ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ম্যাচ দেখে রোমাঞ্চিত তারা

স্টেডিয়ামে ঢোকার আগে মিঠু-নাজমুলরাব্রাজিল-আর্জেন্টিনার ম্যাচ মাঠে বসে দেখা হবে- বাংলাদেশের চার উদীয়মান ফুটবলের জন্য এটা ছিল কল্পনাতীত। তবে সুযোগ হয়ে গেলো। মঙ্গলবার বেলো হরিজোন্তোর এস্তেদিও মিনেইরোতে কোপা আমেরিকার ‘সুপার ক্লাসিকো’ সেমিফাইনাল দেখলেন ব্রাজিলে অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়া এই ফুটবলাররা।

ব্রাজিলে প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়ার আনন্দ আরও বেড়ে গেছে মাঠে বসে মেসি-কৌতিনিয়োদের খেলা দেখে। এক কথায় অভিভূত ফরোয়ার্ড জোগেন লাকরা, দুই মিডফিল্ডার ওমর ফারুক মিঠু ও লতিফুর রহমান নাহিদ এবং ডিফেন্ডার নাজমুল আকন্দ। তাদের কাছে এখনও স্বপ্নের মতো লাগছে।

ব্রাজিল দূতাবাসের সৌজন্যে জুনের শেষ দিকে গামা অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে যোগ দেন চার ফুটবলার। এক মাসের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বেলো হরিজোন্তোর মিনেইরো স্টেডিয়ামে বসে হাজারো দর্শকের মাঝে নিজেদের উপস্থিতি ছিলো অনেকটা স্বপ্নের মতোই।

মিডফিল্ডার ওমর ফারুক মিঠু তো গ্যালারি থেকে ফেসবুক লাইভ করে নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বাকি তিনজনও কম যাননি। বাংলাদেশের পতাকা ছিলো তাদের হাতে। এমন একটি আকর্ষণীয় ম্যাচ দেখতে পেরে সবার যেন উচ্ছ্বাস কমছে না।

মিঠু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন এভাবে, ‘ব্রাজিলের মতো দেশে এসে প্রশিক্ষণ নিতে পারবো, সেটা চিন্তাই করিনি। বাড়তি পাওয়া হিসেবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে পেরেছি। এই ভালো লাগা আসলে বুঝিয়ে বলতে পারবো না। মেসি-আলভেসদের খেলা সামনে থেকে দেখেছি। আমাদের সবার কাছে স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।’

ব্রাজিল সমর্থকের সঙ্গে মিঠুমিঠুর প্রিয় দল ব্রাজিল। আর ফাইনালে ব্রাজিল ওঠায় আরও খুশি, ‘আমার প্রিয় দল ফাইনালে গেছে। অনেক ভালো লাগছে। এটাই প্রত্যাশা করেছিলাম। আশা করছি ব্রাজিল শিরোপা জিতবে।’

মিঠুর পাশাপাশি জোগেন ও নাহিদের প্রিয় দলও ব্রাজিল। তবে নাজমুলের সমর্থন ছিল আর্জেন্টিনার দিকে। মেসির দল হারায় ভীষণ হতাশ তিনি। তবে এমন একটি ম্যাচ দেখতে পেরে ভালোও লাগছে, ‘আমরা সবাই খুশি, এমন একটি ম্যাচ দেখতে পেরেছি। তবে মেসির দল জিততে পারলে খুশিটা একটু বেশি লাগতো।’

চার ফুটবলারের সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে স্থানীয় কোচ আব্দুর রাজ্জাকও ছিলেন গ্যালারিতে। ম্যাচ দেখে বলেছেন, ‘ক্যারিয়ারে এমন একটি ম্যাচ দেখতে পাবো, চিন্তার মধ্যে ছিলো না। তবে অনেক ভালো লেগেছে। ফুটবলের উন্মাদনাই যে এখানে অন্যরকম।’

রাজ্জাক জানালেন, গামা একাডেমিতে প্রশিক্ষণরত চার ফুটবলারের জন্য ভবিষ্যতে সুখবর থাকতে পারে, ‘আমাদের চার ফুটবলারের স্কিল দেখে এখানকার স্থানীয় কোচরা খুশি হয়েছেন। ভবিষ্যতে তারা হয়তো দীর্ঘমেয়াদে অনুশীলনের সুযোগ করে দিতে পারেন। এমনকি এখানকার ক্লাবগুলোতে তাদের খেলার সুযোগ করে দেওয়ার সম্ভাবনা আছে। গামা ক্লাবের সভাপতি এসে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় ইঙ্গিত দিয়ে গেছেন।’