২০১৪ সালের ২৮ এপ্রিলের ঘটনা। কাতার থেকে ট্রেনিং নিয়ে জর্ডান দিয়ে স্বদেশে প্রবেশ করার সময় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে আটক হন মারাবা। তার বিরুদ্ধে হামাসের জন্য অর্থ ও যোগাযোগ সংক্রান্ত সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়। শুরুতে ৪৫ দিন ডিটেনশন ক্যাম্পে ছিলেন। তারপর তাকে পাঠানো হয় কারাগারে।
ইসরায়েলে ৮ মাস কারাবাসের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা এখনও ভুলতে পারেন না মারাবা। কারাগারের ছোট্ট কুঠুরির দিনগুলোর কথা মনে হলে আজও শিউরে ওঠেন তিনি, ‘সেই সব বিভীষিকাময় দিনের কথা মনে পড়লে এখনও কষ্ট লাগে। বিনা কারণে আমাকে আটক করা হয়েছিল। অন্ধকার এক কুঠুরিতে হাঁটু গেড়ে বসে থাকতে হতো সারা দিন, শারীরিক অত্যাচার না হলেও মানসিক নির্যাতন করা হতো। সূর্যের আলো দেখতে পেতাম না, প্রিয়জনদের আর কখনও দেখতে পাবো কিনা জানতাম না।’
ফিফা র্যাংকিংয়ে ১০০ নম্বরে থাকা ফিলিস্তিনে ফুটবল আসলে এক ধরনের বিলাসিতা। নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় যখন-তখন গাজা-পশ্চিম তীরে ম্যাচ বাতিল হয়, শহরের ভেতরে চেক পয়েন্টে কিংবা সীমানা পার হওয়ার সময় ইসরায়েলের সেনাদের হাতে হেনস্তা নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনা সেখানে। এমন অনিশ্চিত জীবনে ফুটবল তো বিলাসিতারই শামিল!
আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলারও তেমন সুযোগ হয় না ফিলিস্তিনের ফুটবলারদের। ২০০৬ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ তারা খেলতেই পারেনি। কারণ সীমান্তে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী পুরো দলকে আটকে দিয়েছিল। ২০১০ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে আবারও তিক্ত অভিজ্ঞতা। সেবার বহির্গমন ভিসা না পেয়ে পশ্চিম তীরে আটকে যায় দল।
ফিলিস্তিনের জার্সিতে ১৫ ম্যাচে ৮ গোল করা মারাবা ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বললেন, ‘আমাদের ওপরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব চলছে। নিজের দেশেই আমাদের স্বাধীনতা হরণ করেছে তারা।’
তবু ফুটবলকে ঘিরে অনেক স্বপ্ন ফিলিস্তিনিদের। টানা দ্বিতীয় বারের মতো এশিয়ার সেরা ফুটবল টুর্নামেন্ট এএফসি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে তারা। আগামী বছর আরব আমিরাতে অনুষ্ঠেয় এই টুর্নামেন্টে ভালো খেলার লক্ষ্য ফিলিস্তিন দলের আলজেরিয়ান কোচ নুরেদ্দিন আলীর, ‘ফিলিস্তিনে ইসরায়েল কী করছে তা সবারই জানা। একটি দেশকে চারদিক দিয়ে আটকে রাখলে কী আর করার আছে! আমরা বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে ভালো করতে চাই। তবে আমাদের প্রধান লক্ষ্য এশিয়ান কাপে ভালো করা।’