠে তাকে গুরু বলে সম্মান করেন, নতুন প্রজন্মকে দেন পরামর্শ এবং শেখান কলা কৌশল।
আফাঙ্গীর জানান, ১৯৭২ সাল থেকে তিনি ফুটবল খেলেন। সেই যে মাঠে দৌড়ানোর শুরু, এখনও অবিরাম আর প্রাণবন্ত ফুটবল খেলেন মাঠে। প্রথমে মহাকুমা ও পরে বৃহত্তর যশোর জেলা টিমে খেলেছেন। নিয়মিত লিগ খেলেছেন ঢাকা ও খুলনায়। মহাকুমা থেকে জেলায় রুপান্তরিত হওয়ার পর থিতু হয়েছেন ঝিনাইদহ জেলা ফুটবল টিমে। এক নাগাড়ে ১৫ বছর ঝিনাইদহ জেলা ফুটবল টিমের অধিনায়ক হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দল পরিচালনা করেছেন। কিন্তু তার কোনও মূল্যায়ন হয়নি। নেতৃত্ব দেওয়া হয়নি ক্রীড়া সংস্থার। এতে আফাঙ্গীরের কোন ক্ষোভ বা দুঃখ নেই। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য হয়ে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে জেলাবাসীর জন্য কাজ করে যেতে চান তিনি।
১৯৮৫ সালে আফাঙ্গীর কালীগঞ্জে বিয়ে করেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই মেয়ের বাবা। নিজ বাড়িতেই রয়েছে হ্যাপার ব্যাগ তৈরির কারখানা। স্বামী স্ত্রী মিলে সেখানেই অবসর সময় কাটান।
ফুটবলার আফাঙ্গীর সম্পর্কে হরিণাকুন্ডু ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সেক্রটারি ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহেদ জোয়ারদার জানান, জেলার একজন গুণী ফুটবলার হিসেবে তিনি খ্যাত। এই বয়সেও যে তিনি এখনও মাঠে ফুটবল খেলেন এটা অবাক করার বিষয়।