প্রীতি ম্যাচে কম্বোডিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত জয়। এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে প্রথম দুই ম্যাচে লড়াই করে হারের পর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ে মিশন শেষ করা। বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে’র অধীনে একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে লাল-সবুজ দল। একটা সময় ছিল, যখন মাঠে নামার আগেই হেরে বসতো বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা! সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে বাহরাইন-ফিলিস্তিনের বিপক্ষে পুরো ম্যাচে লড়াকু মনোভাবে পরিষ্কার হয়েছে বদলে যেতে শুরু করেছে বাংলাদেশের তরুণরা। এই বদলের রহস্য বাংলা ট্রিবিউন-এর কাছে উন্মোচন করলেন জেমি ডে।
জেমি ডে: দেখুন গ্রুপে আমরা দুটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলেছি। বাহরাইন ও ফিলিস্তিন ফিফা র্যাংকিংয়ে অনেক এগিয়ে। তারপরও আমরা লড়াই করেছি। মাত্র ১ গোলে ম্যাচ হেরেছি। এছাড়া শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয় পেয়েছি। যতদূর জানি এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ প্রথম কোনও ম্যাচে জয়ের দেখা পেল।
প্রশ্ন: তাহলে আপনি শিষ্যদের পারফরম্যান্সে খুশি?
জেমি: অবশ্যই। তারা যেভাবে খেলেছে তাতে আমি খুশি।
প্রশ্ন: বাহরাইনে প্রচুর প্রবাসী বাংলাদেশি মাঠে এসে সমর্থন দিয়েছেন। খেলোয়াড়রা নিশ্চয় অনুপ্রাণিত হয়েছে?
জেমি: আমি মাঠে তাদের উপস্থিতি দেখে অভিভূত। মাঝেমধ্যে মনে হয়েছে বাংলাদেশেই বুঝি ম্যাচ খেলছি। তাদের উপস্থিতিতে দল আরও ভালো খেলার অনু্প্রেরণা পেয়েছে।
প্রশ্ন: এএফসি প্রতিযোগিতার আগে কম্বোডিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জয়টি কি উদ্দীপক হিসেবে কাজ করেছে?
জেমি: হ্যাঁ। কম্বোডিয়ার বিপক্ষে জয়ের পর ছেলেরা আরও আত্মবিশ্বাসী ছিল। ছেলেরা উজ্জীবিত হয়ে খেলেছে। বাহরাইনে নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলার চেষ্টা করেছে।
প্রশ্ন: তখনই তো প্রত্যাশা বেড়ে গিয়েছিল...
জেমি: যখন কোনও ম্যাচ জেতা হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা বেড়ে যায়। কিন্তু একটা বিষয় বুঝতে হবে আমরা বাহরাইন-ফিলিস্তিনের চেয়ে এখনও পিছিয়ে আছি। এটা ঠিক দুই দলের বিপক্ষে পয়েন্ট পেলে ভালো লাগতো।
প্রশ্ন: তবে শোনা গেছে, কম্বোডিয়ার দলটিতে বয়সভিত্তিক খেলোয়াড় ছিল।
জেমি: তাতে কী। আমার দলেও পাঁচ থেকে ছয়জন বয়সভিত্তিক খেলোয়াড় খেলেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলতে নেমে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা ছিল। ম্যাচটি ছিল দুই দলের জাতীয় দলের মধ্যে। এছাড়া ওরাও তো কম চেষ্টা করেনি, কিন্তু সফল হয়েছি আমরা।
প্রশ্ন: ফুটবলাররা এখন ৯০ মিনিট মাঠ জুড়ে খেলতে পারে। এক বছর আগেও এটা বিশ্বাস করা কঠিন ছিল। এর রহস্য কী।
জেমি: আসলে আমি আসার পর কিছু পরিকল্পনা করে এগিয়েছি। খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে সবকিছুতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছি। বলতে পারেন এর সুফল পাচ্ছি। এজন্য খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ দিতে হয়। তারা সবকিছু মেনে চলছে। খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে জিম সহ সবকিছুতেই তারা নিয়মের মধ্যে আছে।
প্রশ্ন: আপনার হাতে একঝাঁক তারুণ খেলোয়াড়। তাদের নিয়ে আপনার ভাবনা?
জেমি: আসলে শুধু তরুণ নয়, অভিজ্ঞদের মিশেলে আমি এগিয়ে যেতে চাই। যাতে বাংলাদেশ ভালো পর্যায়ে যেতে পারে। তবে তরুণরাই ভবিষ্যতের জাতীয় দলের সম্পদ।
প্রশ্ন: বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব নিয়ে বিশেষ কোনও পরিকল্পনা?
জেমি: না। বিশেষ কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে আমরা আগের মতোই মাঠে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।
প্রশ্ন: দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলে ভারতের রাজত্ব। বাংলাদেশ কি পারবে তাদের সমপর্যায়ে যেতে?
জেমি: ভারত ও বাংলাদেশের ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের অবকাঠামোতে অনেক পার্থক্য। ভারতের কাছাকাছি পৌঁছানো কঠিন।
প্রশ্ন: তাহলে কি কখনও বাংলাদেশ সাফের শ্রেষ্ঠত্ব পাবে না?
জেমি: দুই বছর পর সাফ হবে। তখন কী হবে, কেউ বলতে পারে না। আমি কোচ থাকব নাকি অন্য কেউ আসবে, সেটাও জানা নেই। তবে ইতিবাচক পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে সাফল্য পাওয়া কঠিন হবে না।
প্রশ্ন: আপনি বলেছিলেন, বাংলাদেশের র্যাংকিং ধীরে ধীরে উন্নতি করতে চান। তাহলে তো আপনার বেশ সময় দরকার।
জেমি: হ্যাঁ। হঠাৎ করে সবকিছু পরিবর্তন হবে না। সময় দিতে হবে। তাহলেই সবকিছু সম্ভব।
প্রশ্ন: আপনার চুক্তি মে মাসে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যত নিয়ে কী পরিকল্পনা?
জেমি: দেখুন, বাংলাদেশ দলকে ভালো পর্যায়ে নেওয়ার জন্য সময় দরকার। মে মাসে আমার চুক্তি শেষ হচ্ছে। হয়তো আমি জুন পর্যন্ত থাকব। তারপর কী হবে, জানি না। তবে আমি চাইব ন্যূনতম এক বছর চুক্তি করতে, যাতে বাংলাদেশকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে পারি।
প্রশ্ন: অন্য কোনও দেশ থেকে চাকরির প্রস্তাব পেয়েছেন?
জেমি: না। এইসব নিয়ে আমি ভাবছি না। বাংলাদেশের ফুটবল নিয়েই আমার যত চিন্তা। এখানে কাজ উপভোগ করছি।