‘দায়মুক্তি’র ম্যাচ জিতে উল্লাস

দর্শকদের মুখে হাসি ফুটিয়ে জয় পেয়েছে বাংলাদেশএ যেন বাংলাদেশের ‘দায়মুক্তির’ ম্যাচ। দুই বছর আগে ভুটানের কাছে হেরে তছনছ হয়ে গিয়েছিল এদেশের ফুটবল। এএফসি এশিয়ান কাপের প্রাক-বাছাই পর্বের হার ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ঠেলে দিয়েছিল ১৯৪ নম্বরে। ম্যাচটা তাই ছিল প্রতিশোধের, অনেক হিসাব-নিকাশ মেটানোর। ভুটানের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় তাই ফুটবলাঙ্গনে এনে দিয়েছে স্বস্তি আর উচ্ছ্বাস।

দ্বাদশ সাফ ফুটবলের সূচনালগ্নে সহজ জয়ের সাক্ষী হয়ে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার দশেক দর্শক উল্লসিত। তাদেরই একজন রাজধানীর খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা হামিদুর রহমান নাইম। নববধূকে নিয়ে মাঠে আসা নাইম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘দুই বছর আগে ভুটানের কাছে হেরে গিয়েছিলাম। ওই ম্যাচে হারার কথা কল্পনাও করতে পারিনি। আজ স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে জয় দেখতে এসেছিলাম। বাংলাদেশের ফুটবলাররা আমাদের হতাশ করেনি। ভুটানকে হারিয়ে আমরা প্রতিশোধ নিয়েছি। এই জয়ের আনন্দই অন্যরকম।’

বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান তপু বর্মণ আর মাহবুবুর রহমান সুফিলের। ম্যাচের শুরুতে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন ডিফেন্ডার তপু। আর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তরুণ ফরোয়ার্ড সুফিলের দুর্দান্ত ভলি নিশ্চিত করেছে জয়।

২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কাকে ৪-২ গোলে হারানোর পর জাতীয় দলের এটাই প্রথম জয়। ইংলিশ কোচ জেমি ডে’র অধীনে কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচেই জয় পেয়ে আবার আশায় বুক বেঁধেছে বাংলাদেশের ফুটবল। আগামী বৃহস্পতিবার পাকিস্তান আর শনিবার নেপালের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালের হাতছানি জামাল-সুফিলদের সামনে।   

ফুটবলাঙ্গনে একটা কথা প্রচলিত—কোনও টুর্নামেন্টের শুরুটা ভালো হলে শেষটাও ভালো হয়। সাফ ফুটবলে শুরুটা ভালো হয়েছে। ভুটান ম্যাচের সাফল্য সঙ্গী করে শিরোপার পথে লাল-সবুজ দল এগিয়ে যাবে এমনই প্রত্যাশা বাংলাদেশের মানুষের।