আগেই দুই দলের নকআউট পর্ব নিশ্চিত ছিল। বসুন্ধরা কিংস এ ম্যাচে তাই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে একাদশে পরিবর্তন এনে। দানিয়েল কলিনদ্রেস, নিকোলাস দেলমন্তে ও জালাল কদুহকে বিশ্রাম দেওয়া হয়। বসুন্ধরাকে কিছুটা খর্ব শক্তির মনে হয়েছে তাদের ছাড়া। তৌহিদুল আলম সবুজ ও ইব্রাহিমরা সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি।
ম্যাচের ঘড়িটা যখন ২৫ মিনিট দেখেছে, তখনই প্রথম গোল। দিদিয়ের-ম্যাথুই-নাসিরুল-রাকিব সমন্বিত চট্টগ্রাম আবাহনী ছিল শ্রেয়তর দল।
চিনেদু ম্যাথিউর ক্রসে চার্লস দিদিয়ের পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হলেও রাকিব হোসেন বক্সে ঢুকেই প্লেসিং করে দলকে এগিয়ে দেন (১-০)। এক গোলে পিছিয়ে থেকেও বসুন্ধরা গোলের সুযোগ পায়। যদিও লাগাতে পারেনি কাজে।
বিরতিতে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে বসুন্ধরা ১০ জনের দলে পরিণত হয়। তাজিক খেলোয়াড় আখতাম নাজারভ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। ১০ জনের দলের বিপক্ষে গোল ব্যবধান বাড়াতে বেশি সময় নেয়নি আবাহনী। যোগ হওয়া সময়ে ডান দিক থেকে নাসিরুল ইসলামের ক্রসে আইভরিয়ান দিদিয়ের হেডে লক্ষ্যভেদ করে দলকে আরও এগিয়ে নেন।
বিরতির পর প্রতিপক্ষের ওপর যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত ছিল, দুই গোলে এগিয়ে থাকা চট্টগ্রামের মধ্যে সেটি দেখা যায়নি। অনেকটা দেখে শুনে খেলেছে। ৭২ মিনিটে বসুন্ধরার হয়ে মাঠে নামেন তপু বর্মণ ও জালাল কদুহ। কিন্তু এই দুজনও ম্যাচের ভাগ্য বদলাতে পারেননি।
বরং আবাহনী দুটি সুযোগ থেকে গোল বঞ্চিত থেকেছে। ৭৫ মিনিটে ব্রাজিলের নিক্সন ব্রিজোলারার শট নুরুল নাইম ফয়সাল গোল হতে দেননি। চার মিনিট পর নাসিরুলের ক্রসে রাকিব হোসেনের হেড গোলকিপার পা দিয়ে রুখে দেন।
গত মৌসুমে দুটি ম্যাচে হেরেছিল বসুন্ধরা কিংস। এবার ফেডারেশন কাপের দ্বিতীয় ম্যাচেই হার দেখলো তারা। ম্যাচ হেরে হতাশ দলের স্প্যানিশ কোচ অস্কার ব্রুজন, ‘আমার দল আজকে মাঠে সেরাটা দিতে পারেনি। আসলে নকআউট পর্বের জন্য মূল একাদশ খেলেনি। আশা করছি নকআউট পর্বে আমরা ভালো খেলবো।’
চট্টগ্রাম আবাহনী কোচ মারুফুল হক গ্রুপ সেরা হয়ে খুশি, ‘গ্রুপ সেরা হয়েছি। এখন শিরোপা জেতার লড়াইয়ে নকআউট পর্বের বাধা পেরোতে চাই।’