বাংলা ট্রিবিউন: ঢাকায় এসেছেন প্রায় আড়াই মাস হলো। কেমন লাগছে?
কোলিন্দ্রেস: ঢাকা শহরে খারাপ লাগছে না। সুন্দর শহর, অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়েছে। গাড়ি-রিকশা-সিএনজি-ট্যাক্সি সব কিছু্তে ওঠার অভ্যাস করে ফেলেছি। শুধু তাই নয়, আমি ঢাকার অনেক ভালো রেস্টুরেন্টও চিনি। সেজন্য আমার ক্লাবকে ধন্যবাদ।
বাংলা ট্রিবিউন: ঢাকা শহরের যানজট নিয়ে কী বলবেন?
কোলিন্দ্রেস: ঢাকার যানজট নিয়ে আমার কিন্তু কোনও অভিযোগ নেই! যদিও এখানে যানজটে একটা ব্যাপার দেখে আশ্চর্য হয়েছি। যানজটের মধ্যেই রাস্তায় হাতি হাঁটছে, যা আমার কাছে অকল্পনীয় মনে হয়েছে।
কোলিন্দ্রেস: আমার জন্য ভালো অভিজ্ঞতা বলতে পারেন। তবে গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়ায় আমার দল কোস্টারিকার জন্য নয়। যখন আমি ফুটবল খেলা শুরু করি, তখন থেকেই বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখতাম। বিশ্বকাপে কোস্টারিকার কোয়ালিফাই করার খবর শুনে আমাদের দেশে হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। কারণ আমাদের দেশে ফুটবল খুবই জনপ্রিয়।
বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশে এসে এর মধ্যে একটা টুর্নামেন্টে খেলেছেন। এদেশের ফুটবল নিয়ে আপনার কী অভিমত?
কোলিন্দ্রেস: একটু শারীরিক শক্তি নির্ভর হলেও বাংলাদেশের ফুটবলের মান ভালোই। এদেশের ফুটবলাররা সম্ভবত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগকে অনুসরণ করে, অনেকটা ওদের মতো লম্বা পাস নির্ভর খেলে।
বাংলা ট্রিবিউন: বাংলাদেশ ও কোস্টারিকার ফুটবলের প্রধান পার্থক্য কী?
কোলিন্দ্রেস: প্রধান পার্থক্য হলো ফুটবল আমাদের দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা, আর বাংলাদেশে ক্রিকেট সবচেয়ে জনপ্রিয়। আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিশু ফুটবলার হতে চায়, আর এখানে ক্রিকেটার। কোস্টারিকায় নিয়মিত ঘরোয়া ফুটবল হয়। প্রতি বছর লিগ হয় দুটি।
বাংলা ট্রিবিউন: আপনার তাহলে ক্রিকেট সম্পর্কে ধারণা আছে!
কোলিন্দ্রেস: মাঝে মাঝে টেলিভিশনে দেখি। বল বাউন্ডারি লাইন পেরোলে চার হয়, আর লাইনের ওপর দিয়ে উড়ে গেলে ছয়। বল স্টাম্পে হিট করলে আউট।
বাংলা ট্রিবিউন: এখানে আসার আগে বাংলাদেশ সম্পর্কে আপনার কী ধারণা ছিল?
কোলিন্দ্রেস: আসার আগে বাংলাদেশ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেছি। এখানে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত আছে। সিলেটের চা বাগান ও সুন্দরবন সম্পর্কে জেনেছি। শহরগুলো জনবহুল, তবে মানুষ খুব বন্ধুসুলভ। ধর্ম সম্পর্কেও জেনেছি। এদেশের বেশিরভাগ মানুষ মুসলমান। আমি সুন্দরবন আর সমুদ্রের তীরে বেড়াতে যেতে চাই, এদেশের সুন্দর জায়গাগুলো ঘুরে দেখতে চাই।
কোলিন্দ্রেস: আসলে সমঝোতার ওপরে অনেক কিছু নির্ভর করে। ব্রাজিল ও ভারতে আলোচনা চলছিল, কিন্তু সফল হয়নি। এখানে আলোচনা সফল হওয়ায় খেলছি।
বাংলা ট্রিবিউন: ফেডারেশন কাপের ফাইনাল নিয়ে কী বলবেন?
কোলিন্দ্রেস: আমরা ফাইনাল হেরেছি, যা আমাকে ভীষণ কষ্ট দিয়েছে। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি। আবাহনী ভালো খেলেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
বাংলা ট্রিবিউন: ফাইনালে চার লাল কার্ডকে কীভাবে দেখছেন?
কোলিন্দ্রেস: এমনটা হতেই পারে, আমাদের দেশেও হয়। এখন হয়তো কয়েকজন খেলোয়াড় কয়েকটি ম্যাচ খেলতে পারবে না।
বাংলা ট্রিবিউন: এখানে কাদের বিপক্ষে খেলা কঠিন মনে হচ্ছে?
কোলিন্দ্রেস: সবার আগে তপু বর্মণের কথা বলবো। আবাহনীর মাসিহ সাইগানি, শেখ রাসেলের উদোকা কিংবা অন্য দলের ডিফেন্ডাররাও খারাপ নয়। শেখ রাসেল, শেখ জামাল ও আবাহনী ভালো দল, তাদের ফরোয়ার্ডরাও খুব ভালো।
বাংলা ট্রিবিউন: প্রিমিয়ার লিগে আপনার লক্ষ্য কী?
কোলিন্দ্রেস: ফেডারেশন কাপে চ্যাম্পিয়ন হতে পারিনি। বসুন্ধরা কিংসকে স্বাধীনতা কাপের শিরোপা এনে দিতে চাই, এরপর লিগে ধাপে ধাপে এগোতে চাই। আমার লক্ষ্য দলকে সাফল্য এনে দেওয়া।