‘আমার মতো কেউ যেন এভাবে স্ত্রী-পুত্র না হারায়’

সোহেল রানাদুই দিনের ছুটি কাটিয়ে গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জের সাতরাইল থেকে মোটর সাইকেল চালিয়ে ঢাকায় ফিরছিলেন সোহেল রানা। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলে। কিন্তু মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় স্ত্রী-পুত্র হারিয়ে আজ তিনি প্রায় উন্মাদ।

১০ দিন পরও শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের এই মিডফিল্ডার শোকাচ্ছন্ন। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলার সময় কান্নায় বুঁজে আসছিল তার কণ্ঠ। কোনও রকমে কান্না চেপে বললেন, ‘বৃহস্পতিবার ক্লাবে যাবো। সবার সঙ্গে দেখা করে গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসবো। এখানেই দোয়া পড়ানো হবে। তারপর হয়তো ফুটবল মাঠে দেখা যেতে পারে আমাকে। জানি না আগের মতো খেলতে পারবো কিনা।’

মাঠে হয়তো ফিরবেন, কিন্তু জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখ ভুলবেন কী করে? সোহেলের কাছেও উত্তরটা জানা নেই, ‘স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে দিনগুলো ভালোই কাটছিল। কিন্তু এখন আমার চারদিকে অন্ধকার। ওদের ঘিরে কত স্বপ্নই না ছিল! আমার সব শেষ হয়ে গেছে।’

সোহেলের গ্রামেই দাফন হয়েছে দুই প্রিয়জনের। যখন নিজেকে ঠিক রাখতে পারেন না, ছুটে যান কবরের কাছে। সেদিনের ভয়ঙ্কর ঘটনা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না তিনি, ‘ছুটি কম থাকায় নিজেই মোটর সাইকেল চালিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। আশুলিয়ার নয়ারহাটে রাস্তার বাঁ দিক দিয়ে চালাচ্ছিলাম। আমাদের সামনে একটা ট্রাক ছিল। ভেবেছিলাম ট্রাকের পাশ দিয়ে চলে যাবো। কিন্তু ব্রেক করার সময় মোটর সাইকেল কাত হয়ে পড়ে যায় ওরা। আমার স্ত্রী তাসলিমার চিৎকার শুনে পেছনে তাকিয়ে দেখি ট্রাকের পেছনের চাকার নিচে ওরা চাপা পড়েছে। দুজনকে হাসপাতালে নিলেও বাঁচাতে পারিনি।’

রাজধানী বসুন্ধরায় কয়েক মাস আগে বাসা ভাড়া নেওয়া সোহেল জানালেন, ‘খেলার সুবিধার জন্য স্ত্রী আর ছেলেকে নিয়ে স্থায়ীভাবে ঢাকায় চলে এসেছিলাম, যেন বার বার গ্রামের বাড়িতে ছুটে যেতে না হয়। কিন্তু আমার দুর্ভাগ্য, সব এলোমেলো করে ওরা চলে গেলো।’

এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জন্য নিজেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন তিনি, ‘আগেও মোটর সাইকেলে বউ-বাচ্চাকে নিয়ে গ্রামে যাতায়াত করেছি, কোনও সমস্যা হয়নি। তবে এভাবে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ। আমার মতো কেউ যেন এভাবে স্ত্রী-সন্তান না হারায়, সবাই যেন সাবধানে গাড়ি চালায়, সচেতন হয়।’