হতাশার মাঝেও গর্বের ছোঁয়া

সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে (বাঁয়ে)রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠের মধ্যে শুয়ে পড়লেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। বাংলাদেশ দল তখন হতাশায় আচ্ছন্ন। ঘরের মাঠের টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিলে তো হতাশ হওয়ারই কথা। তবে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের  সেমিফাইনালে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে হেরেছে স্বাগতিক দল।

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে হেরে গেলেও দলের পারফরম্যান্সে অখুশি নন জেমি ডে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের ইংলিশ কোচ বলেছেন, ‘ছেলেদের পারফরম্যান্সে আমি গর্বিত। ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট আমরা একটু স্লো ছিলাম। তাই অষ্টম মিনিটে গোল খেয়ে যাই। তবে আমরা সত্যি ভালো খেলেছি। প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়লেও ছেলেরা ভালো খেলেছে।’

এই ম্যাচেও পুরোনো ‘রোগ’ থেকে মুক্তি পায়নি বাংলাদেশ, বেশ কয়েকটি সুযোগ নষ্ট করার মাশুল দিয়েছে। যা নিয়ে কোচের কণ্ঠে হতাশা, ‘আগের ম্যাচগুলোর মতো আমরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি। আমাদের আরও ম্যাচ খেলতে হবে, দ্রুত মুভ করা, পাস দেওয়া শিখতে হবে। সুযোগ পেলেও আমরা গোল করতে পারছি না। আমাদের বুঝতে হবে, ফুটবলে গোল কতটা প্রয়োজন।’

শক্তিশালী ফিলিস্তিনের সঙ্গে সমান তালে লড়াই করেছেন জামাল-সুফিলরা। শিষ্যদের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করে জেমি ডে বলেছেন, ‘ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ৯৩ ধাপ এগিয়ে থাকা দলের বিপক্ষে আমরা ভালোই লড়াই করেছি। ম্যাচের আগে অনেকেই সেট পিসে ওদের দক্ষতার কথা বলেছিল। কিন্তু এই জায়গায় আমরা ভালোই করেছি। আমাদের পাসিং ভালো ছিল, যদিও ফাইনাল পাসটা দিতে পারিনি। ফিলিস্তিনের ক্রস আর হেড ঠিকঠাক হয়েছে বলেই গোল পেয়েছে। আর আমরা বক্সের মধ্যে বল পেলেও লক্ষ্যভেদী শট নিতে পারিনি।’

ফিলিস্তিনের কোচ নুরুউদ্দিন আলী বাংলাদেশের ফরোয়ার্ড নাবীব নেওয়াজ জীবনের প্রশংসা করে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য, নিজেদের মাঠে এত দর্শকের সামনে ভালো খেলেও হেরেছে। জীবন ভালো ফরোয়ার্ড, তার খেলা সবার নজর কেড়েছে।’