এভারটনে আটত্রিশের ইব্রাহিমোভিচ?

পিএসজিতে একসঙ্গে কাজ করেছেন আনচেলত্তি ও ইব্রাহিমোভিচ। এভারটনেও দেখা যাবে?বয়স যে শুধুই সংখ্যা, সেটাই বুঝি প্রমাণ করে চলেছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। তা নয়তো কী! বয়স ৩৮ পেরিয়ে গেছে, তবু শোনা যাচ্ছে ইউরোপের বড় বড় ক্লাবে খেলার প্রস্তাব পাচ্ছেন তিনি। এই তো দিনকয়েক আগে শোনা গিয়েছিল, এসি মিলানের সঙ্গে সুইডিশ স্ট্রাইকারের চুক্তি হয়েই গেছে। সেই গুঞ্জন থামতে না থামতেই যোগ হয়েছে এভারটনের নাম। তার সাবেক কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন দায়িত্ব নিয়েছেন ইংলিশ ক্লাবটির, তখন দুয়ে দুয়ে চার মেলানোর চেষ্টা তো চলবেই।

আনচেলত্তি নিজেই আসলে গুঞ্জনের পালে হাওয়া লাগিয়েছেন। নাপোলি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর ইতালিয়ান কোচ নতুন ঠিকানা বানিয়েছেন এভারটনকে। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই জানিয়েছেন, ইব্রাহিমোভিচকে তিনি ডাকবেন গুডিনসন পার্কে। ব্যস, ব্রিটিশ মিডিয়ার জোরালো বাতাস ওঠার সঙ্গে এভারটন ভক্তদের মনে  বইতে শুরু উত্তেজনার জোয়ার। যদিও সেটা থামিয়ে দিতেও সময় নেননি আনচেলত্তি, ‘সে (ইব্রাহিমোভিচ) আসবে শুধু খেলা দেখতে, খেলতে নয়’- মন্তব্য করে।

তাই বলে কি গুঞ্জন থামে? প্যারিস সেন্ত জার্মেইয়ে দুজন কাজ করেছেন একসঙ্গে। এখনও তাদের মধ্যে হৃদ্যতা অটুট। ইউরোপের শীর্ষ সব লিগে খেলা ইব্রাহিমোভিচ ইতালিয়ান কোচের অধীনে কাটিয়েছেন চমৎকার সময়। সেই আনচেলত্তি যখন কোচ হয়েছেন এভারটনের, তখন সমর্থকদের মনে সম্ভাবনার একটু আলো তো উঁকি দিতেই পারে।

আনচেলত্তি অবশ্য আপাতত সুইডিশ স্ট্রাইকারের সঙ্গে চুক্তির ব্যাপারে ভাবছেন না। তবে সাবেক শিষ্যকে লিভারপুলের গুডিনসন পার্কে আসার আমন্ত্রণ দিতে যাচ্ছেন ঠিকই, ‘ও (ইব্রাহিমোভিচ) আমার ভালো বন্ধু। সৌভাগ্যক্রমে আমি অনেক দুর্দান্ত খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। আমার মনে হয় সে যুক্তরাষ্ট্র অধ্যায় শেষ করেছে, আর আমি সত্যি জানি না তার এখন কী চিন্তা। আমি তাকে ডাকব, যদি সে লিভারপুলে আসতে চায়, তাহলে আসতেই পারে।’

এর মানে কি জানুয়ারির দলবদলে ইব্রাহিমোভিচকে আনতে চাইছেন আনচেলত্তি? উত্তরটা তড়িঘড়ি করেই দিলেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ, ‘খেলতে নয়, খেলতে নয়।’ জানুয়ারির দলবদলে কোন খেলোয়াড় কিনতে চান, সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলেননি এভারটনের নতুন কোচ। তবে মোটামুটি একটা তালিকা যে সেরে রেখেছেন, সেটা তার এই কথায় স্পষ্ট, ‘জানুয়ারির দলবদল নিয়ে আমি কোনও উত্তর দেবো না। প্রত্যেকেই মাঠে তার সেরা দল নামাতে চায়। দলকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে আমি কথা বলব (মালিক) ফরহাদ মশিরির সঙ্গে।’

নাক ভেঙে দেওয়া হয়েছে ইব্রাহিমোভিচের ভাস্কর্যেরসেই আলোচনায় ইব্রাহিমোভিচের নাম থাকলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বয়স ৩৮ পেরিয়ে গেলেও ইউরোপিয়ান ফুটবলে তার প্রত্যাবর্তনের জল্পনাটা ভেসে বেড়াচ্ছে অনেকদিন থেকে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে লস অ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সিতে কাটানো দুই বছরে ৫৬ ম্যাচে ৫২ গোল করে জানান দিয়েছেন, তিনি ‍এখনও ফুরিয়ে যাননি।

সেটা আনচেলত্তিরও খুব ভালো করে জানা। সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তো আছেই। তাই ইব্রাকে তার লিভারপুল ভ্রমণের আমন্ত্রণের মধ্যে ‘কিন্তু’ খুঁজতে যাওয়াটা মোটেও বাড়াবাড়ি নয়। ইব্রাও নিশ্চয়ই দ্রুতই স্টকহোম ছেড়ে ইউরোপের অন্য কোথাও পাড়ি জমাতে চান। তাঁর জন্মশহর মালমো বা সুইডেন তার কাছে আর আপন মনে হচ্ছে না। বারবার তার ভাস্কর্য বিকৃত করে মনটাই ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। এই যেমন দুদিন আগে মালমো স্টেডিয়ামের বাইরে স্থাপিত তার ভাস্কর্যের নাক কেটে বিকৃত করে দিয়েছে দুষ্কৃতিরা।