আবাহনীকে বিদায় করে দিলো রহমতগঞ্জ

আবাহনীকে হারিয়ে রহমতগঞ্জের উল্লাসপুরো ম্যাচে দাপটে খেললো আবাহনী লিমিটেড। আগে গোলও পেলো। কিন্তু ম্যাচ শেষে তারা পরাজিত দল! রহমতগঞ্জ গোলকিপার রাসেল মাহমুদ লিটনই ছিলেন আবাহনীর পথের বড় কাঁটা। ১২০ মিনিটের ম্যাচে আবাহনীকে একটির বেশি গোল করতে দেননি। বরং ম্যাচ টাইব্রেকারে টেনে নিয়েই তিনি নায়ক! তার অসাধারণ নৈপুণ্যেই রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি উঠে গেলো সেমিফাইনালে। সোমবার (আজ ) পুরোনো ঢাকার দলটি টাইব্রেকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে দিলো বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনীকে। নির্ধারিত সময়ের খেলা ছিল ১-১।

গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচে ৯ গোল করা আবাহনীর পতন হলো নকআউট পর্বে এসেই। টাইব্রেকারে আবাহনীর নাসির উদ্দিন, মোহাম্মদ সোহেল রানা ও নাবীব নেওয়াজ জীবন লক্ষ্যভেদ করেছেন। আর কেরভেন্স বেলফোর্ট ও সানডে চিজোবার শট রুখে দিয়ে রহমতগঞ্জ গোলকিপার লিটন দলকে তুলে দেন জয়ের ভেলায়। রহমতগঞ্জের দিদারুল আলম, তুরায়েভ আখোবির, নাদিম মাহমুদ লিমন ও অ্যাকপপোভ স্পটকিকে গোল করেছেন।

এর আগে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটের খেলায় আবাহনী প্রথম গোল পেলেও তা ধরে রাখতে পারেনি। ৯৪ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান মেলসনের থ্রু থেকে বেলফোর্ট গোল করেন দুর্দান্ত এক ভলিতে।  ১১৯ মিনিটে আবাহনী গোলকিপার শহীদুল আলম সোহেল বলের ফ্লাইট মিস করেন, এনামুল গাজী  হেডে গোল করে রহমতগঞ্জকে রাখেন ম্যাচে (১-১)।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আবাহনী খেলেছে দাপটে। সানডে, জীবন ও বেলফোর্টরা মিলে প্রতিপক্ষের ওপর একের পর আক্রমণ করেছে। কিন্তু সফল হতে পারেননি। কখনও  গোলকিপার লিটন, কখনও রক্ষণভাগ তুলে ধরেছে বাধার দেওয়াল।

নকআউট পর্বে এসে ম্যাচ হেরে আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমোস হতাশ, ‘প্রথমার্ধে আমরা ভালো খেলেছি। দ্বিতীয়ার্ধে সেভাবে খেলতে পারেনি দল। অতিরিক্ত সময়ে গোল পেয়েও ধরে রাখা যায়নি। আর টাইব্রেকার তো ভাগ্য।  সেখানে আমরা ব্যর্থ হয়েছি। এমন হার কাম্য ছিল না।’

তবে এমন ম্যাচে একের বেশি গোল না করার হতাশাও আছে লেমোসের, ‘আমরা অনেক ‍সুযোগ পেয়েছি। গোল আসতে পারতো আরও। কিন্তু আমাদের ফরোয়ার্ডরা একের বেশি গোল করতে পারেনি।  এক গোল পেলেও তা ধরে রাখতে পারলে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়াতো না।’

রহমতগঞ্জের জয়ের নায়ক লিটনের এই ম্যাচ খেলা নিয়ে সংশয় ছিল। অসুস্থতার কারণে অনুশীলনে ছিলেন অনিয়মিত। ম্যাচের আগের দিন শুধু অনুশীলন করেছেন। আর এটা পুঁজি করেই খেলেছেন অসাধারণ। কোচ গোলাম জিলানি জাতীয় দলের সাবেক এই গোলকিপারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ, ‘লিটন দারুণ খেলেছে। যদিও তার খেলা নিয়ে সংশয় ছিল। আসলে শুধু লিটন নয়, পুরো দলই ভালো খেলেছে। আমাদের হারানোর কিছু ছিল না। ডু অর ডাই ম্যাচে প্রত্যাশা নিয়েই খেলেছে সবাই। এক মৌসুম পর সেমিফাইনালে উঠে বেশ ভালো লাগছে। সামনের দিকে আরও ভালো খেলতে চাই।’