বিএসজেএ’র কার্যালয়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে ক্রীড়াবিদদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন তারা। আলোচনার বড় অংশ জুড়ে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সোনালি অতীতের স্মৃতিচারণ থাকলেও মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ক্রীড়াঙ্গনের অন্য ইভেন্টের ক্রীড়াবিদদের কর্মকাণ্ড কী ছিল, তারও কিছু দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন আলোচকরা। এর বাইরে উঠে এসেছে বেশ কিছু কষ্টের কথাও। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু বলেছেন, ‘আমি মোহামেডানের আটবারের অধিনায়ক, বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়কও। এরপরও আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক হওয়া।’
অবশ্য দেশের মুক্তিযুদ্ধে বিরল ঘটনার সাক্ষী হওয়ার পরও জাকারিয়া পিন্টু আফসোস, ‘পুরো দলের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়া কষ্টের।’ জাতীয় দুটি সর্বোচ্চ পুরস্কারের একটি অন্তত এতদিনে পাওয়া উচিত ছিল বলে মনে করেন বিদেশের মাটিতে লাল-সবুজ পতাকা ওড়ানো জাকারিয়া পিন্টু।
একই দলের অন্যতম সদস্য শেখ আশরাফ আলী বলেছেন, ‘আমাকে সবাই ডিফেন্ডার হিসেবে চেনে ও জানে। আমি ডিফেন্ডার হয়েছি স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের জন্যই। আমি মূলত মাঝমাঠের ফুটবলার। স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের জন্য ডিফেন্ডার হতে হয়েছে।’
প্রতাপ শংকরা হাজরা নিজের দলের ইতিহাস স্মরণ করতে গিয়ে কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন। সালাহউদ্দিনের নাম তূর্য হাজরা হওয়ার ঘটনা বর্ণনা দিয়েছেন তিনি এভাবে, ‘সালাহউদ্দিনের পরিবার ঢাকায় ছিল। ওর পরিবারের নিরাপত্তার বিষয় চিন্তা করে নাম পরিবর্তন হয়েছিল। সালাহউদ্দিনের ডাক নাম তূর্য জানতাম। তূর্যর সঙ্গে আমার হাজরা যোগ করে দেই। স্বাধীনতার পরও একবছর হয়তো সালাহউদ্দিন এই নামে খেলেছে।’
আলোচনায় ছিলেন বিসিবি পরিচালক আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি, বিএসজেএ সভাপতি মোতাহের হোসেন মাসুম, সাধারণ সম্পাদক রায়হান আল মুঘনিসহ অন্য সদস্যরা।