মেসি ও রোবেনমেসির চোখ ধাঁধানো ড্রিবলিং নাকি অ্যারিয়ান রোবেনের বিখ্যাত দৌড়? আকাশি সাদা নাকি কমলা উৎসব? ম্যারাডোনার মতো আর্জেন্টিনাকে কি ফাইনালে নিয়ে যেতে পারবেন মেসি? নাকি তিন বিশ্বকাপের ফাইনাল থেকে শূন্য হাতে বিদায় নেওয়া নেদারল্যান্ডস আবারও পা রাখবে ফাইনালের দোরগোড়ায়? কে হাসবে শেষ হাসি? কে করবে বাজিমাত ? মেসির যাদু নাকি টোটাল ফুটবলের মন্ত্র? সব প্রশ্নের উত্তর পেতে বিশ্বের কোটি মানুষের চোখ এখন সাও পাওলোতে। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় ফুটবল যুদ্ধে নামছে নেদারল্যান্ডস ও আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইউরোপ বনাম লাতিন আমেরিকার লড়াই। স্কিল বনাম টোটাল ফুটবল দেখার অপেক্ষায় বিশ্ববাসী। মুখোমুখি লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা পিছিয়ে থাকলেও লাতিন আমেরিকান দলটির জন্য আশার খবর হলো, কখনোই সেমিফাইনালে হারেনি আলবেসিলেস্তরা। পরিসংখ্যান বলছে, এর আগে চারবার সেমিফাইনালে উঠেছে ম্যারাডোনা-মেসির দেশ, চারটিতেই জয়লাভ করে ফাইনাল খেলেছে তারা। এরমধ্যে দুইবার চ্যাম্পিয়ন এবং দুইবার রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে আর্জেন্টিনা। আক্রমণভাগ বিশ্বসেরা হলেও আর্জেন্টিনার ডিফেন্স নিয়ে নানা সমালোচনা চলছে। তবে বাস্তবতা হলো এই দলটিই এখন পর্যন্ত এবারের আসরে সবচেয়ে কম গোল খেয়েছে। গত পাঁচ ম্যাচে মাত্র তিন গোল খেয়েছে আর্জেন্টিনা। তাছাড়া হাভিয়ের জাবালেতা, মার্কোস রোহোদের ডিফেন্স এবং মাঝমাঠের হাভিয়ের মাসচেরানোকে মিলিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণ এখন অনেকটাই লড়াকু। অপরদিকে, গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে স্পেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিলেও ডাচদের সেই ছন্দ পরবর্তীতে খুব একটা দেখা যায়নি। দ্বিতীয় রাউন্ডে মেক্সিকোর কাছে হারতে হারতে অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি ভাগ্যে জিতে যায় ডাচরা। কোয়ার্টার ফাইনালেও দুর্বল কোস্টারিকার সঙ্গে জিতে টাইব্রেকার ভাগ্যে। দুই ফেবারিটের লড়াইয়ের পরিসংখ্যানটা ভারি কিন্তু নেদারল্যান্ডের দিকেই। বিশ্বকাপ ও আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচ মিলে দুই দল মুখোমুখি হয়েছে ৮ বার। চারবার জিতেছে তারা, আর্জেন্টাইনরা মাত্র একবার, তিন ম্যাচ ড্র। বিশ্বকাপের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে থাকছে ডাচরা। আর্জেন্টিনার সঙ্গে চার সাক্ষাতে দুটিতে জয় তুলে নিয়েছে তারা। কিন্তু ওই চার ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণটি জিতেছে আকাশি-সাদারাই। ১৯৭৮-এর ওই ফাইনাল হেরে ডাচদের আবারও ফাইনালে উঠতে যে লেগে গিয়েছিল ৩২ বছর! ৯ জুলাই, ১৮১৬ সালে স্পেনের শাসন থেকে আর্জেন্টিনার স্বাধীনতা ঘোষণা হয়েছিল। ১৯৬ বছর আগে প্রায় অসংখ্য মানুষের প্রাণের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন আর্জেন্টাইনরা। আজ স্বাধীনতা দিবসে নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠাই হতে পারে দেশকে দেওয়া মেসিদের সেরা উপহার।