চার গ্রুপে ১৩টি দলের লড়াই। শুরুর দিনে একটি ম্যাচ। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা আবাহনী লড়বে প্রথমবারের মতো প্রিমিয়ার লিগে জায়গা করে নেওয়া পুলিশ এফসির। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে বিকেল ৪টায় শুরু এই ম্যাচের আগে দুই দলের কোচের মুখে উচ্চারিত অভিন্ন শব্দটি হলো ‘জয়’। চ্যাম্পিয়ন আবাহনী তো জিততেই চায়। নবাগত পুলিশ দলের মুখেও জয়ের আশাবাদ।
আবাহনী প্রায় গতবারের দলটিই ধরে রেখেছে। ডিফেন্ডার তপু বর্মণ ও মিডফিল্ডার আতিকুর রহমান ফাহাদ দল বদলে চলে গেছেন বসুন্ধরা কিংসে। তাদের জায়গায় অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার নাসির উদ্দিন চৌধুরী ও মিডফিল্ডার সোহেল রানা এসেছেন। এ ছাড়া সানডে-বেলফোর্টদের নিয়ে শিরোপা জেতার মতো দলই গড়েছে আবাহনী। পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমোস তো পরীক্ষিত। তাঁর অধীনে ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন ছাড়াও এএফসি কাপের জোনাল সেমিফাইনালে গিয়ে চমকই দেখিয়েছে আকাশি-হলুদরা।
গতবারের মতো সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে চাইছে আবাহনী। আপাতত ফেডারেশন কাপই যে তাদের পাখির চোখ, সেটিই ধরা পড়ল লেমোসের কথায়, ‘আমাদের প্রস্তুতি ভালো। বর্তমান দলটিতে বড় কোনও পরিবর্তন নেই। আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই ফেডারেশন কাপে খেলতে নামবো।’ তবে অন্য দলগুলোকেও সমীহ করছেন আবাহনী কোচ, ‘আমাদের শিরোপা জেতা সহজ হবে না। বসুন্ধরা কিংস সহ অন্য দলগুলো কম শক্তিশালী নয়। বলতে পারেন আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা।’
এবার ক্লাবগুলো বিদেশি খেলোয়াড়দের নিয়ে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে। আগের মতো এশীয় কোটাসহ একাদশে চার বিদেশি খেলতে পারবে। কিন্তু পাঁচজন বিদেশি নিবন্ধনের সুযোগ থাকায় ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সবাইকে খেলানো যাবে। বসুন্ধরা কিংস অবশ্য শুধু বিদেশি খেলোয়াড়দের ওপরই জোর দেয়নি। জাতীয় দলের এক ঝাঁক খেলোয়াড় ভিড়িয়ে আগের চেয়ে শক্তি বাড়িয়েছে। তাদের প্রতিটি জায়গাতেই একাধিক খেলোয়াড় আছেন যাঁরা জাতীয় দলে খেলছেন।
অভিষেকেই লিগ জিতলেও ফেডারেশনে কাপে রানার্সআপ। এবার চ্যাম্পিয়নই হতে চায় বসুন্ধরা কিংস। দলটির স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন বলেছেন, ‘আমরা গত আসর থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তাই এবার আরও শক্তিশালী দল গড়া হয়েছে। যেসব জায়গায় দুর্বলতা ছিল,সেই জায়গায় খেলোয়াড় নেওয়া হয়েছে। গতবার তিন তিনটি ট্রফির একটি জেতা যায়নি। এবার সবকটিরই শিরোপা জিততে চাই। এ ছাড়া এএফসি কাপের পরীক্ষা তো আছেই।’
আবাহনী গতবার সরাসরি এএফসি কাপের গ্রুপ পর্বে খেলেছিল, কিন্তু এবার তাদের খেলতে হবে প্লে-অফ। আর বসুন্ধরা সরাসরি খেলবে গ্রুপ পর্বে। এবারের ফেডারেশন কাপের চ্যাম্পিয়নরা অবশ্য ২০২১ সালের এএফসি কাপের প্লে-অফ খেলবে। তাই দুই দলের জন্যই এবারের ফেডারেশন কাপ অন্যরকম এক পরীক্ষাও।
শুধু আবাহনী কিংবা বসুন্ধরা নয়, ফেডারেশন কাপ অন্যদের কাছেও পাখির চোখ। এর মধ্যে নবাগত পুলিশ এফসি অন্যতম। বাংলাদেশের ফুটবলে যদিও পরিচিত একটি নাম। এই প্রথম শীর্ষ পর্যায়ে খেলছে। তাই আসরটি স্মরণীয় করে রাখতে চাইছে তারা। দলের সার্বিয়ান কোচ নিকোলাস ভিতোরোভিচ ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে চাইছেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে অনুশীলনে আছি। এখনই বলছি না বড় কিছু করে দেখাতে পারবো। তবে ভালো কিছু করার লক্ষ্য নিয়েই আমরা মাঠে নামবো। ফেডারেশন কাপে নিজেদের শক্তিটাই দেখাতে চাই।’
শেখ রাসেল, শেখ জামাল, সাইফ কিংবা চট্টগ্রাম আবাহনী মৌসুম শুরুর প্রতিযোগিতায় ট্রফিকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখছে। চট্টগ্রাম আবাহনীর কোচ মারুফুল হক বলেছেন, ‘তারুণ্য নির্ভর দল নিয়েই এগিয়ে যেতে চাইছি। আমি আত্মবিশ্বাসী, ফেডারেশন কাপে ভালো কিছু উপহার দিতে পারবো। শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্লাব কাপে রানার্স-আপ হয়ে দল উজ্জীবিত। তবে পাঁচ থেকে ছয়টি ক্লাবের মধ্যেই সব প্রতিযোগিতার শিরোপা সীমাবদ্ধ থাকবে।’