লড়াই করে হেরে বাংলাদেশের বিদায়

ফিলিস্তিনের গোলমুখে বাংলাদেশের একটি আক্রমণশক্তি-সামর্থ্য, শারীরিক গড়ন আর ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ফিলিস্তিনের চেয়ে অনেক পিছিয়ে বাংলাদেশ। তবু আশায় বুক বেঁধেছিল কক্সবাজারের মানুষ। প্রিয় দলের সাফল্য দেখতে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে ছিল উপচে পড়া ভিড়। কিন্তু আশা পূরণ হয়নি। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশ হার মেনেছে ২-০ গোলে। যদিও সান্ত্বনা, লড়াই করে হেরেছে জেমি ডে’র শিষ্যরা। আগামী শুক্রবার ফাইনালে ফিলিস্তিনের প্রতিপক্ষ তাজিকিস্তান।

আগের ফর্মেশনে বদল এনে বুধবার ৪-১-৪-১ ফর্মেশন নিয়ে মাঠে নেমেছে স্বাগতিক দল, একাদশে পরিবর্তন এসেছে চারটি। বাদ পড়েছেন ডিফেন্ডার রহমত মিয়া ও সুশান্ত ত্রিপুরা এবং ফরোয়ার্ড তৌহিদুল আলম সবুজ ও রবিউল হাসান। আগের ম্যাচে বিশ্রাম পাওয়া ডিফেন্ডার ওয়ালী ফয়সাল ও বিশ্বনাথ ঘোষ, মিডফিল্ডার জামাল ভূঁইয়া এবং ফরোয়ার্ড মাহবুবুর রহমান সুফিল ফিরলেও গোলের দেখা পায়নি লাল-সবুজ দল।

শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফিলিস্তিন অষ্টম মিনিটে এগিয়ে যায়। মুসাব মাত্তাতের কর্নার থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন মোহাম্মদ বালাহ। দুই মিনিট পর জোনাথন জরিল্লার কর্নার থেকে আব্দাললতিফের হেড ফিরে আসে ক্রসবারে লেগে।

পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ আপ্রাণ চেষ্টা করেছে ম্যাচে ফেরার। ১৩ মিনিটে মাশুক মিয়া জনির জোরালো শট ফিরিয়ে দিয়েছেন গোলকিপার। ২১ মিনিটে আবার সুযোগ। পাল্টা আক্রমণ থেকে নাবীব নেওয়াজ জীবন বল বাড়িয়েছেন মাহবুবুর রহমান সুফিলের উদ্দেশে। তবে বল সুফিলের কাছে যাওয়ার আগে পেয়ে যান ফিলিস্তিনের তামের সালেহ। সালেহ গোলকিপারকে ব্যাক পাস দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সুফিল বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শট নেন পোস্ট লক্ষ্য করে। সে যাত্রা  ডিফেন্ডার মুসাব বাত্তাত বাঁচিয়ে দেন ফিলিস্তিনকে।

২৮ মিনিটে আবার হতাশা, বিপলুর ক্রস থেকে সুফিল হেড করতে পারেননি। বিরতির ঠিক আগে দুটো সুযোগ নষ্ট করেছে বাংলাদেশ। প্রথমবার ওয়ালীর ক্রসে জীবন কানেক্ট করতে পারেননি। পরেরবার সুফিলের পাস থেকে জীবনেরই কোনাকুনি শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলের সামনেই সুযোগ এসেছে গোল করার। ৫৮ মিনিটে বিশ্বনাথের চিপ থেকে জীবন হেড করতে পারেননি। এরপর টানা তিনটি কর্নার পেলেও গোলের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। গোলকিপার আশরাফুল ইসলাম রানাও বাঁচিয়ে দিয়েছেন স্বাগতিকদের। ওদেই দাব্বাঘ ও খালেদ সালেমের দুটো জোরালো শট  ঠেকিয়ে দিয়েছেন তিনি। ৮৮ মিনিটে বাতরান ইসলামের গড়ানো শট চলে যায় সাইডবার ঘেঁষে। ইনজুরি সময়ে পর পর দুটি কর্নারে আশা জেগেছিল দর্শকদের মনে, কিন্তু কাজ হয়নি। বরং শেষ মুহূর্তে ‘আনমার্কড’ সামেহ মারাবার জোরালো ভলি বিদায় নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশের।

বাংলাদেশ:

আশরাফুল ইসলাম রানা, ওয়ালী ফয়সাল (রহমত মিয়া), তপু বর্মণ, টুটুল হোসেন বাদশা, জামাল ভূঁইয়া, ইমন মাহমুদ (রবিউল হাসান), নাবীব নেওয়াজ জীবন, বিশ্বনাথ ঘোষ, বিপলু আহমেদ (তৌহিদুল আলম সবুজ), মাহবুবুর রহমান সুফিল ও মাশুক মিয়া জনি।