‘বঙ্গমাতার নামে এই টুর্নামেন্ট, তাই প্রথম থেকেই লক্ষ্য শিরোপাটা দেশে রেখে আসরটি স্বরণীয় করে রাখার। তাতে দেশের মহিলা ফুটবল আরও এগিয়ে যাবে। তবে এর জন্য ম্যাচে বাড়তি প্রচেষ্টার সঙ্গে মনোযোগটাও শতভাগ থাকতে হবে। আমরা যে রকম খেলেছি, নিজেদের মাঠে সবার সমর্থন পাচ্ছি, তাতে আমি মনে করি আমরাই ফেভারিট।’- বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আত্মবিশ্বাসী শোনায় কোচ ছোটনের কণ্ঠ।
গ্রুপের দুটি ম্যাচ ও সেমিফাইনালের অভিজ্ঞতা থেকে লাল-সবুজ দল আরও প্রখর হয়ে ফাইনালে নামার প্রত্যাশায়। ছোটন বলেছেন তেমনটাই, ‘আগের ম্যাচগুলো যেভাবে খেলেছে, তার চেয়ে একটু অন্যভাবেই খেলতে হবে। কারণ লাওস দলে বেশ কজন ভালো খেলোয়াড় আছে। তাদের দিকে আলাদা দৃষ্টি রাখতে হবে। তবে আমরা একটা দল হয়ে খেলেছি। তৃতীয় ম্যাচে মনিকার করা গোলটি আমি মনে করি এখন পর্যন্ত আসরের সেরা গোল। আশা করছি শেষ ম্যাচেও পারফরম্যান্স দিয়ে শিরোপা জিততে পারব।’
সেমিফাইনালে চোটের কারণে খেলা হয়নি ফরোয়ার্ড কৃষ্ণা রানীর। ফাইনালে তাকে পাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে স্ট্রাইকার স্বপ্না ইনজুরির কারণে আগেই ছিটকে গেছেন টুর্নামেন্ট থেকে।
দলীয় সমন্বয় বাংলাদেশের বড় পুঁজি। ছোটনের বক্তব্য, ‘তিনটি ম্যাচই আমাদের মেয়েরা প্রথম থেকে ৯০ মিনিট একই ধারায় খেলেছে। দলের মধ্যে বোঝাপড়া অনেক ভালো। খেলায় যে কোনও কিছুই হতে পারে। মেয়েরা সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করবে ট্রফিটা ঘরে রাখতে।’
ফাইনালে লাওসের আক্রমণ প্রতিহত করতে দলের রক্ষণভাগের ওপর আস্থা রাখছেন ছোটন, ‘এই পর্যায়ে আমাদের মেয়েরা ভালোভাবেই মানিয়ে নিতে পেরেছে। তারা ধীরে ধীরে উন্নতি করছে। ফাইনালে ডিফেন্সে যারা আছে- আখি, শিউলি, নার্গিস ও শামসুন্নাহার, কতটা উন্নতি করেছে, সেটা তাদের দেখানোর সুযোগ আছে। আমি মনে করি, অতীতের অভিজ্ঞতাগুলো মেয়েরা কাজে লাগাতে পারলে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।’
লাওসের কোচ ভংমিসি সুবাখাম অবশ্য ফাইনালে দুই দলের সমান সম্ভাবনা দেখছেন। ফাইনাল নিয়ে তার বক্তব্য, ‘সেমিফাইনালে যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম, ফাইনালে ওঠায় সেটা পূরণ হয়েছে। আমরা এখন শতভাগ প্রস্তুত ফাইনালের জন্য। সাধারণত স্বাগতিক দলের বিপক্ষে খেলা সবসময়ই কঠিন। তবে সুবিধার দিক হচ্ছে আমাদের মেয়েরা এএফসি টুর্নামেন্ট ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলেছে। তাই আমরা আশাবাদী। আমি মনে করি দুই দলই চাইবে শিরোপাটা জিততে। এখানে সবার সমান সম্ভাবনা রয়েছে।’
বাংলাদেশের প্রশংসার সঙ্গে দুর্বলতাও ধরিয়ে দিয়েছেন এই কোচ, ‘বাংলাদেশ দলে বেশ কজন ভালো খেলোয়াড় আছে। ম্যাচটা তাই সহজ হবে না আমাদের জন্য। তবে আমার খেলোয়াড়দের ওপর বিশ্বাস আছে। তারাও প্রতিভাবান। মাঠে তারা প্রতিটি ক্ষেত্রে সেটা বুঝিয়ে দেবে আশা করছি। বাংলাদেশের শক্তির দিক টিমওয়ার্ক ও ফর্মেশন। এমনিতে সবদিক দিয়েই তারা ভালো, কেবল ফিনিশিংয়ে কিছুটা দুর্বলতা চোখে পড়েছে।’