এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ কার? নেইমার বলছেন...

নেইমারইউরোর ঝনঝনানিতে দলবদলের ছবিই পাল্টে দিয়েছে প্যারিস সেন্ত জার্মেই। ঘরোয়া শিরোপা ‘ডালভাত’ হয়ে গেছে, কাতারি ধনকুবেরের মালিকানাধীন ক্লাবটির সাফল্য চাই ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায়। এজন্য বিশ্বের নামিদামি খেলোয়াড়দের দলে ভিড়িয়ে মৌসুমের পর মৌসুম চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হায়, চ্যাম্পিয়নস লিগের সাফল্যের দরজা কিছুতেই খুলছে না! যার আগমনে আশার বেলুন ফুলেফেঁপে উঠেছিল, সেই নেইমারও এ পর্যন্ত ব্যর্থ। তবে এবার শিরোপা-স্বপ্ন যেন একটু বেশিই উঁকি দিয়ে যাচ্ছে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের মনে।

রিয়াল মাদ্রিদকে টপকে ‘এ’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছে পিএসজি। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মুখোমুখি তারা বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের। গ্রুপের লড়াইয়ে কোনও ম্যাচ না হেরে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করার পথে প্রতিপক্ষের জালে ১৭ গোল জড়ানোর বিপরীতে টমাস টুখেলের দল খেয়েছে মাত্র ২ গোল। তা ছাড়া ফরোয়ার্ডে মাউরো ইকার্দিকে যোগ করে আক্রমণভাগ করেছে আরও ভয়ঙ্কর।

২০১৭ সালে রেকর্ড ২২২ মিলিয়ন ইউরোতে বার্সেলোনা থেকে পিএসজিতে যোগ দেন নেইমার। কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ ক্লাবটির দায়িত্ব নেওয়ার ছয় বছর পর তার আগমন। গত দুই মৌসুম চেষ্টা চালিয়েও ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় পিএসজি এখনও পেছনের বেঞ্চের ছাত্র। যদিও এবারের দলটি অতীত ইতিহাস পাল্টে দেওয়া সামর্থ্য রাখে বলে মনে করছেন নেইমার।

তাহলে কি এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের দৌড়ে থাকছে পিএসজি? রেড বুল-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেইমারের জবাব, ‘হ্যাঁ, আমার মনে হয় এবার আমাদের সুযোগ আছে (চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতার)।’ কেন, সেই ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা, ‘আমি পিএসজিতে আসার পর থেকে যে দল ও খেলোয়াড় পেয়েছি, তার মধ্যে এবার আমরা সবচেয়ে ভালোভাবে প্রস্তুত। আমার মতে সবচেয়ে শক্তিশালী বছরও এটা। তাই আমার মনে হয়, আমাদের সুযোগ আছে।’

কাতারি মালিকানায় ঘরোয়া ফুটবলে নিয়মিত সাফল্য আসছে পিএসজির। যদিও চ্যাম্পিয়নস লিগে শিরোপা দূরে থাক, কখনও সেমিফাইনালেও ওঠা হয়নি তাদের। বিষয়টি নেইমারের খুব ভালো করে জানা, আপাতত লক্ষ্য স্থির করছেন, ‘পিএসজি কখনও চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতেনি, এবার আমরা শিরোপার জন্য লড়বো। আমরা নিজেদের মূল্য সম্পর্কে জানি, আশা করছি ফাইনালে খেলব।’

সেটা হলে, ২০২০ সাল হবে পিএসজির বছর। সঙ্গে নেইমারেরও। ২০১৯ সাল ভুলেই যেতে চাইবেন সাবেক বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। মাঠ ও বাইরের ব্যক্তিগত জীবনে ছড়িয়ে ছিল বিষাদময় সব মুহূর্ত। চোটে বারবার মাঠের বাইরে ছিটকে যাওয়া, ধর্ষণের অভিযোগ কিংবা বার্সেলোনায় ফেরার আগ্রহে পিএসজি সমর্থকদের দুয়ো— সব মিলিয়ে ২০১৯ সাল নেইমারের কাছে ‘কঠিন বছর’।

ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম গ্লোবোস্পোর্তে’কে কষ্টের এই অধ্যায় ভাগাভাগি করেছেন তিনি এভাবে, ‘চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরছি তো, আবার চোটে পড়ছি। সবকিছু মিলিয়ে এটা ছিল বাজে বছর। এটা ছিল পরিপূর্ণ শিক্ষার ও অনেক অভিজ্ঞতা অর্জনের বছর। এখান থেকে আমি ইতিবাচক বিষয়ই নিয়েছি, যা দিয়ে ২০২০ সালে ভালো করা যায়।’

নতুন বছরে এখনও মাঠে নামা হয়নি নেইমারের। আজ রাতেই অবশ্য ফরাসি লিগ কাপে সেন্ত-এতিয়েঁকে আতিথ্য দেবে পিএসজি। আগের বছরের ‘শিক্ষা’ নিয়ে ২০২০ সালের অভিযান হয়তো এখান থেকেই শুরু হচ্ছে ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের।