বাংলাদেশের খেলা দেখেই খুশি নীলফামারীর মানুষ

বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা ম্যাচে দর্শকদের একাংশখেলা শুরু বিকেল ৪টায়, তবে শেখ কামাল স্টেডিয়ামের গেটের সামনে লম্বা লাইন সেই বেলা ১২টা থেকে। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার ম্যাচ নীলফামারীর দর্শকদের কাছে অন্যরকম পাওয়া। তাই বাংলাদেশ ১-০ গোলে হারলেও পুরো সময় তারা গলা ফাটানো চিৎকার আর করতালিতে সমর্থন দিয়ে গেছে প্রিয় দলকে।

প্রায় ২০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামের বাইরে দর্শকদের ঢল নামতে শুরু করে বেলা ১২টা থেকে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে একে একে ভেতরে প্রবেশ করতে শুরু করেন দর্শকরা। প্রখর রোদ উপেক্ষা করে দুপুর দেড়টার মধ্যে স্টেডিয়াম এলাকায় তিল ধারণের ঠাঁই নেই। দুপুর আড়াইটার মধ্যে স্টেডিয়াম কানায় কানায় পূর্ণ। ম্যাচের প্রায় পুরোটা সময় ফুটবলপ্রেমী দর্শকরা ‘বাংলাদেশ, বাংলাদেশ’ চিৎকারে সমর্থন দিয়ে গেছেন নিজের দেশকে।

যদিও হতাশাতেই শেষ হয়েছে ম্যাচ। লঙ্কানদের বিপক্ষে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। দ্বিতীয়ার্ধে একের পর এক আক্রমণ চালালেও এড়াতে পারেনি ১-০ গোলের হার। হারের হতাশা থাকলেও এমন একটি ম্যাচ স্টেডিয়ামে বসে সরাসরি দেখতে পাওয়ার আনন্দ ছুঁয়ে গেছে সবাইকে।

জেলার ডোমার উপজেলার হলহলিয়া গ্রামের জগদীশ রায়ের মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। ‘সোনার হরিণ’ হয়ে ওঠা টিকিট পেয়ে খেলা দেখার সুযোগ হয়েছে যে তার। ম্যাচ শেষে তার আনন্দ প্রকাশ পেল এভাবে, ‘আন্তর্জাতিক খেলাগুলো টেলিভিশনে দেখতাম। কখনও ভাবতে পারেনি বাড়ির পাশেই এমন একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ উপভোগ করতে পারব। ম্যাচ দেখে খুবই আনন্দ পেয়েছি।’

স্টেডিয়ামের গেটের সামনে লম্বা লাইনজগদীশ জানিয়েছেন, আসন সীমাবদ্ধতার কারণে নিজ জেলার স্টেডিয়ামে খেলা হলেও অনেকেই সরাসরি ম্যাচ দেখতে পারেননি। তাদের মধ্যে সদর এলাকার পান ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম একজন। এতটা কাছে বাংলাদেশ দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ, অথচ দেখার সুযোগ হয়নি তার। আক্ষেপ করে বললেন, ‘টিকিট না পেয়ে সরাসরি দেখতে পারলাম না খেলাটি। এরপরও মিস করিনি, টেলিভিশনের সামনে বসে উপভোগ করেছি।’