নিজাম জানেন কিভাবে এগোলো মালদ্বীপের ফুটবল

সাইফ স্পোর্টিংয়ের কোচ মোহাম্মদ নিজামএকসময় মালদ্বীপকে বলে-কয়ে হারাতো বাংলাদেশ। আসলাম-মুন্নাদের সামনে পাত্তাই পেতো না ছোট্ট দ্বীপ দেশটির ফুটবল দল। সেই দিন বিদায় নিয়েছে অনেক আগেই। সময়ের পরিক্রমায় মালদ্বীপের ফুটবল বাংলাদেশকে পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছে অনেক দূর। ফিফা র‌্যাংকিং ও মাঠের পারফরম্যান্স সেটাই বলে।

মাত্র ৫৩ লাখ অধিবাসীর দেশটি এরই মধ্যে দুবার সাফ ফুটবল জিতেছে। যেখানে বাংলাদেশ  জিতেছে মাত্র একবার, ২০০৩ সালে। সর্বশেষ মালদ্বীপকে বাংলাদেশ কবে হারিয়েছে, তা খুঁজতে অনেক পেছনে যেতে হয়। মালদ্বীপের ফুটবল এগিয়ে যাওয়ার আরেকটি বড় প্রমাণ, ওদেশ থেকে এখন বাংলাদেশের ক্লাব দল কোচ নিয়ে আসে! এই যেমন সাইফ স্পোর্টিংয়ের প্রধান কোচ হয়ে এসেছেন মোহাম্মদ নিজাম।

একসময় মালদ্বীপ জাতীয় দলে খেলেছেন। সেখানকার ঘরোয়া ফুটবলে ১৬ বছর খেলেছেন দাপটের সঙ্গে। ৪৫ বছর বয়সী সাবেক ফরোয়ার্ডের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল মালদ্বীপ ফুটবলের উত্থান ও বাংলাদেশের ফুটবল পিছিয়ে পড়ার কারণ কী?

মোহাম্মদ নিজারম করণটা খুব ভালো করেই জানেন- দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাই দ্বীপদেশটিকে এতোদূর নিয়ে এসেছে।

দুই দলের ফিফা র‌্যাংকিং দেখলে চিত্রটি পরিষ্কার হয়ে ওঠে। মালদ্বীপের ফিফা র‌্যাঙ্কিং ১৫৫, দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের পরেই তাদের অবস্থান। অন্য দিকে বাংলাদেশ পেছাতে পেছাতে নেমে গেছে ১৮৭ নম্বরে। মালদ্বীপের ফুটবলের ছবিটা বদলে গেছে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ক্লাবগুলোর বলিষ্ঠ ভূমিকায়। ১৯ বছরের কোচিং ক্যারিয়ারে নিজাম নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বললেন,‘প্রায় দুই যুগ আগে মালদ্বীপের ফুটবল নিয়ে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সরকারের পাশাপাশি ক্লাবগুলোও এগিয়ে আসে। সেই সুফল দেশ পাচ্ছে। আমরা দক্ষিণ এশিয়াতে ভালো অবস্থানে আছি।’

মালদ্বীপের ক্লাবগুলোর সবারই নিজস্ব একাডেমি আছে। ফেডারেশন বয়সভিত্তিক খেলার দিকে নজর দিয়েছে। নিজাম সবিস্তারে বলে যান, ‘প্রিমিয়ারে ১০টি ক্লাবের সবারই একাডেমি আছে। ছয় বছর বয়স থেকে আমাদের দেশে ফুটবল চর্চা শুরু হয়। মোট ছয়টি বয়সভিত্তিক বিভাগে জোর দেওয়া হয়। ক্লাবের পাশাপাশি ফেডারেশন বয়সভিত্তিক দলগুলো নিয়ে কাজ করে। প্রচুর লাইসেন্সধারী কোচ আছে। যারা ফুটবলের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।’

আর এখানটাতেই মালদ্বীপের চেয়ে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। ফেডারেশনের একটি মাত্র একাডেমি, তাও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে শুরু হয়েছে সম্প্রতি। হাতে গোনা কয়েকটি ক্লাবের বয়সভিত্তিক দল আছে। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে নিজাম বলেছেন, ‘আমি যখন ৮০’র দশকে প্রথম বয়সভিত্তিক দলের হয়ে ঢাকায় খেলতে এসেছিলাম, তখন চারদিকে ফুটবল নিয়ে চর্চা হতো। কিন্তু এই সময়ে এসে ছবিটা পাল্টে গেছে। জায়গাটা নিয়ে নিয়েছে এসেছে। আমার কাছে মনে হয়,এখানে ফুটবলের চর্চাটাই কমে গেছে। যে কারণে বাংলাদেশের ফুটবল অনেকটা পিছিয়ে গেছে।’

মালদ্বীপের ফুটবলে বড় নাম স্ট্রাইকার আলী আশফাক। দক্ষিণ এশিয়াতেই অনেক বড় তারকা। সেই  জায়গায় বাংলাদেশ একজন স্ট্রাইকারের জন্য কতই না হা-পিত্যেশ করে।

ফিফা র‌্যাংকিং কিংবা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ফুটবল পিছিয়ে থাকলেও ঘরোয়া ফুটবলে টাকার ঝনঝনানি কম নয়। মালদ্বীপে এক আলী আশফাক সর্বোচ্চ কোটি টাকার ওপরে পেয়ে থাকেন। সেখানে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক প্রাপ্ত ফুটবলার ৬৫ লাখ টাকা পেলেও গড় পারিশ্রমিক খারাপ নয়।

নিজাম অবশ্য বাংলাদেশের ফুটবলের আশার জায়গাও দেখেন, ‘বাংলাদেশের ফুটবলে উন্নতি করার সুযোগ আছে। নিচের লেভেল থেকে শুরু করতে হবে। ক্লাব লেভেলে আরও জোর দিতে হবে। একাডেমি থাকতে হবে। আশার কথা, এখানে একাধিক ক্লাবের বয়সভিত্তিক দল আছে। আমার মনে হয় সুষ্ঠু পরিকল্পনা করে এগোলে বাংলাদেশ ফিরে পাবে হারানো সম্মান।’

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলে মালদ্বীপের কোচ। নিজাম কোচ হিসেবে বাংলাদেশ-পর্বটা  স্মরণীয় করে রাখতে চান, ‘আমি এখানে সফল হতে এসেছি। এখানকার পরিবেশ আমার ভালো লেগেছে। মৌসুম শেষে সাফল্য নিয়ে দেশে ফিরতে চাই।’